সিলেটের শাকসু (শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) নির্বাচন স্থগিত হওয়ার পর, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিলেট সমাবেশ বন্ধের দাবি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, যদি শাকসু নির্বাচন না হয়, তবে তারেকের সমাবেশের অনুমতি না দিয়ে সিলেটের সব যোগাযোগ ব্যবস্থা, রোড ও রেলপথসহ, বন্ধ করা উচিত।
শাকসু নির্বাচনের স্থগিতের পেছনে রাজনৈতিক অস্থিরতা রয়েছে, এবং তা নিয়ে ছাত্রগণ বহুবার প্রতিবাদ করেছে। এই প্রেক্ষাপটে, তারেক রহমানের সিলেট সমাবেশকে রাজনৈতিক সমাবেশের অধিকার হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে, যা ছাত্রশিবিরের মতে শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার হরণকারী গোষ্ঠীর জন্য অগ্রহণযোগ্য।
ইব্রাহিম খলিলের মন্তব্যটি গত মঙ্গলবার বিকেলে ১৯৭১ গণহত্যা ভাস্কর্য চত্বরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনের সময় শোনা যায়। তিনি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ছাত্রদের সামনে তার মতামত প্রকাশ করেন এবং সমাবেশ বন্ধের প্রস্তাব দেন।
খলিলের মতে, যারা শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করে, তাদের কোনো রাজনৈতিক সমাবেশের অনুমতি থাকা উচিত নয়। তিনি এই যুক্তি দিয়ে সিলেটের সড়ক, রেলপথ এবং অন্যান্য যোগাযোগের সম্পূর্ণ বন্ধের দাবি তোলেন, যাতে শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যায়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের অফিসার মো. মোজাম্মেল মামুন, ইব্রাহিমের মন্তব্যের পর একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি স্বাক্ষর করেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, খলিলের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বুধবার একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
বিক্ষোভের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ছাত্রদলগুলো সিলেটের বিভিন্ন স্থানে সমাবেশের মাধ্যমে তাদের মত প্রকাশ করবে এবং শাকসু নির্বাচনের পুনরায় চালু করার দাবি করবে। এই কর্মসূচি ইব্রাহিমের মন্তব্যের পরেই গৃহীত হয়েছে, যা ছাত্রশিবিরের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে তুলেছে।
শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন ফেসবুকে একটি পোস্টে ইব্রাহিমের মন্তব্যকে দায়িত্বহীন বলে সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইব্রাহিমের বক্তব্যকে “নতুন পাগলামির মার্কেট” হিসেবে চিহ্নিত করে, তার দায়িত্বশীলতা প্রশ্নবিদ্ধ করেন।
শামসুলের পোস্টে আরও বলা হয়েছে, যদি ইব্রাহিমের মতামতকে শাসন করা হয়, তবে তাকে মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দেওয়া উচিত, যা তিনি রসিকতা সহকারে উল্লেখ করেন। তিনি ছাত্রদলের অন্যান্য সদস্যদের বিবেক ও বুদ্ধি ব্যবহার করে কথা বলার আহ্বান জানান।
এই বিতর্কের পটভূমিতে, তারেক রহমানের সিলেট সমাবেশের পরিকল্পনা এবং শাকসু নির্বাচনের স্থগিতের ফলে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। ছাত্রশিবিরের দাবি অনুযায়ী, সমাবেশ বন্ধ না হলে শিক্ষার্থীদের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং রাজনৈতিক প্রভাব বাড়বে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, যদি এই বিক্ষোভ এবং সমাবেশ বন্ধের দাবি বাস্তবায়িত হয়, তবে সিলেটের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে, ছাত্রগণ এবং রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে সম্পর্কের জটিলতা আরও স্পষ্ট হবে, যা ভবিষ্যতে আরও সমাবেশ ও প্রতিবাদকে উস্কে দিতে পারে।
সিলেটের পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত, এবং শাকসু নির্বাচনের পুনরায় চালু হওয়া, তারেকের সমাবেশের অনুমোদন বা নিষেধাজ্ঞা, এবং ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।



