28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধঢাকায় গত বছরে ৪০৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২১৯ জনের মৃত্যু, ৫১১ জন আহত

ঢাকায় গত বছরে ৪০৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২১৯ জনের মৃত্যু, ৫১১ জন আহত

ঢাকা শহরে গত বছর মোট ৪০৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে ২১৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৫১১ জন আহত হয়েছেন। এই সংখ্যা শহরের ট্রাফিক নিরাপত্তার দুর্বলতা এবং নগর পরিবহনের অকার্যকর ব্যবস্থাপনা নির্দেশ করে।

মৃত্যুর সংখ্যা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পুরুষের মৃত্যুর হার সর্বোচ্চ, মোট ১৭৬ জন (প্রায় ৮০ শতাংশ) পুরুষ মারা গেছেন। নারীর মৃত্যুর সংখ্যা ২৫ জন এবং শিশুদের মৃত্যুর সংখ্যা ১৮ জন হিসেবে রেকর্ড হয়েছে।

দুর্ঘটনা সম্পর্কিত তথ্য প্রধানত বিভিন্ন মিডিয়া রিপোর্ট থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে সড়ক নিরাপত্তা সংস্থা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেছে।

মৃত্যুর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত গোষ্ঠী ছিলেন পথচারী, যারা মোট মৃত্যুর ৪৭ শতাংশ গঠন করে। মোটরসাইকেল চালক ও যাত্রীদের মৃত্যুর হার ৪৩ শতাংশ, আর বাকি ১০ শতাংশে বাস, রিকশা, সিএনজি এবং অন্যান্য যানবাহনের চালক ও যাত্রী অন্তর্ভুক্ত।

দুর্ঘটনার সময়কাল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রাতের সময় (১০টা রাত থেকে ৬টা সকাল) ৪২ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা সর্বোচ্চ। এরপর সকাল ১৮ শতাংশ, বিকাল ১৩ শতাংশ, ভোরের আলোতে ১১ শতাংশ, দুপুরে ১০ শতাংশ এবং সন্ধ্যায় ৬ শতাংশ দুর্ঘটনা রেকর্ড হয়েছে।

যানবাহনের ধরন অনুযায়ী বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভারী গাড়ি যেমন ট্রাক, কভারড ভ্যান, পিকআপ, ট্যাঙ্কার এবং গারবেজ ট্রাক মোট দুর্ঘটনার ৩৫ শতাংশে জড়িত। বাসের অংশগ্রহণ ২৫ শতাংশ, মোটরসাইকেল ২২ শতাংশ, এবং তিনচাকার গাড়ি (অটো-রিকশা, সিএনজি, লাগুনা) ১২ শতাংশ। বাকি অংশে অন্যান্য যানবাহন অন্তর্ভুক্ত।

বিশেষ করে ভারী গাড়িগুলোর উচ্চ গতিতে রাতের বেলা শহরের ভিতরে চলাচলকে সমস্যার মূল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বায়পাস রোডের অভাবে এই গাড়িগুলো রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত নগর এলাকায় দ্রুত গতি বজায় রাখে, যা পথচারীদের জন্য বিশেষ ঝুঁকি তৈরি করে।

ট্রাফিক জ্যাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চালকদের মধ্যে অসহিষ্ণুতা ও অস্থিরতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। এই পরিস্থিতি সড়ক নিরাপত্তা সংস্থার মতে, নিয়মিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

ঢাকার কিছু এলাকায় দুর্ঘটনার হার বিশেষভাবে বেশি। জাত্রাবাড়ি, দেমরা, মোহাম্মদপুর, কুরিল বিশ্বা রোড এবং এয়ারপোর্ট রোডকে প্রধান দুর্ঘটনা হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই এলাকাগুলোর উচ্চ ট্রাফিক ভলিউম এবং অপর্যাপ্ত সিগন্যাল ব্যবস্থা সমস্যার মূল কারণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।

দুর্ঘটনা সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে সড়ক নিরাপত্তা সংস্থা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জরুরি পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে রাতের সময় ভারী গাড়ির গতি সীমা কমানো, বায়পাস রোডের পরিকল্পনা ত্বরান্বিত করা এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তি ব্যবহার করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অধিকন্তু, পথচারী সুরক্ষার জন্য ক্রসিং এলাকায় আলো বাড়ানো, পেডেস্ট্রিয়ান ব্রিজ ও ফেডারেশন তৈরি করা এবং সিগন্যাল সিস্টেমের সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

এই তথ্যগুলো ভবিষ্যতে ট্রাফিক নিরাপত্তা নীতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে এবং দুর্ঘটনা কমাতে কাঠামোগত পরিবর্তনের ভিত্তি সরবরাহ করবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments