নৌপরিবহন ও শ্রম‑কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এম. সাখাওয়াত হোসেন বুধবার দুপুরে থাকুরগাঁও জেলার মির্জা রুহুল আমিন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত গণভোট প্রচারণা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় শক্তিশালী বার্তা দেন। তিনি উপস্থিতদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, ক্ষমতায় আসা কোনো ব্যক্তি বা দল যদি নিজেদেরকে রাজা‑বাদশা হিসেবে গণ্য করে, তবে তা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য হুমকি স্বরূপ।
উপদেষ্টা হোসেন উল্লেখ করেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার একটি স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন নিশ্চিত করতে চায়, যাতে নির্বাচিত সরকারই দায়িত্ব গ্রহণ করে দেশের পরিচালনা চালিয়ে যায়। তিনি বলেন, “যদি আপনি হ্যাঁ ভোট না দেন, তবে এক শতাব্দীর সুযোগ হাতছাড়া করবেন”—এর মাধ্যমে তিনি আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
হোসেনের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতা সীমিত এবং তা নির্বাচিত সরকারের মতো দেশের সামগ্রিক নীতি নির্ধারণে সক্ষম নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল যদি প্রকাশ্যে ভোটের পক্ষে না থাকে, তবে তা ভোটারদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হবে এবং তাদের উদ্দেশ্য স্পষ্ট হবে না। এই প্রসঙ্গে তিনি জিজ্ঞাসা করেন, এমন দলগুলোর লক্ষ্য কী এবং তারা কীভাবে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে অবদান রাখতে চায়।
উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, দেশের নিরাপত্তা ও সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হিংসা ও হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা না ঘটতে দেওয়া জরুরি। তিনি সতর্ক করেন, যারা ক্ষমতায় থেকে দুর্ব্যবহার করতে চায়, তারা ভোটের পক্ষে না থাকলে তাদের প্রভাব সীমিত থাকবে। তাই, জনগণকে আহ্বান জানানো হয় যে, হ্যাঁ ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্তে দলীয় ঘোষণার চেয়ে দেশের দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
সভায় উপস্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা হোসেনের বক্তব্যে সম্মতি জানিয়ে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তারা উল্লেখ করেন, ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভোটের গুরুত্ব সম্পর্কে যথাযথ তথ্য প্রদানই সফল নির্বাচনের মূল চাবিকাঠি।
উপদেষ্টার মন্তব্যের পর, অংশগ্রহণকারীরা প্রশ্নোত্তর সেশনে জিজ্ঞাসা করেন, কীভাবে ভোটাররা রাজনৈতিক দলের অপ্রকাশিত অবস্থানকে মূল্যায়ন করবেন এবং ভোটের সময় কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। হোসেন উত্তর দেন যে, ভোটারদের উচিত নিজের বিচারবুদ্ধি ব্যবহার করে দেশের মঙ্গলের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং প্রশাসন ভোটের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এই সভা থাকুরগাঁও জেলার প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত এবং স্থানীয় জনগণকে ভোটের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। হোসেনের বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি আবারও জোর দেন, যে কোনো ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা যদি স্বার্থপরতা ও স্বৈরাচারী মনোভাবের সঙ্গে যুক্ত হয়, তবে তা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের লক্ষ্য যদি সত্যিই একটি সুন্দর ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন নিশ্চিত করা হয়, তবে সকল রাজনৈতিক দল ও নাগরিকের সমন্বিত অংশগ্রহণই একমাত্র পথ। হোসেনের আহ্বান অনুযায়ী, ভোটাররা দলীয় ঘোষণার চেয়ে দেশের দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে হ্যাঁ ভোটের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারে।
এই আলোচনার পর, থাকুরগাঁওয়ের স্থানীয় মিডিয়া ও সামাজিক নেটওয়ার্কে হোসেনের বক্তব্য ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভোটের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়। ভবিষ্যতে এই ধরনের সভা ও মতবিনিময় সেশনগুলো দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নাগরিক অংশগ্রহণ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



