28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিমসজিদ কর্মীদের জন্য গ্রেডভিত্তিক বেতন ও সুবিধা নির্ধারণের নতুন নীতি প্রকাশ

মসজিদ কর্মীদের জন্য গ্রেডভিত্তিক বেতন ও সুবিধা নির্ধারণের নতুন নীতি প্রকাশ

সরকারি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সোমবার বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০২৫ প্রকাশ করেছে। নীতিমালায় মসজিদে কর্মরত ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদিমদের জন্য গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামো, নিয়োগ প্রক্রিয়া, ছুটি, আবাসন ও অবসরকালীন সুবিধা স্পষ্ট করা হয়েছে।

নতুন নীতিমালার অধীনে, খতিব ছাড়া মসজিদে কর্মরত সকল কর্মীর বেতন গ্রেডের ওপর নির্ভরশীল হবে, আর খতিবের বেতন চুক্তিপত্রে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী থাকবে। আর্থিকভাবে দুর্বল ও পাঞ্জেগানা মসজিদে বেতন‑ভাতা সামর্থ্য অনুসারে নির্ধারণের বিধানও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বেতন গ্রেডের বিশদে বলা হয়েছে, সিনিয়র পেশ ইমামকে ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী পঞ্চম গ্রেডে, পেশ ইমামকে ষষ্ঠ গ্রেডে এবং সাধারণ ইমামকে নবম গ্রেডে বেতন দেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রধান মুয়াজ্জিনকে দশম গ্রেড, মুয়াজ্জিনকে একাদশ গ্রেড, প্রধান খাদিমকে পঞ্চদশ গ্রেড এবং খাদিমকে ষোড়শ গ্রেডে বেতন নির্ধারিত হয়েছে।

জাতীয় বেতন স্কেলে পঞ্চম গ্রেডের মূল বেতন ৪৩,০০০ টাকা থেকে শুরু হয়, যার সঙ্গে বিভিন্ন ভাতা ও সুবিধা যুক্ত থাকে। এই গ্রেডের বেতন উপ সচিব পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের বেতনের সমতুল্য। ফলে মসজিদ কর্মীদের বেতন কাঠামো সরকারি বেতনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

কর্মীদের কল্যাণের দিকেও নীতিমালায় স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মসজিদে কর্মরত কর্মীর পরিবারকে সাপোর্ট করতে সামর্থ্য অনুযায়ী সপরিবারে আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য মাসিক সঞ্চয়ের বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চাকরি শেষের পর এককালীন সম্মাননা প্রদান করাও নীতিতে উল্লেখ আছে।

ছুটির বিষয়টি নীতিমালায় নির্দিষ্ট করা হয়েছে। কমিটির অনুমোদন পেলে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ চারদিন সাপ্তাহিক ছুটি নেওয়া যাবে। এছাড়া পঞ্জিকাবর্ষে ২০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি এবং প্রতি ১২ দিনে একদিন অর্জিত ছুটি প্রদান করা হবে। এই ব্যবস্থা কর্মীদের কাজ‑জীবনের সমতা রক্ষায় সহায়ক হবে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নীতিমালায় সাত সদস্যবিশিষ্ট বাছাই কমিটির গঠন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই কমিটির সুপারিশ ছাড়া কোনো পদে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া যাবে না। নিয়োগের সময় বেতন‑ভাতা, দায়িত্ব ও অন্যান্য শর্ত স্পষ্ট করে নিয়োগপত্র প্রদান করা হবে।

নতুন নীতিতে মসজিদ নিরাপত্তা ও পরিষ্কার‑পরিচ্ছন্নতার জন্য নতুন পদও সৃষ্টি করা হয়েছে। নিরাপত্তা প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদ যোগ করে মসজিদের পরিবেশ ও নিরাপত্তা উন্নত করা হবে। একই সঙ্গে নারীদের জন্য শারিয়াত‑সম্মতভাবে পৃথক নামাজের কক্ষ বা স্থান নিশ্চিত করার দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এই নীতিমালা মসজিদ কর্মীদের বেতন ও福利কে আধুনিক সরকারি কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার পাশাপাশি তাদের কর্মপরিবেশ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রাখে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা উন্নত করার এই পদক্ষেপকে সরকার ভবিষ্যতে অন্যান্য ধর্মীয় সংস্থায়ও প্রয়োগের সম্ভাবনা দেখছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, মসজিদ কর্মীদের বেতন কাঠামোতে এই পরিবর্তন সরকারকে ধর্মীয় কর্মীদের প্রতি সমর্থন ও স্বীকৃতি প্রদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, এই নীতি ধর্ম‑সংঘাতের ঝুঁকি কমিয়ে সামাজিক সাদৃশ্য বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।

নতুন নীতিমালার বাস্তবায়ন পরবর্তী মাসে শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটি নীতির ধারা অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ত্বরান্বিত হবে। সরকার এই নীতির মাধ্যমে ধর্মীয় কর্মীদের কর্মপরিবেশ উন্নত করে দেশের সামগ্রিক মানবসম্পদ নীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে চায়।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments