সান্ডান্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ২৫ জানুয়ারি বিশ্বসিনেমা ডকুমেন্টারি প্রতিযোগিতায় আইরিশ পরিচালক সিনেড ও’শার নতুন ডকুমেন্টারি ‘অল অ্যাবাউট দ্য মানি’ প্রথমবারের মতো প্রদর্শিত হয়েছে। এই চলচ্চিত্রটি ধনী কক্স পরিবারের সদস্য জেমস কোক্স চেম্বার্স, যাকে ফার্গি চেম্বার্স নামেও চেনা যায়, তার অদ্ভুত রাজনৈতিক পথচলা অনুসরণ করে।
ডকুমেন্টারিটি ফার্গি চেম্বার্সের জীবনের মূল মুহূর্তগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে, যেখানে তিনি ক্যাপিটালিস্ট সমাজের ভেতরে বেড়ে ওঠা সত্ত্বেও মার্শালিস্ট-লেনিনিস্ট মতাদর্শে আকৃষ্ট হয়ে একটি গ্রামীণ ম্যাসাচুসেটসের সমষ্টিতে বিপ্লবী ভিত্তি গড়ে তোলেন। চলচ্চিত্রটি তার এই রূপান্তরের পেছনের মানসিক ও সামাজিক প্রেরণাকে বিশ্লেষণ করে।
সিনেড ও’শা, যিনি পূর্বে ‘ব্লু রোড: দ্য এডনা ও’ব্রায়েন স্টোরি’ এবং ‘প্রে ফর আওয়ার সিনার্স’ মতো কাজের জন্য পরিচিত, এই প্রকল্পে লেখক, পরিচালক এবং প্রযোজক হিসেবে কাজ করেছেন। তার সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি চলচ্চিত্রকে একধরনের সামাজিক গবেষণায় রূপান্তরিত করেছে, যেখানে সম্পদের প্রভাব ও তার সীমাবদ্ধতা নিয়ে গভীর আলোচনা করা হয়েছে।
ফার্গি চেম্বার্সের বংশধর জেমস এম. কক্স, যিনি ১৯২০ সালে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রেসিডেন্টীয় প্রার্থী এবং ওহাইওর প্রাক্তন গভর্নর ছিলেন, তার নাতি। কক্স পরিবার যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ধনী পরিবার, যার মূলধন কক্স এন্টারপ্রাইজেসের মাধ্যমে টেলিকমিউনিকেশন, মিডিয়া এবং অন্যান্য খাতে বিস্তৃত।
কক্স এন্টারপ্রাইজেসের মূলধনধারী হিসেবে ফার্গি চেম্বার্সের আর্থিক সম্পদ বিশাল, তবে তিনি এই সম্পদকে ব্যবহার করে নিজের রাজনৈতিক আদর্শকে বাস্তবায়নের চেষ্টা করেন। তার পরিবারিক সম্পদের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গির বিরোধই চলচ্চিত্রের কেন্দ্রীয় বিষয়।
ম্যাসাচুসেটসের এক দূরবর্তী গ্রামে তিনি একটি মার্শালিস্ট-লেনিনিস্ট সমষ্টি প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মিলিত হয়ে তিনি সমাজের কাঠামো পরিবর্তনের লক্ষ্যে কাজ করেন। এই সমষ্টি চেম্বার্সের তহবিলের সমর্থনে পরিচালিত হয় এবং তার রাজনৈতিক লক্ষ্যকে বাস্তবায়নের মঞ্চ হয়ে ওঠে।
চেম্বার্সের এই উদ্যোগের মধ্যে তিনি পরিবারিক ব্যবসা থেকে তার শেয়ার বিক্রি করে সম্পূর্ণভাবে স্বাধীনতা অর্জনের সিদ্ধান্ত নেন। শেয়ার বিক্রির পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে চলে যান, যেখানে তিনি তার রাজনৈতিক চিন্তাধারা এবং অর্থের ভূমিকা নিয়ে আরও আলোচনা করেন।
ডকুমেন্টারিটি চেম্বার্সের এই পরিবর্তনশীল যাত্রাকে একটি বৃহত্তর সামাজিক প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত করে: সম্পদ কীভাবে ব্যক্তির মনোভাব ও কর্মকে প্রভাবিত করে এবং কীভাবে তা সমাজের কাঠামোকে পরিবর্তন করতে পারে। চলচ্চিত্রটি এই প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধানে দর্শকদেরকে আমন্ত্রণ জানায়।
প্রযোজনায় ক্লেয়ার ম্যাকক্যাব, হ্যারি ভন, কেটি হলি এবং সিগ্রিড ডায়েকজার সহ অন্যান্য নাম যুক্ত ছিলেন। এছাড়া এসওএস প্রোডাকশনস এবং রিয়াল লাভা এই প্রকল্পের সহ-প্রযোজক হিসেবে কাজ করেছে। তাদের সমন্বিত প্রচেষ্টা চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে উপস্থাপনযোগ্য করে তুলেছে।
সান্ডান্সের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এই চলচ্চিত্রকে ‘অর্থের ক্ষমতা কীভাবে সৃষ্টিকর্তা ও ধ্বংসকারী উভয়ই হতে পারে, এবং বিশাল সম্পদে প্রবেশের ফলে ব্যক্তির মানসিকতা ও পারিপার্শ্বিকদের ওপর কী প্রভাব ফেলে’ তা বিশ্লেষণ করে বর্ণনা করা হয়েছে। এটি বর্তমান সময়ের কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক বৈষম্য ও ক্ষমতার কাঠামোকে তুলে ধরেছে।
‘অল অ্যাবাউট দ্য মানি’ ডকুমেন্টারিটি শুধুমাত্র একটি ব্যক্তির জীবনের গল্প নয়, বরং আধুনিক সমাজে সম্পদের ভূমিকা ও তার সামাজিক প্রভাবের একটি সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করে। সান্ডান্সের এই বিশ্বপ্রিমিয়ার চলচ্চিত্রটি দর্শকদেরকে সম্পদ, ক্ষমতা এবং আদর্শের জটিল সম্পর্ক নিয়ে চিন্তা করতে উদ্বুদ্ধ করবে।



