খাদ্য ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার কুষ্টিয়া কালেক্টরেটের চত্বরে অনুষ্ঠিত গণভোট প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ সভায় জানালেন, নির্বাচনের সময় কোনো ব্যাঘাত ঘটতে না দেওয়ার জন্য সরকার সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেবে। তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি সিভিল পাওয়ার আর্মি, বাংলাদেশ গার্ড এবং আনসারকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে বলা হয়েছে।
সিকিউরিটি ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে একত্রে কাজ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে পুলিশ, সিভিল পাওয়ার আর্মি, বি.জি.বি ও আনসারসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয় অন্তর্ভুক্ত, যা ভোটারদের নিরাপদে ভোটদান নিশ্চিত করবে। নিরাপত্তা পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্বাচনের আগে ও সময়ে সম্ভাব্য হুমকি সনাক্ত করে তা মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অপরাধী বা অশান্তিকর ব্যক্তিরা যদি চিহ্নিত হয়, তবে পুলিশকে পূর্বেই গ্রেফতার করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যাঘাত না ঘটার নিশ্চয়তা দেওয়া হবে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই ঘোষণা ভোটারদের মধ্যে আস্থা জোগাতে এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
সভায় উপস্থিত কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন সভার সভাপতিত্ব করেন। তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকর বাস্তবায়ন ও ভোটারদের অংশগ্রহণে উৎসাহিত করার দায়িত্বে আছেন। এছাড়া, পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিনও উপস্থিত থেকে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সম্পর্কে বিশদে ব্যাখ্যা করেন।
আলী ইমাম মজুমদার অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালে দেশের কিছু অংশে গণঅভ্যুত্থান ঘটেছিল, যা দেশের স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে, বর্তমান নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু রাখতে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও শাসনব্যবস্থা সুদৃঢ় করতে সকল স্তরে সমন্বিত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।
এ জন্য সরকার বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি কমিশন গঠন করেছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই কমিশন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সুপারিশ প্রদান করবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতায় গৃহীত এই পদক্ষেপগুলো দেশের সামগ্রিক শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।
স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে ভোটাররা ভয় বা হুমকির মুখে না পড়ে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারে। নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশনা স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে, এবং প্রয়োজনীয় সম্পদ ও কর্মী সরবরাহ করা হবে। এভাবে ভোটারদের অংশগ্রহণে বাধা না দিয়ে নির্বাচনের বৈধতা নিশ্চিত করা হবে।
সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকর বাস্তবায়ন এবং ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কার্যক্রমের পরিকল্পনা শেয়ার করেন। তারা জোর দেন, নির্বাচনের সময় কোনো অবৈধ কার্যকলাপ না ঘটতে তদারকি করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা প্রত্যাশা করছেন, নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই দৃঢ় পদক্ষেপগুলো নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলবে এবং দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে। সরকার যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করে, তবে ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং নির্বাচনের ফলাফল স্বচ্ছ ও বৈধ হবে।



