বুধবার দুপুরে, জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে সাম্প্রতিক হামলায় আহতদের পরিদর্শন করার সময় মবের মাধ্যমে জনমত গঠনের প্রভাব হ্রাসের কথা উল্লেখ করেন। তিনি উপস্থিত রোগীদের অবস্থা দেখার পর এই মন্তব্য করেন, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নির্দেশ করে।
ইবনে সিনা হাসপাতালে ঘটিত হামলায় বেশ কিছু রোগী আহত হয়েছেন; আহতদের সংখ্যা ও আঘাতের মাত্রা এখনও চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত হয়নি। হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, এবং ঘটনাস্থলে জরুরি সেবা দ্রুত পৌঁছেছে বলে জানা যায়।
একই সময়ে, রাজধানীর মিরপুরে জামায়াতের কর্মীদের ওপর আক্রমণ ও হেনস্তা ঘটেছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ডা. শফিকুর রহমান প্রকাশ করে, এবং তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এমন কোনো সহিংসতা সমাজে স্থান পাবে না।
মবের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, “এই নোংরা মবের কার্যক্রম যেন এখানেই শেষ হয়।” তার এই বক্তব্যের পেছনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জনমত গঠনে অবৈধ প্রভাবের ব্যবহার বন্ধ করার ইচ্ছা স্পষ্ট।
নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জামায়াত সব ধরনের সহযোগিতা করবে, এ কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দলটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ন্যায়সঙ্গততা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, প্রতিটি দল তাদের অঙ্গীকার ও কর্মসূচি জনগণের সামনে উপস্থাপন করবে, যাতে ভোটাররা অতীত ও বর্তমানের ভিত্তিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তিনি ভোটারদের স্বাধীনতা রক্ষার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
তাঁর বক্তব্যে ন্যায়, ইনসাফ এবং দুর্নীতিমুক্ত শাসনের দাবি স্পষ্টভাবে উঠে আসে। তিনি উল্লেখ করেন, “আমাদের অঙ্গীকার একেবারেই স্পষ্ট—ন্যায়, ইনসাফ এবং দুর্নীতিমুক্ত শাসন চাই।” এই নীতি ভিত্তিক প্রতিশ্রুতি দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
প্রায় ৩০০টি আসনের প্রার্থীদের তিনি অনুরোধ করেন, ভোটারদের স্বাধীনভাবে তাদের পছন্দ প্রকাশের সুযোগ দিন। তিনি বলেন, “দয়া করে মানুষকে স্বাধীনভাবে তাদের সিদ্ধান্ত নিতে দিন,” যা ভোটার স্বায়ত্তশাসনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে।
অবশেষে, নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, সব রাজনৈতিক দলকে ফলাফল মেনে নিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রাখতে হবে, এ কথাও তিনি জোর দিয়ে বলেন। এই দৃষ্টিভঙ্গি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সংহতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ডা. শফিকুর রহমানের এই মন্তব্য ও প্রতিশ্রুতি দেশের আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশলগত দিকনির্দেশনা নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে। মবের ব্যবহার হ্রাস এবং স্বচ্ছ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি জোর দেওয়া ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিবেশকে কীভাবে গঠন করবে, তা সময়ই বলবে।



