জুলাই ২০২৪-এ দেশের বিভিন্ন থানা থেকে চুরি হওয়া ৩,৬১৯টি অস্ত্রের মধ্যে ২,২৫৯টি পুনরুদ্ধার হয়েছে, যা মোটের ৬২.৪ শতাংশ। একই সময়ে ৪,৫৬৪,১৮০টি গোলাবারুদ চুরি হয়, যার মধ্যে ২,৩৭,১০০টি, অর্থাৎ ৫২ শতাংশ, পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। এই তথ্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ্জামান আজ উচ্চ পর্যায়ের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কিত বৈঠকে উপস্থাপন করেন।
বৈঠকটি প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুসের অফিসে অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মো. ফৌজুল কবির খান, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আবদুল হাফিজ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খালিলুর রহমান, পাশাপাশি নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধান উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে নিরাপত্তা পরিস্থিতি, অস্ত্র পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া এবং নির্বাচনের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সমন্বিত পদক্ষেপের আলোচনা হয়। পুনরুদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের তালিকা, সংরক্ষণ এবং পুনর্বণ্টন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়।
পুনরুদ্ধারকৃত ২,২৫৯টি অস্ত্রের বেশিরভাগই স্বল্প দূরত্বের বন্দুক ও হ্যান্ডগান, যা থানা ও নিরাপত্তা গার্ডের সঞ্চয়স্থল থেকে হারিয়ে গিয়েছিল। পুনরুদ্ধারকৃত গোলাবারুদ প্রধানত রাইফেল ও পিস্তলের জন্য ব্যবহৃত ক্যালিবারের।
অবশিষ্ট ১,৩৬০টি অস্ত্র ও ২,১৯,০৮০টি গোলাবারুদ এখনও অনুসন্ধানাধীন। নিরাপত্তা বাহিনী চুরি হওয়া সামগ্রীর সনাক্তকরণ ও পুনরুদ্ধারের জন্য বিশেষ দল গঠন করেছে এবং তথ্য সংগ্রহে সক্রিয়।
নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ও সামরিক বাহিনীর সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে। পুনরুদ্ধারকৃত সামগ্রী নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করে ভবিষ্যতে কোনো অননুমোদিত ব্যবহার রোধ করা হবে।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গৃহীত পদক্ষেপের মধ্যে থানা নিরাপত্তা জোরদার করা, অস্ত্র সঞ্চয়স্থল পরিদর্শন এবং স্থানীয় পুলিশ ও সামরিক ইউনিটের মধ্যে তথ্য ভাগাভাগি অন্তর্ভুক্ত। এসব ব্যবস্থা নির্বাচনের সময় কোনো অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার রোধে লক্ষ্য রাখে।
সরকার নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বিত কাজের ওপর জোর দিচ্ছে। পুনরুদ্ধারকৃত অস্ত্রের পরিমাণ ও শতাংশের তথ্য জনসাধারণের কাছে প্রকাশের মাধ্যমে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।



