22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিফ্রান্স গ্রিনল্যান্ডে ন্যাটো সামরিক মহড়া আয়োজনের আহ্বান জানায়

ফ্রান্স গ্রিনল্যান্ডে ন্যাটো সামরিক মহড়া আয়োজনের আহ্বান জানায়

ফ্রান্স গ্রিনল্যান্ডে ন্যাটো সামরিক মহড়া আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বীপের ওপর পুনরায় দাবি উত্থাপনের পর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিবেশ তীব্রতর হচ্ছে। এই আহ্বানটি আর্কটিকের কৌশলগত গুরুত্ব এবং অঞ্চলে বাড়তে থাকা রাশিয়া‑চীনা প্রভাবের প্রেক্ষিতে করা হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ বিবৃতিতে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে আনার সম্ভাবনা উল্লেখ করেন, এমনকি প্রয়োজন হলে সামরিক হস্তক্ষেপের কথাও বলেন। তিনি দ্বীপের বিশাল খনিজ সম্পদ ও ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত করে তোলেন।

ট্রাম্পের এই অবস্থান ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হিসেবে গ্রিনল্যান্ডের বর্তমান মর্যাদা ও স্বায়ত্তশাসনকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বারবার পুনরাবৃত্তি করা দাবি এবং সম্ভাব্য ক্রয় প্রস্তাবের ফলে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সরকার কঠোর বিরোধিতা করেছে।

ডেনমার্ক সরকার গ্রিনল্যান্ডের ওপর তার সার্বভৌমত্ব পুনর্ব্যক্ত করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে, ডেনমার্কের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন ও ভূখণ্ডিক অখণ্ডতা বজায় থাকবে, এবং কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপের অনুমতি নেই।

ফ্রান্সের পাশাপাশি ডেনমার্ক, সুইডেন ও জার্মানি ইতিমধ্যে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও গোয়েন্দা অভিযানে অংশগ্রহণ করছে। এই দেশগুলো ন্যাটো কাঠামোর মধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করে আর্কটিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সম্ভাব্য হুমকির মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে।

গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান, বিশাল প্রাকৃতিক সম্পদ এবং উত্তর আটলান্টিকের প্রবেশদ্বার হিসেবে তার ভূমিকা আন্তর্জাতিক শক্তি গোষ্ঠীর দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের ফলে আর্কটিকের নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে, এবং এই প্রেক্ষাপটে ন্যাটো মহড়া একটি প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাশিয়া ও চীন উভয়ই আর্কটিকের সামুদ্রিক পথে বাণিজ্য ও সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছে, যা গ্রিনল্যান্ডের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ফ্রান্সের এই আহ্বানকে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য রক্ষার একটি পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলি এই ভারসাম্যকে অস্থির করতে পারে।

ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে ট্রাম্পের হুমকি ও আর্কটিকের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণাত্মক নীতি ব্যাপকভাবে নিন্দিত হয়েছে। ডেনমার্কের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইউরোপীয় নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিকে প্রত্যাখ্যান করে আর্কটিকের স্বতন্ত্রতা ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে ন্যাটো মহড়ার পরিকল্পনা এবং আর্কটিকের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার পরিধি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন, আন্তর্জাতিক আইন এবং বড় শক্তিগুলোর কৌশলগত স্বার্থের মধ্যে সমন্বয় কীভাবে ঘটবে, তা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে রয়ে যাবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments