গনতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য ও প্রাক্তন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর আনু মুহাম্মদ ২১ জুলাই জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জোর দিয়ে বললেন, জুলাই মাসের গণউত্থানের পর ইন্ডেম্নিটি প্রদান করার আগে প্রতিটি ঘটনার আলাদা তদন্ত প্রয়োজন।
প্রেস কনফারেন্সে সাংবাদিকের প্রশ্নে, জুলাই‑আগস্ট ২০২৪-এ পুলিশ কর্মকর্তাদের হত্যার ইন্ডেম্নিটি নিয়ে তিনি উত্তর দেন, “Specific investigations are necessary so that it can be understood whether those incidents happened as part of the mass uprising or as the result of an individual’s criminal activity”।
এই মন্তব্যটি তিনি একই দিনে অনুষ্ঠিত, “জনশক্তির শান্তি, স্বস্তি, নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক অধিকার” শিরোনামের প্রেস কনফারেন্সে প্রদান করেন। সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল গনতান্ত্রিক অধিকার কমিটির ২৫টি সুপারিশ সম্বলিত ম্যানিফেস্টো উপস্থাপন করা।
ম্যানিফেস্টোর প্রথম পয়েন্টে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্বাচিত সরকারকে তিন বছরের মধ্যে শেইখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সব নেতা ও কর্মী, পাশাপাশি যারা জুলাই উত্থানে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন এমন ব্যুরোকার, পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (RAB), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB) ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পূর্ণাঙ্গ বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ দাবি হল, জুলাই উত্থানের সময় ভারতীয় সীমানায় পালিয়ে যাওয়া ৬০০েরও বেশি আওয়ামী লীগ নেতা ও কর্মীর বিষয়ে স্বচ্ছ বিচারিক তদন্ত চালিয়ে তাদের পালাতে সহায়তা করা ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা।
ম্যানিফেস্টোটি গনতান্ত্রিক অধিকার কমিটির আক্রাম খান, মাহতাব উদ্দিন আহমেদ ও সুশমিতা এস প্রীথা ত্রয়ী পাঠ করে শোনালেন। এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর সামিনা লুৎফাহ উপস্থিত ছিলেন এবং আলোচনায় অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
কমিটি এই ম্যানিফেস্টোর মাধ্যমে সরকারকে ইন্ডেম্নিটি প্রদান করার আগে প্রতিটি ঘটনার প্রকৃত স্বভাব নির্ণয়ের আহ্বান জানাচ্ছেন, যাতে গণউত্থানের অংশ হিসেবে ঘটিত অপরাধ ও ব্যক্তিগত অপরাধের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই দাবিগুলি আগামী নির্বাচনের পূর্বে সরকার ও বিরোধী দল উভয়ের জন্যই চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। যদি সরকার এই সুপারিশগুলো মেনে চলে, তবে তা শেইখ হাসিনার নেতৃত্বে থাকা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে।
অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো এই ম্যানিফেস্টোর কিছু ধারাকে সরকারের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে এবং ইন্ডেম্নিটি না দিয়ে বিচারের প্রক্রিয়া ধীর করার সম্ভাবনা নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছে।
গনতান্ত্রিক অধিকার কমিটি জোর দিয়ে বলছে, ইন্ডেম্নিটি একসাথে প্রদান করা ন্যায়বিচারকে ক্ষুণ্ন করবে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে বাধা সৃষ্টি করবে। তাই প্রতিটি ঘটনার আলাদা তদন্তই একমাত্র সঠিক পথ।
এই আলোচনার পর, কমিটি ভবিষ্যতে আরও একাধিক কর্মশালা ও জনসচেতনতা ক্যাম্পেইন চালিয়ে যাবে, যাতে জনগণও এই বিষয়ের গুরুত্ব বুঝে যথাযথ পদক্ষেপের দাবি করতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ অংশে উপস্থিত সকল সদস্য একমত হন যে, ইন্ডেম্নিটি প্রদান আগে প্রতিটি ঘটনার সত্যতা ও দায়িত্ব নির্ধারণ করা উচিত, যাতে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ থাকে।



