ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা, নির্বাচনী আপিল মঞ্জুরের পর ফুটবলকে নিজের প্রতীক হিসেবে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। শনিবার দুপুরে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশনের অফিসে আপিলের অনুমোদন পাওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তাসনিম জানান, আপিলের স্বীকৃতির ফলে তার প্রার্থিতা এখন বৈধ এবং তিনি প্রতীকের জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করবেন।
নির্বাচন কমিশন তার আপিল মঞ্জুরের পর তাসনিমের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্রকে বৈধ ঘোষণা করেছে। এই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে তিনি এখন প্রতীক বরাদ্দের জন্য কমিশনের কাছে আবেদন করতে চান, যার মধ্যে তার পছন্দের প্রতীক ফুটবল। তাসনিমের মতে, ফুটবল প্রতীক তার রাজনৈতিক পরিচয়কে শক্তিশালী করবে এবং ভোটারদের কাছে সহজে চেনা যাবে।
প্রতীক আবেদন করার আগে, তাসনিমের প্রার্থিতা একবার বাতিলের মুখে পড়েছিল। ৩ জানুয়ারি, ঢাকা-৯ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্রের বৈধতা যাচাই করার সময় ভোটারদের স্বাক্ষরের তালিকায় অসঙ্গতি লক্ষ্য করেন। নির্দিষ্টভাবে, এক শতাংশ স্বাক্ষরের তালিকায় দশজনের মধ্যে দুজনের তথ্যের গরমিল পাওয়া গিয়েছিল, যা প্রার্থিতার বাতিলের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
বাতিলের পর তাসনিম তৎক্ষণাৎ আপিল দায়ের করেন এবং শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন তার আপিল মঞ্জুর করে। এই মঞ্জুরের ফলে তার প্রার্থিতা পুনরুদ্ধার হয়েছে এবং এখন তিনি প্রতীক সংক্রান্ত প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তাসনিমের এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তার নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছেন, যেখানে তিনি প্রতীকের মাধ্যমে ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে চান।
প্রতিদ্বন্দ্বীরা এখন তাসনিমের প্রতীক নির্বাচনের দিকে নজর দিচ্ছেন। ঢাকা-৯ আসনে অন্যান্য পার্টির প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তাদের নিজস্ব প্রতীক নির্ধারণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ফলে প্রতীকের নির্বাচন এই নির্বাচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে। তাসনিমের ফুটবল প্রতীক নির্বাচনের ফলাফলে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনো অনিশ্চিত, তবে তার স্পষ্ট ইচ্ছা প্রকাশের মাধ্যমে তিনি ভোটারদের কাছে নিজের পরিচয় স্পষ্ট করতে চেয়েছেন।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলতে থাকায়, তাসনিমের প্রতীক আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন সাধারণত প্রতীক বরাদ্দের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে, এবং তাসনিমের আবেদন সেই সময়সীমার মধ্যে জমা দিতে হবে। যদি তার আবেদন গৃহীত হয়, তবে ফুটবল প্রতীক তার প্রচারণা সামগ্রীর উপর প্রধান চিত্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
এই ঘটনার পর, তাসনিমের দল নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা ভোটার সংযোগ, সামাজিক মিডিয়া ক্যাম্পেইন এবং মাঠে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে ভোটারদের সমর্থন অর্জনের পরিকল্পনা করেছে। তাসনিমের ফুটবল প্রতীক ব্যবহার করে তিনি ক্রীড়া প্রেমিক এবং যুব ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য রাখছেন, যা তার ভোটার ভিত্তি বিস্তৃত করার একটি কৌশল হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, তাসনিম জারার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পুনরুদ্ধার এবং ফুটবল প্রতীক চাওয়া তার রাজনৈতিক অবস্থানকে দৃঢ় করার একটি পদক্ষেপ। নির্বাচন কমিশনের আপিল মঞ্জুর এবং প্রার্থিতার বৈধতা তার জন্য নতুন সুযোগ এনে দিয়েছে, এবং এখন তিনি প্রতীক সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে, ঢাকা-৯ আসনের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিবিধি দেখা যাবে, যা আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।



