১৩তম জাতীয় নির্বাচনের এক মাস বাকি থাকায় ৮ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বদলি করা হয়েছে। বদলির আদেশ মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে কোনো কারণ উল্লেখ না করা সত্ত্বেও এই পদক্ষেপের ওপর প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বরগুনা জেলার পাথরঘাটা ইউএনও ইশরাত জাহানকে ভোলার চরফ্যাশনে, চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর আল-আমীনকে ফরিদপুরের নগরকান্দায়, পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া রেহেনা আক্তারকে বগুড়ার ধুনটে এবং হবিগঞ্জের বাহুবল লিটন চন্দ্র দেককে চুয়াডাঙ্গা জীবননগরে বদলি করা হয়েছে।
এছাড়া বগুড়ার ধুনটে প্রীতিলতা বর্মনকে হবিগঞ্জের বাহুবলে, নগরকান্দার মেহরাজ শারবিনকে নেত্রকোনার কলমাকান্দায়, কলমাকান্দার মাসুদুর রহমানকে ভান্ডারিয়ায় এবং চরফ্যাশনের লোকমান হোসেনকে পাথরঘাটায় পাঠানো হয়েছে। বদলিপ্রাপ্ত সকল কর্মকর্তাকে আগামী বুধবারের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে।
বদলির পটভূমিতে সাম্প্রতিক একটি বিরোধ উল্লেখযোগ্য। নেত্রকোনার কলমাকান্দায় আদালত পরিচালনার সময় ইউএনও মাসুদুর রহমানের সঙ্গে লেঙ্গুরা ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমানের মধ্যে ঝগড়া হয়। এই ঘটনার পর সাইদুর রহমানকে ১৮ জানুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগ এক চিঠির মাধ্যমে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। দুই দিন পর মাসুদুর রহমানকেও বদলি করা হয়।
অভিযোগের দিক থেকে পাথরঘাটার ইউএনও ইশরাত জাহানের বিরুদ্ধে ৩০ ডিসেম্বর অবহেলা ও প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে বিএনপি দাবি জানায়। বিএনপি বরগুনা-২ আসনের ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি ইশরাতের কাজকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত বলে অভিযোগ করে, যা তার মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দেয়। এরপর ইশরাতের অপসারণের দাবি নিয়ে প্রতিবাদ এবং সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
অন্যদিকে ভান্ডারিয়ার ইউএনও রেহেনা আক্তারকে ১৫ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ করা হয়, যেখানে তিনি ভোটারদের ‘না’ ভোট দিতে উৎসাহিত করার অভিযোগে অভিযুক্ত হন। এই অভিযোগের পরেও মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান যে, অভিযোগ উঠলেও আটজন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার পদবী পরিবর্তন করা হয়েছে।
বদলির ফলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বদলিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা একই জেলা বা নিকটবর্তী উপজেলায় নতুন দায়িত্ব পালন করবেন, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলো ইতিমধ্যে এই পদক্ষেপকে নির্বাচনী হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এখনো কোনো ব্যাখ্যা না পাওয়া সত্ত্বেও, বদলির সময়সূচি ও নতুন দায়িত্বের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের নতুন দায়িত্বে দ্রুত অভ্যস্ত হওয়া এবং নির্বাচনী কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এই বদলির পরবর্তী ধাপ হিসেবে মন্ত্রণালয় সম্ভবত অতিরিক্ত নির্দেশনা জারি করবে, যাতে নির্বাচনী সময়ে প্রশাসনিক কার্যক্রমে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে। একই সঙ্গে, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের অভিযোগের সমাধানের জন্য আইনি ও রাজনৈতিক চ্যানেল ব্যবহার করতে পারে।
জাতীয় নির্বাচনের নিকটবর্তী সময়ে এই ধরনের প্রশাসনিক পরিবর্তন নির্বাচন প্রক্রিয়ার ন্যায়পরায়ণতা ও স্বচ্ছতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, তাই সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের জন্য সতর্কতা ও সমন্বয় প্রয়োজন।



