সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের বিরাইমপুর গ্রামে বুধবার বিকেলে বিশাল আখনি রান্নার কাজ শুরু হয়েছে। বিএনপি চেয়ারম্যান ও পার্লামেন্টার-প্রার্থী তারেক রহমানের শ্বশুরবাড়ি, যাকে স্থানীয়ভাবে ‘মিনিস্টার বাড়ি’ বলা হয়, সেখানে প্রায় ১২,০০০ মানুষকে খাবার সরবরাহের জন্য ৪০টি বড় ডেগে চাল রান্না করা হচ্ছে।
বাড়ির মালিক নৌবাহিনীর সাবেক রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান, যিনি একসময় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীও ছিলেন, তার পরিবারিক জমিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রান্নার জন্য আটটি গরু ও ৩৪ বস্তা চাল ব্যবহার করা হচ্ছে, এবং মোট ৫০ জন অভিজ্ঞ বাবুর্চি কাজের তত্ত্বাবধান করছেন।
রান্না সকাল থেকে চলমান, এবং ডেগগুলো ধারাবাহিকভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। বাবুর্চিরা ডেগের ঢাকনা খুলে, চালের গন্ধ পরীক্ষা করে নিশ্চিত করছেন যে খাবার সঠিকভাবে সেদ্ধ হয়েছে। এই বৃহৎ আয়োজনের লক্ষ্য হল তারেক রহমানের শ্বশুরবাড়ি থেকে তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানের পরিবারের মৃত আত্মীয়দের কবর জিয়ারত শেষে একটি সমাবেশে অংশগ্রহণকারী সকলকে খাবার প্রদান করা।
তারা পরিকল্পনা অনুযায়ী, তারেক রহমান আজ রাতেই সিলেটে পৌঁছাবেন। কবর জিয়ারত শেষে তিনি শহরের শাহজালাল ও শাহপরান রোডের মাজারে গিয়ে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে দূরবর্তী গ্রামে গিয়ে পরিবারের শোকসন্ধ্যা সম্পন্ন করবেন। এরপর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও জুবাইদার পরিবারের মৃত আত্মীয়দের স্মরণে একটি মিলাদ মাহফিলের আয়োজন হবে।
মিলাদের পর তারেক রহমান, তার সফরসঙ্গী ও স্থানীয় দলীয় নেতা-কর্মীরা ‘শিরনি’ নামে পরিচিত খাবার পরিবেশন করবেন। শিরনি হল ঐতিহ্যবাহী সিলেটি খাবার, যা সাধারণত দুঃখের সময়ে ভাগ করা হয়। এই সমাবেশে উপস্থিতদের মধ্যে স্থানীয় জুমাই, গৃহস্থালি ও রাজনৈতিক কর্মী অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
প্রধান বাবুর্চি মো. হাসু মিয়া জানান, “প্রায় ১২ হাজার মানুষের জন্য ৪০ ডেগ আখনি রান্না করা হচ্ছে। আটটি গরু, ৩৪ বস্তা চালের আখনি রান্না হচ্ছে। এতে ৫০ জন বাবুর্চি অংশ নিচ্ছেন।” তিনি যোগ করেন, “রান্না সকাল থেকে শুরু হয়েছে এবং আশা করা যায়, খাবার শেষ পর্যন্ত সবাই প্রশংসা করবে।”
জুবাইদা রহমানের চাচাতো ভাই নাসির আলী খান রান্নাসহ বাড়িতে আসা অতিথিদের তদারকি করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “দীর্ঘদিন পর আপা, দুলাভাই আসবেন। তাদের বরণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।” তার মন্তব্য থেকে দেখা যায় পরিবারিক সমাবেশের গুরুত্ব এবং প্রস্তুতির ব্যাপকতা।
বিকালে জুবাইদা রহমানের গ্রাম বাড়িতে বিএনপি পার্লামেন্টার-প্রার্থী ও যুক্তরাজ্য বিএনপি সাবেক সভাপতি আবদুল মালিকের সঙ্গে দেখা হয়। তিনি দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেন, যা রাজনৈতিক দিক থেকে এই সমাবেশকে আরও গুরুত্ব দেয়।
বিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, এই বৃহৎ আয়োজনকে বিএনপি দলের সমর্থন বাড়ানোর একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। সিলেটের ঐতিহ্যবাহী রীতি অনুসারে শোকের সময়ে খাবার ভাগাভাগি করা হয়, এবং এই ধরনের সমাবেশে রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতি স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, সিলেটের ভোটারগণ ঐতিহ্যবাহী ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতার উপস্থিতি মূল্যায়ন করেন। তাই তারেক রহমানের এই সমাবেশ স্থানীয় ভিত্তি শক্তিশালী করতে সহায়তা করতে পারে, বিশেষত আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে।
অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো এই আয়োজনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছাড়াই পারিবারিক দায়িত্ব হিসেবে তুলে ধরতে পারে। তবে, বৃহৎ পরিসরে খাবার প্রস্তুত ও বিতরণ করা, পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে মিলাদের আয়োজন, রাজনৈতিক প্রতীকবাদের দিক থেকে উপেক্ষা করা কঠিন।
সিলেটের স্থানীয় প্রশাসন এই সমাবেশের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের দিক থেকে পর্যবেক্ষণ করছে। বড় সংখ্যক মানুষ একত্রিত হওয়ায় সড়ক ও পার্কিং ব্যবস্থার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, এবং খাবারের গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, সিলেটের বিরাইমপুর গ্রামে তারেক রহমানের শ্বশুরবাড়িতে ৪০ ডেগ আখনি রান্না, প্রায় ১২ হাজারের জন্য, পরিবারিক শোকসন্ধ্যা, রাজনৈতিক সমাবেশ ও খাবার বিতরণ একত্রে ঘটছে। এই সমাবেশের রাজনৈতিক প্রভাব, বিশেষত স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ ও ভবিষ্যৎ নির্বাচনী কৌশল, পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট হবে।



