জাতীয় প্রেস ক্লাবের সম্মেলন কক্ষে আজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের নেটওয়ার্ক দুইজন শিক্ষককে পুনর্বহাল করার তাত্ক্ষণিক দাবি জানায়। নেটওয়ার্কের প্রতিনিধিরা লিখিত বিবৃতি উপস্থাপন করে, যা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক নেওয়া পদক্ষেপকে ‘মবের হুমকির সামনে আত্মসমর্পণ’ এবং ‘শিক্ষা স্বাধীনতা ও যথাযথ প্রক্রিয়ার লঙ্ঘন’ বলে উল্লেখ করেছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইউএপি (ইউনিভার্সিটি অফ এশিয়া প্যাসিফিক) থেকে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক লায়েকা বাশির এবং সহকারী অধ্যাপক, বিভাগীয় প্রধান ও পূর্বে ছাত্র কল্যাণ দিকনির্দেশকের দায়িত্বে থাকা এএসএম মোহসিনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। উভয় শিক্ষকের পদত্যাগের কারণ নিয়ে নেটওয়ার্ক স্পষ্টভাবে প্রশ্ন তুলেছে।
নেটওয়ার্কের চারটি মূল দাবি হল: প্রথমত, উভয় শিক্ষকের অবিলম্বে পুনর্বহাল; দ্বিতীয়ত, সিদ্ধান্তের বিরোধী শিক্ষক ও ছাত্রদের ওপর চলমান হয়রানি বন্ধ; তৃতীয়ত, সংগঠিত হুমকি ও মিথ্যা অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি; এবং চতুর্থত, বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির নিরাপত্তা, যথাযথ প্রক্রিয়া ও একাডেমিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য স্পষ্ট নীতি প্রণয়ন।
বিবৃতি অনুযায়ী, এই বরখাস্তের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চলমান এক প্রবণতার নতুন উদাহরণ। নেটওয়ার্কের মতে, শিক্ষকদের স্বাধীনভাবে গবেষণা ও মত প্রকাশের অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলা হলে শিক্ষার গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
লায়েকা বাশিরের ক্ষেত্রে, একটি ফেসবুক পোস্টের পরেই তার বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরু হয়। নেটওয়ার্কের বিবরণে বলা হয়েছে, পোস্টটি নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ থেকে লেখা হয়েছিল, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নয়। তবে কিছু বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্র পোস্টটিকে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা আঘাতকারী হিসেবে ব্যাখ্যা করে, এবং অনামিক ও নকল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অনলাইন হয়রানি চালায়।
লায়েকা পোস্টের পর স্পষ্টীকরণ প্রকাশ করলেও, তাকে অব্যাহত চাপের মুখে ফেলা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, সূত্র অনুযায়ী, তাকে ফোনের মাধ্যমে পদত্যাগের অনুরোধ করে। এই অনুরোধের ফলে লায়েকা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে তেজগাঁও থানা-তে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দাখিল করে।
ডায়েরি দাখিলের পর, বিশ্ববিদ্যালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তবে নেটওয়ার্কের প্রতিনিধিরা কমিটির কাজের পদ্ধতি নিয়ে সমালোচনা করেন, কারণ অভিযোগ সংগ্রহের জন্য গুগল ফর্ম ব্যবহার করা হয় এবং প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার থেকে দূরে বলে তারা দাবি করেন।
তদন্ত কমিটির কার্যক্রমের অস্বচ্ছতা এবং ফোনে সরাসরি পদত্যাগের অনুরোধকে নেটওয়ার্কের সদস্যরা ‘ভয় দেখিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া’ হিসেবে উল্লেখ করে। তারা জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষকেরা যদি নিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে না পারে, তবে শিক্ষার মানই হ্রাস পাবে।
এই ঘটনার পর, নেটওয়ার্ক একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়কে একই ধরনের নীতি প্রণয়নের আহ্বান জানায়, যাতে ভবিষ্যতে অনধিকারিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা কমে। তারা বিশেষ করে শিক্ষকদের চাকরির সুরক্ষা, ন্যায্য শৃঙ্খলা প্রক্রিয়া এবং একাডেমিক স্বাধীনতা রক্ষার জন্য স্পষ্ট নির্দেশিকা চায়।
শিক্ষা ক্ষেত্রের এই ধরনের ঘটনা শিক্ষার্থীদেরও প্রভাবিত করে, কারণ তারা শিক্ষকেরা যদি স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে না পারে, তবে শিক্ষার গুণগত মান ও সমালোচনামূলক চিন্তাধারা বিকাশে বাধা পায়। তাই শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়েরই নিরাপদ ও স্বচ্ছ পরিবেশে কাজ করার অধিকার রয়েছে।
পাঠকদের জন্য ব্যবহারিক পরামর্শ: যদি কোনো শিক্ষার্থী বা শিক্ষক অনলাইন হয়রানির শিকার হন, তবে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় অভিযোগ দায়ের করুন এবং প্রমাণ সংরক্ষণ করুন। এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ প্রক্রিয়া ব্যবহার করে ন্যায়বিচার দাবি করা দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার সমাধানে সহায়ক হতে পারে।



