পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বুধবার দুপুরে ফরিদপুরে অনুষ্ঠিত গণভোট প্রচার সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে, সরকারি কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্টতা ত্যাগ করে জনগণের সেবায় মনোনিবেশ করার আহ্বান জানিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে মত প্রকাশ করেন।
এই সভা ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহরের অম্বিকা মেমোরিয়াল ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ ও গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি চালু করা হয়।
উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান, যিনি পরিবেশ নীতি ও ক্লাইমেট পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়ের তত্ত্বাবধান করেন, সভার প্রধান অতিথি হিসেবে তার বক্তব্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা কোনো রাজনৈতিক দলের নয়, বরং দেশের সংবিধান ও জনগণের সেবায় নিবেদিত হওয়া উচিত।
রিজওয়ানা উল্লেখ করেন, তার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি প্রায়ই শুনে আসছেন যে কোনো কর্মকর্তা আওয়ামী লীগ, অন্যটি বিএনপি, আরেকজন জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত। এ ধরনের মন্তব্য আর শোনা যাবে না।
তিনি বলেন, যদিও কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শ পোষণ করতে পারেন, তবে রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনকালে সেই মতাদর্শের প্রভাব দেখা দেওয়া উচিত নয়।
বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে সংযুক্তির অভিযোগের পরিবর্তে, তিনি সকল কর্মকর্তাকে দেশের স্বার্থে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার পরামর্শ দেন।
উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, দেশের আমলাতন্ত্র দীর্ঘদিন ধরে নেতা তুষ্টির জন্য পদোন্নতি ও বরখাস্তের সংস্কৃতিতে আটকে রয়েছে, যা জনসেবার মানকে ক্ষুন্ন করেছে।
এই সংস্কৃতি, তিনি বলেন, এখনো পর্যন্ত সরকারি কর্মীদের কর্মদক্ষতা ও নৈতিকতার পরিবর্তে রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
রিজওয়ানা হাসান গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে তার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন, কারণ তিনি বিশ্বাস করেন যে এই পদক্ষেপ দেশের সংবিধানিক কাঠামোকে শক্তিশালী করবে এবং জনসাধারণের অংশগ্রহণ বাড়াবে।
তিনি উল্লেখ করেন, গণভোটের ফলাফল দেশের ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, বিশেষ করে পরিবেশ ও জলবায়ু সংক্রান্ত আইন প্রণয়নে।
এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে সরকারী কর্মকর্তাদের এই ধরনের প্রকাশনা ভোটারদের মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে।
অন্যদিকে, কিছু রাজনৈতিক দল এখনও তাদের নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে গণভোটের ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে, তবে রিজওয়ানা হাসানের মতামত স্পষ্টভাবে দেখায় যে তিনি সরকারি সেবার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
সমাপনীভাবে, রিজওয়ানা হাসান সকল সরকারি কর্মীকে আহ্বান জানান, যেন তারা রাজনৈতিক চাপ থেকে মুক্ত হয়ে দেশের মঙ্গলের জন্য কাজ করেন এবং আসন্ন গণভোটে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সমর্থন করেন।



