ইউইএফএর প্রথম নারী ক্লাব বিশ্বকাপের আয়োজন জানুয়ারি ৫ থেকে ৩০, ২০২৮ পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে। ইংল্যান্ডের উইমেন্স সুপার লিগ (ডব্লিউএসএল) এই সময়সূচি নিয়ে কঠোর আপত্তি জানিয়ে, সম্ভাব্য বিপর্যয়কর প্রভাবের ইঙ্গিত দিয়েছে। লিগের মুখপাত্র বুধবার ফিফার সঙ্গে আলোচনা করে, নির্ধারিত তারিখের বিরোধিতা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছেন।
ডব্লিউএসএল উল্লেখ করেছে, জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্ট পাঁচটি লিগ রাউন্ডের সঙ্গে সংঘর্ষের সম্ভাবনা তৈরি করবে, যা মৌসুমের ধারাবাহিকতা ও ক্লাবের প্রস্তুতিতে বড় ধাক্কা হতে পারে। লিগের মতে, শীতকালীন বিরতি মাঝের ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত থাকায়, অতিরিক্ত প্রতিযোগিতা দলগুলোর শারীরিক ও মানসিক ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
লিগের প্রতিনিধিরা জানান, ক্লাব ও খেলোয়াড়দেরও এই সময়সূচি নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। তবে ডব্লিউএসএল কোনো বয়কটের আহ্বান করেনি, nor ইংলিশ দলগুলোকে টুর্নামেন্ট থেকে প্রত্যাহার করার হুমকি দেয়নি। তারা স্পষ্ট করে বলেছে, নতুন টুর্নামেন্টের ধারণা স্বয়ংই বিরোধী নয়, তবে নির্ধারিত তারিখগুলোকে গ্রীষ্মের দিকে সরিয়ে নেওয়া উচিত।
গ্রীষ্মের মাসে আয়োজনের দাবি মূলত উত্তর গোলার্ধের ক্লাব ক্যালেন্ডারের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখার জন্য। লিগের মুখপাত্র উল্লেখ করেছেন, গ্রীষ্মে অনুষ্ঠিত হলে পাঁচটি লিগ রাউন্ডের উপর কোনো প্রভাব পড়বে না এবং ক্লাবগুলোকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশগ্রহণের সুযোগও থাকবে। তবুও, হোস্ট দেশ ও কনফেডারেশন অনুযায়ী যোগ্যতা প্রক্রিয়া এখনো প্রকাশিত হয়নি।
ফিফার প্রধান ফুটবল কর্মকর্তা এবং প্রাক্তন যুক্তরাষ্ট্রের নারী জাতীয় দল কোচ জিল এলিস, টুর্নামেন্টের সম্ভাব্য হোস্ট হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যকে উন্মুক্তভাবে বিবেচনা করছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কিছু রাজ্যের অ্যান্টি-এলজিবিটিকিউ নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, “গ্লাসের ঘরে পাথর নিক্ষেপ করা” এর মতো রূপক ব্যবহার করে সমালোচনা করেছেন। এই মন্তব্যগুলো টুর্নামেন্টের নৈতিক দিকেও আলোচনার সূচনা করেছে।
দ্য গার্ডিয়ান সম্প্রতি প্রকাশ করেছে, ফিফা কাতারকে সম্ভাব্য হোস্ট হিসেবে বিবেচনা করছে। যদিও কাতারকে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন করা হবে কিনা এখনও অনিশ্চিত, তবে মধ্যপ্রাচ্যীয় দেশগুলোর অবকাঠামো ও পূর্বের আন্তর্জাতিক ইভেন্টের অভিজ্ঞতা এই আলোচনাকে ত্বরান্বিত করেছে।
ডব্লিউএসএল উল্লেখ করেছে, জানুয়ারি সময়সূচি নারী চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে না পড়লেও, ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশীয় লিগে এই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ নির্ধারিত রয়েছে। ফলে, ক্লাবগুলোকে একাধিক প্রতিযোগিতার মধ্যে সমন্বয় করতে হবে, যা খেলোয়াড়দের ক্লান্তি বাড়াতে পারে।
ইংল্যান্ডের শীর্ষ স্তরের নারী লিগ বর্তমানে মধ্য-ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত শীতকালীন বিরতি পালন করে। এই বিরতির সময় দলগুলো প্রশিক্ষণ ও বিশ্রাম নেয়, যা জানুয়ারি মাসে অতিরিক্ত টুর্নামেন্টের সঙ্গে মেলাতে কঠিন হতে পারে। লিগের মুখপাত্র এ বিষয়টি উল্লেখ করে, “শীতকালীন বিরতি ভাঙা আমাদের ক্লাবের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে” বলে মন্তব্য করেছেন।
প্রাথমিকভাবে ফিফা ২০২৬ সালে নারী ক্লাব বিশ্বকাপের আয়োজনের পরিকল্পনা করেছিল। তবে সময়সূচি পরিবর্তন করে ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে স্থানান্তরিত হওয়ায়, লিগের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হয়েছে। এই পরিবর্তনটি লিগের সদস্য ক্লাবগুলোর ক্যালেন্ডারেও বিশাল পরিবর্তন এনেছে।
ডব্লিউএসএল স্পষ্ট করে বলেছে, তারা কোনো ক্লাবকে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখবে না, তবে টুর্নামেন্টের তারিখ পরিবর্তনের জন্য ফিফার সঙ্গে দৃঢ়ভাবে আলোচনা চালিয়ে যাবে। লিগের লক্ষ্য হল আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সঙ্গে দেশীয় লিগের সামঞ্জস্য রক্ষা করা, যাতে খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যের ক্ষতি না হয়।
সারসংক্ষেপে, নারী ক্লাব বিশ্বকাপের জানুয়ারি ২০২৮ তারিখে অনুষ্ঠিত হওয়া লিগের শীতকালীন বিরতি ও দেশীয় লিগের সময়সূচির সঙ্গে সংঘর্ষের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। ডব্লিউএসএল গ্রীষ্মে টুর্নামেন্টের আয়োজনের পক্ষে, হোস্ট ও যোগ্যতা প্রক্রিয়া এখনও অনিশ্চিত, আর ফিফা মধ্যপ্রাচ্যকে সম্ভাব্য হোস্ট হিসেবে বিবেচনা করছে। ভবিষ্যতে এই বিষয়গুলো কীভাবে সমাধান হবে, তা আন্তর্জাতিক ফুটবল জগতের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।



