ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গ্রিনল্যান্ড বিষয়ক শুল্ক বিরোধ বাড়ার ফলে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট জুলাই মাসে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তির অনুমোদন স্থগিতের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিটির সূত্র অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বুধবার ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে হতে পারে।
বাণিজ্য চুক্তি, যা জুলাই মাসে স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় পণ্যের ওপর শুল্ক হার ৩০ শতাংশের হুমকি থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। পরিবর্তে ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং রফতানি বৃদ্ধির জন্য কিছু সংস্কার গ্রহণের কথা বলেছিল। তবে চুক্তি কার্যকর করতে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অনুমোদন আবশ্যক।
গ্রিনল্যান্ড শুল্ক হুমকি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জার্মানির প্রভাবশালী ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য মানফ্রেড ওয়েবার উল্লেখ করেন, “এই মুহূর্তে অনুমোদন সম্ভব নয়”। তার মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিটির চেয়ারম্যান বার্ন্ড লাঙ্গা গ্রিনল্যান্ড বিষয়ক হুমকির প্রভাবকে উল্লেখ করে বাজারের অস্থিরতা বাড়ার ইঙ্গিত দেন।
বাজারের প্রতিক্রিয়া তীব্র হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ডাও জোন্স সূচক একদিনে ১.৭ শতাংশের বেশি, এস অ্যান্ড পি ৫০০ প্রায় ২ শতাংশ এবং নাসডাক প্রায় ২.৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ইউরোপের প্রধান সূচকগুলোও টানা দ্বিতীয় দিন ধারাবাহিকভাবে পতন দেখিয়েছে।
এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় বাজারে মিশ্র চিত্র দেখা যায়। জাপান এবং হংকংয়ের মূল সূচকগুলো সামান্য নিচে নেমে এসেছে, তবে চীনের কিছু শেয়ার এবং হংকংয়ের নির্দিষ্ট সেক্টরে সামান্য ঊর্ধ্বগতি রেকর্ড করা হয়েছে। এই পার্থক্য বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কৌশলে পরিবর্তন আনার ইঙ্গিত দেয়।
সুরক্ষিত সম্পদে চাহিদা বাড়ার ফলে মূল্যবান ধাতুর দাম বেড়েছে। স্বর্ণের দাম ঐতিহাসিকভাবে প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স ৪,৮০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। রুপার দাম, যদিও স্বল্প সময়ের রেকর্ড উচ্চতা স্পর্শ করেছিল, তবে স্বর্ণের শীর্ষে পৌঁছানোর পর কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
মুদ্রা বাজারে মার্কিন ডলার প্রধান মুদ্রার তুলনায় স্থিতিশীল থাকলেও, গত রাতে ০.৫ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে। এটি ডিসেম্বরের শুরুর পর থেকে এক দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ পতন, যা ডলারের শক্তি হ্রাসের ইঙ্গিত দেয়।
ট্রাম্পের স্কটল্যান্ডের টার্নবেরি গলফ কোর্সে জুলাই মাসে স্বাক্ষরিত চুক্তি, পূর্বে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমিয়ে দিয়েছিল। তবে গ্রিনল্যান্ড শুল্ক হুমকি পুনরায় উত্থাপিত হওয়ায় এই শান্তি ভেঙে গেছে এবং নতুন শুল্ক নীতি নিয়ে আলোচনা পুনরায় তীব্র হয়েছে।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অনুমোদন না হলে, চুক্তির শর্তাবলী কার্যকর হবে না এবং যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক হুমকি পুনরায় বাড়তে পারে। এই পরিস্থিতি ইউরোপীয় রপ্তানিকারকদের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করছে এবং সম্ভাব্যভাবে রপ্তানি হ্রাসের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন, যদি পার্লামেন্ট অনুমোদন স্থগিত করে, তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরে রপ্তানি শিল্পের ওপর চাপ বাড়বে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য আলোচনার দরজা খুলে যাবে। একই সঙ্গে, শুল্ক হুমকি পুনরায় চালু হলে ইউরোপীয় ভোক্তাদের মূল্যবৃদ্ধি অনুভব করতে হতে পারে।
সংক্ষেপে, গ্রিনল্যান্ড শুল্ক বিরোধের ফলে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বাণিজ্য চুক্তি অনুমোদন স্থগিতের সম্ভাবনা বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলেছে। শেয়ারবাজারের পতন, স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি এবং ডলারের হ্রাস এই অস্থিরতার স্পষ্ট সূচক। ভবিষ্যতে চুক্তির অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের ভিত্তিতে বাণিজ্য নীতি ও বাজারের দিকনির্দেশনা পুনর্গঠন হতে পারে।



