জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) অনুযায়ী, যেসব ব্যক্তি আয়কর রেজিস্ট্রেশন পেয়েছেন, তাদের প্রত্যেক আর্থিক বছরের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক। আইনগতভাবে ৩০ নভেম্বরকে ‘ট্যাক্স ডে’ হিসেবে নির্ধারিত হলেও, সরকারী অনুমোদনের ভিত্তিতে এনবিআর প্রায়শই সময়সীমা বাড়িয়ে দেয়।
বর্ধিত সময়সীমা ঘোষিত হলে, করদাতাদের নতুন শেষ তারিখের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে হবে; অন্যথায়, আইন অনুযায়ী নির্ধারিত মূল সময়সীমা মানতে হবে। আয়কর আইন ২০২৩-এর ধারা ১৬৬-এ বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তির আয় করমুক্ত সীমা অতিক্রম করে অথবা পূর্বের তিন বছরের মধ্যে কোনো বছরেই তার ওপর কর আরোপিত হয়ে থাকে, তবে তাকে রিটার্ন দাখিল করতে হবে।
এছাড়া, কোম্পানি বা ফার্মের মালিক, অংশীদার, পরিচালক, ব্যবস্থাপক, শেয়ারহোল্ডার, সরকারি কর্মচারী এবং বাংলাদেশের মধ্যে স্থায়ী উপস্থিতি থাকা অ-নিবাসী ব্যক্তিরাও রিটার্ন দাখিলের দায়িত্বে আছেন। বিশেষ করমুক্তি, হ্রাসকৃত করহার, রেজিস্ট্রেশন প্রয়োজনীয়তা বা রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ জমা দিতে বাধ্যতামূলক এমন সব ক্ষেত্রেই রিটার্ন জমা দিতে হবে।
প্রায়শই দেখা যায়, কাজের চাপ, অবহেলা বা নজরদারির ঘাটতির কারণে অনেক করদাতা সময়মতো রিটার্ন দাখিল করতে ব্যর্থ হন। তবে আয়কর আইন ২০২৩ স্পষ্টভাবে এই বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করে। ধারা ১৭৪ অনুযায়ী, নির্ধারিত তারিখের আগে রিটার্ন না দিলে বিশেষ মূল্যায়ন পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়।
এই পদ্ধতিতে, দেরি করে দাখিল করলে যেন নির্ধারিত তারিখে দাখিল করা হয়েছে, সেই ভিত্তিতে করের পরিমাণ নির্ধারিত হয়; তবে এতে কোনো ছাড়, ন্যূনতম কর, সর্চার্জ, সুদ বা জরিমানা অন্তর্ভুক্ত করা হয় না, শুধুমাত্র অনুমোদিত করমুক্তি বাদে। এরপর, সংশ্লিষ্ট আর্থিক বছরের অগ্রিম কর এবং উৎসে কাটা কর (টিডিএস) এই মোট থেকে বাদ দেওয়া হয়।
বাকি অবশিষ্ট করের উপর অতিরিক্ত ২ শতাংশ হারে অতিরিক্ত কর আরোপিত হয়, যা দেরি করা রিটার্নের জন্য আর্থিক বোঝা বাড়িয়ে দেয়। এই অতিরিক্ত করের পাশাপাশি, আইন অনুযায়ী সুদ ও জরিমানা আরোপের সম্ভাবনা থাকে, যদিও সুনির্দিষ্ট হার এখানে উল্লেখ করা হয়নি।
বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে, দেরি করে রিটার্ন দাখিল করা কোম্পানিগুলোর নগদ প্রবাহে চাপ সৃষ্টি করে এবং সম্মতি ব্যয়ের বৃদ্ধি ঘটায়। সরকারী আয় পূর্বাভাসের সঠিকতা কমে যাওয়ায় বাজেট পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা বাড়ে।
ডিজিটাল ফাইলিং ও স্বয়ংক্রিয় কর ব্যবস্থার গ্রহণ বাড়ার ফলে, এনবিআর ভবিষ্যতে আরও কঠোর সময়সীমা প্রয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। করদাতাদের জন্য সময়মতো রিটার্ন দাখিলের অভ্যাস গড়ে তোলা এবং ইলেকট্রনিক সিস্টেমের ব্যবহার বাড়ানো জরুরি।
অনুপালন না করলে উচ্চ জরিমানা, আইনি বিরোধ এবং কোম্পানির ক্রেডিট রেটিংয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে পাবলিক সেক্টর ও বহুজাতিক সংস্থাগুলোর জন্য এই ঝুঁকি আর্থিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
ভবিষ্যতে, এনবিআর সময়সীমা বাড়ানোর ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা ও পূর্বাভাসযোগ্যতা আনতে পারে, তবে করদাতাদের জন্য সর্বদা মূল সময়সীমা মেনে চলা নিরাপদ কৌশল হিসেবে রয়ে যাবে। তাই, রেজিস্ট্রেশনধারীদের উচিত সরকারী বিজ্ঞপ্তি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা এবং রিটার্ন দাখিলের প্রস্তুতি আগাম শুরু করা।
সংক্ষেপে, আয়কর রেজিস্ট্রেশনধারীদের জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করা আইনগত বাধ্যবাধকতা, আর দেরি করলে অতিরিক্ত কর, সুদ ও জরিমানা সহ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। সময়মতো দাখিলের মাধ্যমে ব্যবসা ও বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব।



