জনশাসন মন্ত্রণালয় বুধবার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে জানায় যে, খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আবুল হাছানাত হুমায়ূন কবিরকে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক পদে বদলি করা হয়েছে। এই পদবিন্যাসের মাধ্যমে তার বর্তমান দায়িত্ব প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তরিত হবে।
আবুল হাছানাত হুমায়ূন কবিরকে গত বছর ২৫ ফেব্রুয়ারি খাদ্য অধিদফতরের ডিজি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তার পূর্বে তিনি সরকারি যানবাহন অধিদফতরের পরিবহন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, যেখানে তিনি সরকারি গাড়ি ও রথের ব্যবস্থাপনা তত্ত্বাবধান করতেন।
প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, নতুন নিয়োগের ফলে বিএমইটির নেতৃত্বে অভিজ্ঞ প্রশাসনিক দক্ষতা যুক্ত হবে এবং একইসঙ্গে খাদ্য অধিদফতরের শূন্য পদটি অন্য কোনো উপযুক্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে পূরণ করা হবে। বদলির কার্যকরী তারিখ ও শর্তাবলী প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, তবে সুনির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ করা হয়নি।
বিএমইটি, যা দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রশিক্ষণ নীতিমালা বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে, এখন নতুন মহাপরিচালকের নেতৃত্বে কাজ শুরু করবে। সরকার এই পদবিন্যাসকে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও কর্মসংস্থান নীতি সমন্বয়ের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
বিপক্ষের কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক এই বদলিকে সরকারের মানবসম্পদ পুনর্গঠন ও দক্ষতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখছেন। তারা উল্লেখ করেন যে, অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকে নতুন দায়িত্বে স্থাপন করা প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। তবে একই সঙ্গে কিছু বিরোধী দলের প্রতিনিধি এই পদবিন্যাসের স্বচ্ছতা ও প্রক্রিয়ার যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, যদিও তারা স্পষ্ট কোনো মন্তব্য দেননি।
আবুল হাছানাতের ক্যারিয়ারকে নজরে রেখে দেখা যায়, তিনি সরকারি সেবা ক্ষেত্রে বহু বছর কাজ করেছেন এবং বিভিন্ন বিভাগে নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তার পূর্ববর্তী দায়িত্বগুলোতে তিনি যানবাহন ব্যবস্থাপনা, খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলা এবং এখন মানবসম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে পরিচিত। এই বহুমুখী অভিজ্ঞতা তাকে বিএমইটির জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় উপযুক্ত প্রার্থী করে তুলেছে।
প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকার এই পদবিন্যাসের সঙ্গে সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও হুমায়ূন কবিরের কাছে হস্তান্তর করেছে। এই মন্ত্রণালয় দেশের বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের কল্যাণ, কর্মসংস্থান সুযোগ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান নীতি নির্ধারণে কাজ করে। তাই নতুন দায়িত্বে তিনি আন্তর্জাতিক শ্রম বাজারের সঙ্গে সমন্বয় ও নীতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এই বদলির ফলে খাদ্য অধিদফতরে শূন্য পদটি পূরণে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলে সূত্র পাওয়া গেছে, যদিও নতুন নিয়োগের নাম এখনও প্রকাশিত হয়নি। খাদ্য অধিদফতর দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, সরবরাহ শৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে খাদ্য বিতরণ নিশ্চিত করার মূল দায়িত্বে রয়েছে। তাই এই শূন্যতা দ্রুত পূরণ করা প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সামগ্রিকভাবে, এই পদবিন্যাস সরকারী মানবসম্পদ নীতি ও কর্মসংস্থান কৌশলের একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন মহাপরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণের পর বিএমইটি কীভাবে তার লক্ষ্য অর্জনে অগ্রসর হবে, তা পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে, খাদ্য অধিদফতরের নেতৃত্বে পরিবর্তন কীভাবে খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলা ও নীতি বাস্তবায়নে প্রভাব ফেলবে, তা নজরে থাকবে।
এই পদবিন্যাসের পরবর্তী ধাপ হিসেবে সরকার সম্ভবত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াবে এবং নতুন দায়িত্বে নিযুক্ত কর্মকর্তাদের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের জন্য একটি সমন্বিত সভা আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে। এধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন দেশের প্রশাসনিক কার্যকারিতা ও নীতি বাস্তবায়নে কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে।



