কমলা-৪ আসন থেকে বিএনপি প্রার্থী মনজুরুল আহসান মুন্সির মনোনয়ন বাতিলের বিষয়ে উচ্চ আদালত আজ ইলেকশন কমিশনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে। ঢাকা হাইকোর্টের বিচারক রজিক‑আল‑জালিল ও মো. আনোয়ারুল ইসলাম সমন্বিত বেঞ্চে মনজুরুলের লিখিত পিটিশন প্রত্যাখ্যান করে, যা ইসির পূর্ববর্তী পদক্ষেপের বিরোধিতা করছিল।
ইলেকশন কমিশন ১৭ জানুয়ারি মনজুরুলের মনোনয়ন রদ করে এবং ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহকে নির্বাচনী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই সিদ্ধান্তটি কমলা-৪ আসনের দুইটি আপিল শোনার পর নেওয়া হয়, যা এজারগাঁও, ঢাকা অবস্থিত কমিশনের সদর দফতরে অনুষ্ঠিত হয়। এই শোনাগুলি ১৩তম জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে মনোনয়ন বাতিল সংক্রান্ত আটটি শুনানির এক অংশ ছিল, যা ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ভোটের প্রস্তুতি হিসেবে চালু হয়েছে।
কমিশনের মতে, হাসনাতের আপিলে উল্লেখ করা হয়েছে যে মনজুরুল ঋণ ডিফল্টের অভিযোগে জড়িত এবং তিনি মনোনয়ন পত্রে প্রাসঙ্গিক তথ্য গোপন করেছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ইসি মনজুরুলের প্রার্থীতা বাতিল করে এবং হাসনাতের আবেদন গ্রহণ করে।
প্রাথমিকভাবে, কমলা-৪ের রিটার্নিং অফিসার মনজুরুলের মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করেছিল, যা পর্যালোচনার পর নিশ্চিত করা হয়েছিল। তবে হাসনাতের আপিলের ফলে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হয়। একই সময়ে, মনজুরুলও হাসনাতের মনোনয়নের বিরোধে একটি কন্ট্রা‑আপিল দায়ের করে, যেখানে তিনি যুক্তি দেন যে হাসনাতের অফিডেভিটে আয় ও ব্যয়ের বিশদ তথ্য অনুপস্থিত।
ইলেকশন কমিশন উভয় আপিলের পর্যালোচনা করে এবং শেষ পর্যন্ত মনজুরুলের কন্ট্রা‑আপিল প্রত্যাখ্যান করে, ফলে হাসনাতের প্রার্থীতা নিশ্চিত হয়। এই রায়ের পর, উচ্চ আদালত ইসির সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে, যা মনজুরুলের পিটিশনকে বাতিল করে।
এই রায়ের ফলে ১৩তম জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কমলা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনজুরুলের অংশগ্রহণ শেষ হওয়ায়, পার্টির নির্বাচনী কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে হবে। অন্যদিকে, এনসিপি প্রার্থী হাসনাতের উপস্থিতি নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নতুন গতিবিধি আনতে পারে।
নির্বাচনী কমিশনের সিদ্ধান্ত এবং উচ্চ আদালতের সমর্থন উভয়ই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। তবে এই রায়ের পরবর্তী ধাপ হিসেবে উভয় প্রার্থীর দলীয় নেতৃত্বের কাছ থেকে পরবর্তী পদক্ষেপের ঘোষণা প্রত্যাশিত।
কমলা-৪ আসনের ভোটাররা এখন নির্ধারিত তারিখে, ১২ ফেব্রুয়ারি, তাদের ভোট প্রদান করবে, যেখানে বিএনপি, এনসিপি এবং অন্যান্য দলীয় প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। নির্বাচনের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।



