বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১৩তম সংসদ নির্বাচনের প্রচার কাজ এক দিনের মধ্যে সাতটি সমাবেশে উপস্থিত হয়ে শুরু করবেন। প্রথম সমাবেশটি সিলেটের চৌহাট্টা এলাকায় আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বিকেল ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে তিনি নির্বাচনের সূচনা ঘোষণা করবেন। তারেকের সিলেট সফরটি রাত ৮:১৫টায় বিমান দিয়ে দেশে পৌঁছানোর পর, হযরত শাহজালাল ও হযরত শাহপরাণের মাজারে জিয়ারত করার পরের দিন সকালেই শুরু হবে।
গুলশানের দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে দলের মুখপাত্র তারেকের সফরের বিস্তারিত জানানো হয়। তিনি বিমান দিয়ে সিলেটে পৌঁছানোর পর, প্রথমেই শহরের প্রধান মসজিদ ও মাজারে দোয়া করবেন এবং এরপর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জনসভার মাধ্যমে নির্বাচনী বার্তা পৌঁছে দেবেন। সমাবেশ শেষ করার পর, তিনি সড়কপথে ঢাকা ফিরে আসবেন, পথে দুইটি পৃথক জনসভায় বক্তব্য রাখবেন।
প্রথম রোড ট্রিপে তিনি মৌলভীবাজারের শেরপুর উপজেলায় একটি সমাবেশে অংশ নেবেন, এরপর হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে আরেকটি সমাবেশে উপস্থিত হবেন। উভয় সমাবেশেই তিনি ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে বিএনপির নির্বাচনী পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করবেন। সমাবেশের আগে, সকাল ১০টায় গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে অরাজনৈতিক তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময় সেশন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করবেন।
সিলেট থেকে বেরিয়ে আসার পথে তারেকের রুটে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ থামা রয়েছে। কিশোরগঞ্জের ভৈরব স্টেডিয়ামে তিনি একটি সমাবেশে অংশ নেবেন, যেখানে স্থানীয় যুবক-যুবতীরা তার উপস্থিতি স্বাগত জানাবে। এরপর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া খেলার মাঠে একটি সমাবেশ হবে, যেখানে তিনি গ্রামীণ ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন। নরসিংদীর পৌর এলাকা সংলগ্ন এলাকায় এবং নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার রুপগঞ্জ গাউসিয়ায়ও সমাবেশের পরিকল্পনা রয়েছে।
সমস্ত সমাবেশে অংশগ্রহণের পর, রাতের দিকে তারেক গুলশানের দলীয় বাড়িতে ফিরে আসবেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানে বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, এবং এই ঐতিহাসিক সংগ্রামের স্মরণে তিনি প্রতিটি সফরে বিভিন্ন সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সফর সঙ্গী হিসেবে নিয়ে যাবেন।
তারেকের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার দীর্ঘ এবং বৈচিত্র্যময়। তিনি প্রায় সতেরো বছর যুক্তরাজ্যের লন্ডনে নির্বাসিত ছিলেন এবং ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে আসেন, যা তার দীর্ঘ সময়ের পরের প্রথম ভ্রমণ। ফিরে আসার পর, তিনি সিলেট ও ঢাকা উভয় শহরে সমাবেশের মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে চান। তারেকের এই এক দিনের সফরটি নির্বাচনী প্রচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা তার দলের ভোটার ভিত্তি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে পরিকল্পিত।
বিএনপি দলীয় কর্মকর্তারা জানান, তারেকের এই সফরটি শুধুমাত্র সিলেটের নয়, বরং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সমাবেশের মাধ্যমে সমন্বিত প্রচার চালানোর একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। সমাবেশের সময় তিনি দেশের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করবেন। এছাড়া, তিনি দেশের বিভিন্ন স্বতন্ত্র সংগঠন ও সমিতির সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের মাধ্যমে সমর্থন জোগাড়ের পরিকল্পনা করেছেন।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, সরকারী দল এই প্রচার সফরকে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ানোর একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে। তবে, এখন পর্যন্ত কোনো সরকারী পক্ষ থেকে সরাসরি মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, এক দিনে সাতটি সমাবেশে উপস্থিতি তারেকের দলকে ভোটারদের কাছে দৃঢ় উপস্থিতি প্রদর্শনের সুযোগ দেবে এবং নির্বাচনের পূর্বে রাজনৈতিক গতিবিধি ত্বরান্বিত করবে। ভবিষ্যতে, এই ধরনের ঘন ঘন সমাবেশের ধারাবাহিকতা নির্বাচনী ফলাফলে কী প্রভাব ফেলবে তা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে থাকবে।
সিলেটের জনসভা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারেকের রোড ট্রিপ শুরু হবে, এবং তিনি ঢাকা ফিরে এসে পরবর্তী রাজনৈতিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেবেন। এই এক দিনের প্রচার সফরটি তারেকের নেতৃত্বে বিএনপির নির্বাচনী কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।



