২১ জানুয়ারি, ঢাকা উচ্চ আদালতে বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর পুত্র রেজভিউল আহসান মুন্সীর নেতৃত্বে শতাধিক লোক একত্রিত হয়। তিনি ফেসবুক লাইভে হুমকিমূলক ভাষা ব্যবহার করে উপস্থিতদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন, ফলে আদালত নিরাপত্তা ঝুঁকি অনুভব করে এবং শুনানি বাতিল করতে বাধ্য হয়।
মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী, কুমিল্লা‑৪ (দেবীদ্বার) আসনের প্রার্থী, পূর্বে ঋণখেলাপির অভিযোগে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছিল। তার পুত্র রেজভিউল, যিনি একই সময়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়, উচ্চ আদালতে সমাবেশের আয়োজন করে মব গঠন করার অভিযোগে এনসিপি তীব্র সমালোচনা প্রকাশ করে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তার কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির উপকমিটির প্রধান সাদিয়া ফারজানা দিনার স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে উল্লেখ করে, রেজভিউল আহসান মুন্সীর সমাবেশে হুমকিমূলক বক্তব্যের ফলে আদালতে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং বিচারককে শুনানি বাতিল করতে বাধ্য করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, গত ২০ জানুয়ারি রেজভিউল আহসান মুন্সী উচ্চ আদালতে জনসমাগমের মাধ্যমে মব গঠন করে, যা বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বতন্ত্রতা ও নিরাপত্তার প্রতি সরাসরি হুমকি স্বরূপ। এনসিপি এই ঘটনাকে বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতার ওপর অনন্য আঘাত হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
এনসিপি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করে, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর গত ১৭ মাসে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, দখলদারি এবং মববাজির অভিযোগ তোলা হয়েছে। এই ধারাবাহিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ফলে জনগণ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার বিভাগে অবিশ্বাসের সঞ্চার ঘটেছে।
১৯ জানুয়ারি সীতাকুণ্ডে র্যাব কর্মকর্তা মোতালেব ভূঁইয়ার হত্যার পরেও, এনসিপি দাবি করে, বিএনপি নেতাকর্মীরা আদালতের ওপর চড়ে গিয়ে আইনের শাসনকে চ্যালেঞ্জ করেছে। এই ঘটনা উচ্চ আদালতে মব গঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
এনসিপি বিবৃতিতে দলটি জোর দিয়ে দাবি করেছে যে, বিএনপি নেতাকর্মীদের ধারাবাহিক উচ্ছৃঙ্খল আচরণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার বিভাগকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। তাই, তারা সরকারের, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ও বিচার বিভাগের দৃঢ় পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে অপরাধী নেতাকর্মীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার করা যায়।
দলটি একই সঙ্গে দুর্বৃত্ত, সন্ত্রাসী ও রাজনৈতিক মাফিয়াদের কাছে আত্মসমর্পণ না করার এবং গণতন্ত্রের মৌলিক নীতি রক্ষার জন্য কঠোর নীতি অনুসরণ করার প্রস্তাব দিয়েছে। এই দাবি ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দিকে ইঙ্গিত করে।
উচ্চ আদালতে মব গঠনের এই ঘটনা নির্বাচনী পরিবেশে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিচারিক স্বতন্ত্রতার ওপর প্রশ্ন উঠলে, রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে এবং নির্বাচনের পূর্বে আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি জনসাধারণের আস্থা পুনর্গঠন করা জরুরি হতে পারে।
পরবর্তী ধাপ হিসেবে, আদালত নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করে পুনরায় শুনানি নির্ধারণ করতে পারে, অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে। একই সঙ্গে, এনসিপি ও বিএনপি উভয়ই তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে, জনমত গঠন ও নির্বাচনী প্রস্তুতিতে নতুন দিকনির্দেশনা নিতে পারে।



