জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক পদে পরিবর্তন ঘটেছে; পূর্বে আফসানা বেগমকে সরিয়ে কবি-প্রবন্ধকার এচিএম সাখাওয়াত উল্লাহ টিপুকে চুক্তিভিত্তিকভাবে নিয়োগ করা হয়েছে। পরিবর্তনটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২০ জানুয়ারি মঙ্গলবার জানানো হয়। আইনগত ভিত্তি হিসেবে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র আইন, ১৯৯৫ এর ধারা‑১০(২) উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে অন্য কোনো সরকারি, আধা‑সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্মসম্পর্ক ত্যাগের শর্তে নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, টিপুকে যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের মেয়াদে পরিচালক পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হবে এবং চুক্তিপত্রে অন্যান্য শর্ত নির্ধারিত হবে। এই শর্তাবলী মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ মামুন শিবলীর স্বাক্ষরে প্রকাশিত হয়েছে এবং আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
টিপু himself স্ট্রিমকে জানিয়েছেন যে তিনি এখন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে চুক্তিপত্রের বিস্তারিত শর্তাবলী পরবর্তীতে জানানো হবে এবং তিনি দায়িত্ব পালনকালে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
আফসানা বেগমের ক্ষেত্রে, তিনি সেপ্টেম্বর ২০২৪-এ দুই বছরের মেয়াদে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। সেই সময়ের প্রজ্ঞাপনে একই শর্ত উল্লেখ করা হয়েছিল, অর্থাৎ তিনি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্মসম্পর্ক ত্যাগের শর্তে এই পদে আসবেন। তবে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে তার নিয়োগ বাতিল করা হয়।
বাতিলের খবর পাওয়ার আগে আফসানা বেগম কক্সবাজারে চার দিনের প্রশিক্ষণসূচি সম্পন্ন করার জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে গিয়েছিলেন। প্রশিক্ষণটি বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি শেষ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু মঙ্গলবার রাতে মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর তিনি ঢাকা ফিরে আসেন।
আফসানা বেগম স্ট্রিমকে জানিয়েছেন, “আমাকে আগে কিছুই জানানো হয়নি। একটা প্রশিক্ষণের জন্য সোমবার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে কক্সবাজার যাই আমি। প্রশিক্ষণ ছিল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। প্রজ্ঞাপন জারির পরে সকালে ঢাকা ফিরেছি।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমাকে কী কারণে বাদ দেওয়া হলো তা জানি না। এটি আমার জন্য আকস্মিক। আমি আমার দায়িত্বকালে সাধ্যমতো কাজ করার চেষ্টা করেছি।” তার মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে তিনি সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ সম্পর্কে অবহিত নন।
প্রজ্ঞাপনের স্বাক্ষরকারী মোহাম্মদ মামুন শিবলীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তবে তিনি সিদ্ধান্তের কারণ বা প্রক্রিয়া সম্পর্কে কোনো অতিরিক্ত ব্যাখ্যা দেননি। মন্ত্রণালয়ের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে নতুন নিয়োগের শর্তাবলী চুক্তিপত্রে নির্ধারিত হবে, যা এখনো প্রকাশিত হয়নি।
এই পরিবর্তনটি জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালনায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনতে পারে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদিও সরকার কোনো মন্তব্য করেনি। টিপুর সাহিত্যিক পটভূমি ও পূর্বের প্রকাশনা কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রের নীতি ও কার্যক্রমে পরিবর্তন আনা সম্ভব।
অন্যদিকে, আফসানা বেগমের অপ্রত্যাশিত পদত্যাগের ফলে কেন্দ্রের চলমান প্রকল্প ও কর্মসূচিতে সাময়িক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। তার প্রশিক্ষণকালে চলমান কার্যক্রমের দায়িত্ব কীভাবে হস্তান্তর করা হবে, তা মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী নির্দেশে স্পষ্ট হবে।
জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের ভবিষ্যৎ পরিচালনা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সম্ভবত নতুন চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের শর্তাবলী প্রকাশ করবে এবং কেন্দ্রের কাঠামো পুনর্গঠন করবে। এই প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বয় ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সংক্ষেপে, ২০ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী আফসানা বেগমের পরিচালক পদ থেকে অব্যাহতি এবং এচিএম সাখাওয়াত উল্লাহ টিপুকে চুক্তিভিত্তিকভাবে নতুন পরিচালক হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তনটি কেন্দ্রের কার্যক্রমে নতুন দিকনির্দেশনা আনতে পারে, তবে তা বাস্তবায়নে সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া এবং অতিরিক্ত নির্দেশের প্রয়োজন হবে।



