যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন, ১২ জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ঢাকায় দূতাবাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো মিডিয়ার সামনে EMK সেন্টারে বক্তব্য রাখেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন যে যুক্তরাষ্ট্র কোনো রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করে না এবং বাংলাদেশের জনগণের স্বায়ত্তশাসন ও তাদের নির্বাচনী সিদ্ধান্তকে সম্মান করে। এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে তিনি আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ঐতিহাসিক জাতীয় নির্বাচনের দিকে দৃষ্টিপাত করেন এবং দু’দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের প্রতি আশাবাদ প্রকাশ করেন।
বক্তব্যের সময় ক্রিস্টেনসেন উল্লেখ করেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মূল স্তম্ভ হবে বাণিজ্য, অর্থনীতি এবং নিরাপত্তা। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এই ক্ষেত্রগুলোতে উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা করা এবং সহযোগিতা বাড়ানো হবে প্রধান লক্ষ্য। এদিকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক কূটনৈতিক নীতি, বিশেষ করে “America First” নীতির ব্যাখ্যা দেন এবং বলেন, নির্বাচিত সরকারগুলোকে সর্বদা তাদের জনগণের মঙ্গলে কাজ করা উচিত, তবে “America First” মানে একতরফা স্বার্থ নয়।
দূতাবাসে যোগদানের পর ক্রিস্টেনসেনের প্রথম মিডিয়া ইন্টারঅ্যাকশনটি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন। তিনি গত সপ্তাহে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন। এই সাক্ষাৎটি দেশের রাজনৈতিক সমতা বজায় রাখতে এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
বাংলাদেশের সরকারও দূতের মন্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে দেশের স্বায়ত্তশাসন ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছে। সরকারী সূত্র অনুযায়ী, নির্বাচনের সময় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অংশগ্রহণ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে, দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং নাগরিক সমাজের সংগঠন দূতের মন্তব্যকে সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন। তারা উল্লেখ করেন যে বিদেশি দেশের মন্তব্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে এবং তাই দেশের অভ্যন্তরীণ স্বায়ত্তশাসন রক্ষার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন। তবে তারা স্বীকার করেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সহযোগিতা দেশের উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ক্রিস্টেনসেনের বক্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক মিশনকে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সহায়তা করার দায়িত্ব হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ কেবলমাত্র তার নিজস্ব স্বার্থ নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করাও অন্তর্ভুক্ত। এদিকে তিনি ভবিষ্যতে উভয় দেশের মধ্যে প্রযুক্তি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা উল্লেখ করেন।
দূতাবাসে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় ক্রিস্টেনসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নীতি হল দেশের জনগণের স্বায়ত্তশাসনকে সম্মান করা এবং কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের মধ্যে হস্তক্ষেপ না করা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের লক্ষ্যকে নিরাপত্তা, শক্তি ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধি হিসেবে উল্লেখ করেন, এবং এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
সংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের প্রথম মিডিয়া ইন্টারঅ্যাকশনটি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তিনি স্বতন্ত্রতা, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখার গুরুত্ব জোর দিয়ে বলেছেন, যা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিকনির্দেশে প্রভাব ফেলতে পারে। আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচনকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ও সমর্থন পাবে বলে আশা করা হচ্ছে, এবং উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন ক্ষেত্রের সহযোগিতা আরও দৃঢ় হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



