ইসরায়েলি সশস্ত্র বাহিনী বেতেহেম শহরের আইদা যুবকেন্দ্রের ফুটবল মাঠ ধ্বংসের কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। পশ্চিম তীরের এই ছোট মাঠটি অনুমোদনবিহীনভাবে নির্মিত বলে নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে ধ্বংসের আদেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও মানবাধিকার সংস্থার চাপের ফলে পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের মতে, মাঠটি নিরাপত্তা গড়ের খুব কাছাকাছি অবস্থিত এবং তাই তা নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। এই কারণেই তারা ধ্বংসের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছে। যদিও এই যুক্তি প্রকাশ করা হয়েছে, মাঠের মালিক ও ব্যবহারকারীরা এখনও কোনো সরকারি নোটিশ পায়নি বলে জানিয়েছে।
মাঠের আকার পূর্ণ ফুটবল মাঠের এক দশমাংশের সমান, গোলপোস্টে মরিচা জমে আছে এবং এক প্রান্তে ইসরায়েলি কংক্রিট নিরাপত্তা গড়ের ছায়া দেখা যায়। যদিও এটি কোনো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ক্রীড়া স্থাপনা নয়, তবে স্থানীয় শিশুদের জন্য এটি একমাত্র প্রশিক্ষণস্থল।
মাঠের ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য একটি আন্তর্জাতিক ক্যাম্পেইন চালু হয়, যার মধ্যে অর্ধ মিলিয়নেরও বেশি স্বাক্ষরের পিটিশন অন্তর্ভুক্ত। এই ব্যাপক সমর্থন ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষকে পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে, যদিও ক্লাবের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশের তথ্য পাওয়া যায়নি।
আইদা যুবকেন্দ্রের ফুটবল মাঠের নির্মাণ ২০২০ সালে শুরু হয়, মূল উদ্দেশ্য ছিল কাছাকাছি আইদা শরণার্থী শিবিরের ২০০ টিরও বেশি তরুণ খেলোয়াড়কে প্রশিক্ষণের সুযোগ প্রদান করা। এই শিবিরের বাসিন্দারা ১৯৪৮ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর তাদের বাড়ি ছেড়ে যাওয়া বা জোরপূর্বক বহিষ্কৃত পরিবারের বংশধর।
গত বছর ৩ নভেম্বর, শিশুরা শিবির থেকে মাঠে পৌঁছে প্রশিক্ষণ নিতে গিয়ে একটি নোটিশ দেখেছে, যেখানে মাঠটি অবৈধ বলে উল্লেখ করা ছিল। এই নোটিশের পরই ডিসেম্বরের শেষের দিকে ধ্বংসের আদেশ জারি করা হয়।
মাঠে প্রশিক্ষণরত ১০ বছর বয়সী একটি মেয়ে, নায়া, বলেছে যে তাদের আর কোথাও খেলার জায়গা নেই এবং সে ব্রাজিলের নেমার নামের শার্ট পরা অবস্থায় এই কথা শেয়ার করেছে। তার মতামত স্থানীয় সম্প্রদায়ের উদ্বেগকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
এই ঘটনা পশ্চিম তীরের নাগরিক অবকাঠামোর ওপর ইসরায়েলি নিরাপত্তা নীতির প্রভাবকে পুনরায় আলোচনার মুখে এনেছে। অতীতেও অনুরূপ ক্ষেত্রে নিরাপত্তা গড়ের নিকটবর্তী নির্মাণকে লক্ষ্য করে ধ্বংসের আদেশ জারি করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে বিতর্কের বিষয়।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এমন সিদ্ধান্তগুলো কেবল স্থানীয় শিশুদের ক্রীড়া সুযোগই সীমিত করে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে অঞ্চলের সামাজিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই ভবিষ্যতে আইনি প্রক্রিয়া বা আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা সম্ভব হতে পারে।
ইসরায়েলি সামরিক কর্তৃপক্ষ বর্তমানে এই স্থগিতকরণে কীভাবে অগ্রসর হবে তা নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। যদি পুনরায় ধ্বংসের আদেশ জারি করা হয়, তবে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি আইনি প্রতিবাদ করতে পারে। অন্যদিকে, যদি স্থায়ীভাবে পরিকল্পনা বাতিল হয়, তবে এটি শিশুরা ও তাদের পরিবারকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া স্থান প্রদান করবে।
বেতেহেমের এই ছোট মাঠের ভবিষ্যৎ এখন ইসরায়েলি নিরাপত্তা নীতি, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চাপে এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের চাহিদার সংযোগস্থলে নির্ভরশীল। এই বিষয়টি অঞ্চলের সামগ্রিক কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি সূক্ষ্ম দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে মানবিক চাহিদা ও নিরাপত্তা উদ্বেগের সমন্বয় প্রয়োজন।
অবশেষে, আইদা যুবকেন্দ্রের ফুটবল মাঠের স্থগিতকরণ ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি সংঘাতের একটি ক্ষুদ্র কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ দিককে উন্মোচিত করে। এটি দেখায় যে আন্তর্জাতিক নাগরিক সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ কীভাবে স্থানীয় নীতি পরিবর্তনে প্রভাব ফেলতে পারে, এবং একই সঙ্গে ভবিষ্যতে অনুরূপ পরিস্থিতিতে কীভাবে সমাধান খোঁজা যেতে পারে।



