ঢাকা, ২১ জানুয়ারি – সরকারী কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের বেতন কাঠামোতে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি প্রস্তাব করে পে কমিশন আজ সন্ধ্যায় চিফ অ্যাডভাইজারকে স্টেট গেস্ট হাউস জামুনায় উপস্থাপন করবে। এই পদক্ষেপের পেছনে মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, পাশাপাশি অনলাইন জরিপে প্রায় তিন লক্ষের মতামত সংগ্রহের ফলাফল রয়েছে।
২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন বেসিক বেতন বর্তমান ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। শীর্ষ ১ম গ্রেডের বেসিক বেতন ৭৮,০০০ টাকা থেকে দ্বিগুণের কাছাকাছি, অর্থাৎ ১,৬০,০০০ টাকা পর্যন্ত বাড়বে। বেতন বৃদ্ধির পরিসীমা গ্রেডভিত্তিকভাবে নির্ধারিত, তবে মোট গ্রেডের সংখ্যা ২০-ই থাকবে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, বৌশাখি ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হবে, যা সরকারী কর্মচারীদের মৌসুমী আয় বাড়াবে। এছাড়া, পরিবহন ভাতা পূর্বে ১১ থেকে ২০ গ্রেডের জন্য সীমাবদ্ধ থাকলেও, নতুন প্রস্তাবে এটি ১০ থেকে ২০ গ্রেড পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।
পেনশনভুক্ত কর্মচারীদের জন্যও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। মাসিক পেনশন ২০,০০০ টাকার নিচে থাকা কর্মচারীরা প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাবে, ২০,০০০ থেকে ৪০,০০০ টাকার মধ্যে থাকা কর্মচারীরা ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে, আর ৪০,০০০ টাকার উপরে থাকা পেনশনভুক্তদের ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।
বয়সভিত্তিক মেডিকেল ভাতার ক্ষেত্রে, ৭৫ বছরের ঊর্ধ্বে পেনশনভুক্তদের জন্য ১০,০০০ টাকা, আর ৫৫ বছরের নিচে কর্মচারীদের জন্য ৫,০০০ টাকা প্রদান করার প্রস্তাব রয়েছে। এই ব্যবস্থা স্বাস্থ্যসেবার খরচ কমাতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাড়ি ভাতা সংক্রান্ত নীতিতে, ১ থেকে ১০ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য তুলনামূলকভাবে কম হারের ভাতা নির্ধারিত, যেখানে ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য উচ্চতর হারের ভাতা বজায় থাকবে। এই পার্থক্যটি কর্মচারীর পদবী ও দায়িত্বের স্তরকে বিবেচনা করে করা হয়েছে।
পে কমিশনের ২১ সদস্যের দল, যার নেতৃত্বে প্রাক্তন ফিনান্স সেক্রেটারি জাকির আহমেদ খান আছেন, এই প্রস্তাবনা প্রস্তুত করতে প্রায় ৩ লক্ষের বেশি অনলাইন মতামত সংগ্রহের পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতি, জীবনযাত্রার মান ইত্যাদি সূচক বিশ্লেষণ করেছে।
প্রস্তাবিত বেতন ও ভাতা কাঠামো চিফ অ্যাডভাইজারের অনুমোদনের পর সরকারী কর্মচারীদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি এবং কর্মপ্রেরণায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। পরবর্তী ধাপে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো এই প্রস্তাবনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়ন করবে।
এই বেতন বৃদ্ধি পরিকল্পনা দেশের অর্থনৈতিক নীতি ও জনসেবার মান উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, এবং সরকারী কর্মচারীদের কর্মক্ষমতা ও জনসাধারণের সেবার গুণগত মান বাড়াতে সহায়তা করবে।



