22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিকংগ্রেসের মধ্যে রিপাবলিকান-ডেমোক্র্যাট জোট গঠনের সম্ভাবনা গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণে

কংগ্রেসের মধ্যে রিপাবলিকান-ডেমোক্র্যাট জোট গঠনের সম্ভাবনা গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণে

ওয়াশিংটন – যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের ইচ্ছা কংগ্রেসের রিপাবলিকান সদস্যদের মধ্যে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয়ই গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, এবং ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে রোধ করার জন্য সম্ভাব্য জোট গঠনের কথাও উঠে এসেছে।

গ্রিনল্যান্ড, যা ডেনমার্কের অধীনে স্বশাসিত, সম্প্রতি ট্রাম্পের ট্যারিফ নীতি ও সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়ে গেছে। ট্রাম্পের প্রশাসন গ্রিনল্যান্ডের অধিগ্রহণে সমর্থন না করা দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা প্রকাশ করে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

কংগ্রেসের কিছু রিপাবলিকান নেতা ইতিমধ্যে গ্রিনল্যান্ড কেনার বা সামরিকভাবে দখল করার কোনো বাস্তব ইচ্ছা নেই বলে স্পষ্ট করেছেন। তারা উল্লেখ করেছেন যে, এমন কোনো পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক স্বার্থের বিরোধী এবং ন্যাটো জোটের ঐক্যকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে। বিশেষ করে, নর্থ ক্যারোলাইনা থেকে সেনেটর থম টিলিসের মতে, ট্যারিফ নীতি “আমেরিকান ব্যবসা ও মিত্রদের ক্ষতি করবে এবং চীন ও রাশিয়ার মতো প্রতিপক্ষের জন্য সুবিধা তৈরি করবে”। তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে, এই ধরনের পদক্ষেপ ন্যাটোর অভ্যন্তরে বিভাজন ঘটিয়ে পুতিন ও শি জিনপিংয়ের মতো নেতাদের জন্য সুবিধাজনক হবে।

সেনেটর লিসা মুরকোস্কি, যিনি সেনেটের আর্টিক ককাসের সহ-চেয়ার, গ্রিনল্যান্ডের জনগণের সার্বভৌমত্বকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী বলে জোর দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসনকে সম্মান করা কোনো আলোচনার বিষয় নয় এবং এটি আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতি। মুরকস্কি এই বিষয়টি ন্যাটো জোটের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করছেন।

ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কিছু রিপাবলিকানদের সমন্বয় গঠনের সম্ভাবনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, ট্রাম্পের একতরফা পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্পের বিদেশ নীতি বেশ কয়েকটি স্বতন্ত্র সামরিক ও অর্থনৈতিক হস্তক্ষেপে চিহ্নিত হয়েছে, যার মধ্যে ভেনেজুয়েলা ও ইরানের ওপর চাপ আরোপ অন্তর্ভুক্ত। গ্রিনল্যান্ডের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা পুনরাবৃত্তি হতে পারে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।

কংগ্রেসের কিছু সদস্য ট্যারিফ নীতি বিরোধিতা করে এবং এটিকে “আমেরিকান ব্যবসা ও মিত্রদের জন্য ক্ষতিকর” বলে মন্তব্য করেছেন। তারা যুক্তি দেন যে, গ্রিনল্যান্ডের অধিগ্রহণের জন্য অর্থনৈতিক চাপ আরোপ করা কেবল যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সুনামকে ক্ষুন্ন করবে না, বরং ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কেও প্রভাব ফেলবে।

নাটোর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক উভয়ই ন্যাটোর সদস্য, এবং গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসনকে লঙ্ঘন করা হলে জোটের অভ্যন্তরে অবিশ্বাসের বীজ বপন হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, যদি ট্রাম্প একতরফা পদক্ষেপ নেন, তবে ন্যাটোর মধ্যে বিভাজন ঘটিয়ে ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বর্তমানে কংগ্রেসে গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত কোনো নির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন বা ভোটের সময়সূচি প্রকাশিত হয়নি। তবে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয়ই এই বিষয়টি নিয়ে তীব্র আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, এবং ভবিষ্যতে ট্যারিফ নীতি, সামরিক হস্তক্ষেপ বা কূটনৈতিক চুক্তি সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্তের দিকে অগ্রসর হতে পারে।

ট্রাম্পের প্রশাসনের গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত পরিকল্পনা এখনো স্পষ্ট নয়; তবে কংগ্রেসের মধ্যে উত্থাপিত উদ্বেগ ও বিরোধের ভিত্তিতে দেখা যায় যে, কোনো একতরফা পদক্ষেপের আগে ব্যাপক রাজনৈতিক সমঝোতা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে কংগ্রেসের ভোট, ন্যাটো জোটের প্রতিক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগের ওপর নির্ভর করে গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।

এই প্রেক্ষাপটে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান বজায় রাখার জন্য কংগ্রেসের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয়েরই সমন্বিত অবস্থান গড়ে তোলার সম্ভাবনা, ট্রাম্পের নীতি পরিবর্তনের মূল চাবিকাঠি হতে পারে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments