চিরিরবন্দর উপজেলার কৃষি অফিসের তত্ত্বাবধানে রঙিন ফুলকপি চাষের নতুন উদ্যোগে স্থানীয় কৃষকরা উচ্চ দামের বাজারের সুবিধা পাচ্ছেন। ১৬টি স্কোয়াশ ও ৬টি রঙিন ফুলকপি প্রদর্শনী গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে বহু কৃষকই এই উচ্চমূল্যের সবজি উৎপাদনে যুক্ত।
রঙিন ফুলকপি স্বাভাবিক সাদা ফুলকপির তুলনায় ক্যারোটিনের পরিমাণে ২৫ শতাংশের বেশি ধারণ করে, যা ত্বক ও দৃষ্টিশক্তির জন্য উপকারী বলে জানা যায়। এই পুষ্টিকর বৈশিষ্ট্যই বাজারে এর চাহিদা বাড়িয়ে তুলেছে।
কৃষকরা বছরের বিভিন্ন ঋতুতে সবজি চাষের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে রঙিন ফুলকপি উৎপাদন করছেন। তারা কীটনাশক ব্যবহার না করে কেবল জৈব সার দিয়ে চাষাবাদ চালিয়ে যান, ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়া পরিবেশবান্ধব এবং গ্রাহকের স্বাস্থ্যের প্রতি দায়িত্বশীল।
চারা রোপণের পর ৭০ থেকে ৭৫ দিনের মধ্যে গাছের ফুল ফোটে, যা দ্রুত ফলন নিশ্চিত করে। বর্তমানে এই ফুলকপি স্থানীয় বাজারে বিক্রি হচ্ছে, যেখানে সাদা ফুলকপির দাম ৩০ টাকা প্রতি কেজি, আর রঙিন ফুলকপির দাম ৫০ টাকা প্রতি কেজি।
উচ্চ দামের কারণে রঙিন ফুলকপি দ্রুত বিক্রি হয়ে যায়, এবং কৃষকরা ইতিমধ্যে উৎপাদন খরচ পূরণ করেছেন। তারা আরও কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকা মূল্যের বিক্রয় লক্ষ্য করছেন, যা আয়ের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
চিরিরবন্দর উপজেলার কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ৩২০ শতক জমিতে ১৬টি স্কোয়াশ এবং ১৮০ শতক জমিতে ৬টি রঙিন ফুলকপি প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়েছে। এই ক্ষেত্রগুলোতে স্থানীয় কৃষকদের নতুন আবাদ পদ্ধতি শিখতে সুযোগ মিলেছে।
রঙিন ফুলকপি চাষে যুক্ত কৃষকদের মধ্যে রয়েছে অমরপুর ইউনিয়নের ছোট হাশিমপুর গ্রাম থেকে পুলক রায়, আউলিয়াপুকুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রাম থেকে ভবতোষ রায়, ভিয়াইল ইউনিয়নের জয়পুর গ্রাম থেকে জুলেখা খাতুন এবং তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের সিংগানগর গ্রাম থেকে চিত্ররঞ্জন।
স্কোয়াশ চাষে সক্রিয় কৃষকদের মধ্যে সাতনালা ইউনিয়নের জোত সাতনালা গ্রাম থেকে রেজাউল হক, ফতেজংপুর ইউনিয়নের ফতেজংপুর গ্রাম থেকে মহসিন আলী ও নাছিমা বেগম, ইসবপুর ইউনিয়নের দক্ষিণনগর গ্রাম থেকে মনতাজুল হক, অমরপুর ইউনিয়নের অমরপুর গ্রাম থেকে রুবেল ইসলাম, ভিয়াইল ইউনিয়নের জয়পুর গ্রাম থেকে মর্জিনা বেগম, পুনট্টি ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর গ্রাম থেকে আয়েশা সিদ্দিকা এবং তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের গোন্দল গ্রাম থেকে গজেন্দ্র নাথ রায় অন্তর্ভুক্ত।
চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি অফিসার জোহরা সুলতানা জানান, দিনাজপুর অঞ্চলের টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এই প্রদর্শনী গুলো চালু করা হয়েছে। প্রকল্পের লক্ষ্য উচ্চমূল্যের সবজি যেমন স্কোয়াশ, ব্রকোলি ও রঙিন বাঁধাকপি চাষের প্রযুক্তি কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
রঙিন ফুলকপি সাদা ফুলকপির তুলনায় পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং বাজারে তার দামও বেশি, যা গ্রাহকদের নতুন পছন্দের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এই প্রবণতা যদি ধারাবাহিক থাকে, তবে স্থানীয় কৃষকদের আয় বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষি খাতের মূল্য সংযোজন বাড়বে।
বাজারে রঙিন ফুলকপির দ্রুত বিক্রয় এবং উচ্চ দামের গঠন নতুন সবজি হিসেবে কৃষকদের জন্য একটি লাভজনক সুযোগ তৈরি করেছে। তবে উৎপাদন বাড়াতে জৈব সার ও সেচের যথাযথ ব্যবস্থাপনা, পাশাপাশি বাজারের চাহিদা সঠিকভাবে পূর্বাভাস দেওয়া প্রয়োজন।
প্রদর্শনী ভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও কৃষি বিভাগের পরামর্শের ফলে কৃষকরা উৎপাদন দক্ষতা বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের উচ্চমূল্যের সবজির চাষকে সম্প্রসারিত করলে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং রপ্তানির সম্ভাবনাও উন্মোচিত হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, চিরিরবন্দরে রঙিন ফুলকপি চাষের সফলতা বাজারের উচ্চ দামের সঙ্গে যুক্ত, যা কৃষকদের আয় বাড়াচ্ছে এবং টেকসই কৃষি প্রকল্পের সমর্থনে নতুন ব্যবসায়িক মডেল গড়ে তুলছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে কৃষি খাতে বিনিয়োগের আকর্ষণ বাড়বে এবং গ্রামীণ উন্নয়নে নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি হবে।



