ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাষ্ট্রপতি বিমান, এয়ার ফোর্স ওয়ান, সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের জন্য রওনা হওয়ার পরই ছোটো বৈদ্যুতিক সমস্যার কারণে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে ফিরে আসতে বাধ্য হয়। হোয়াইট হাউসের মতে, বিমানটি লঞ্চের কিছু মুহূর্তের মধ্যে প্রেস ক্যাবিনের আলো সাময়িকভাবে নিভে যায় এবং তাৎক্ষণিকভাবে মেরামতের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
বিমানটি অল্প সময়ের মধ্যে মেরামত না হওয়ায়, ট্রাম্পকে অন্য একটি বিমান ব্যবহার করে সুইজারল্যান্ডে পাঠানো হয়। মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি স্থানীয় সময় সকাল ১০ টায় (GMT ৯ টা) ডাভোসে পৌঁছানোর কথা ছিল, তবে এই অপ্রত্যাশিত ঘটনার ফলে তার আগমন প্রায় তিন ঘণ্টা দেরি করে। ডাভোসে তার বক্তৃতা ১৪:৩০ (GMT ১৩:৩০) নির্ধারিত, তবে দেরি তার পরবর্তী বৈঠক ও ব্যবসায়িক রিসেপশনের সময়সূচিতে কী প্রভাব ফেলবে তা স্পষ্ট নয়।
এয়ার ফোর্সের বর্তমান যাত্রীবাহী ফ্লিটে দুটি Boeing 747‑200B সিরিজের বিমান রয়েছে, যেগুলি ১৯৯০ সাল থেকে সেবা দিচ্ছে। যদিও এই বিমানগুলো বহুবার আধুনিকীকরণ করা হয়েছে, তবু ফ্রেম ও ইঞ্জিনের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ক্রমশ বাড়ছে। ট্রাম্প পূর্বে এই ধরনের বিমান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং তার প্রশাসন ২০২২ সালে নতুন বিমান সরবরাহে ধারাবাহিক দেরি হওয়ায় বিকল্প অনুসন্ধানের কথা জানিয়েছিল।
মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রকে কাতার থেকে $৪০০ মিলিয়ন (প্রায় £৩০১ মিলিয়ন) মূল্যের Boeing 747‑8 উপহার হিসেবে গ্রহণের জন্য সমালোচনা করা হয়। হোয়াইট হাউসের মতে, উপহারটি কোনো শর্তবদ্ধতা ছাড়া গ্রহণ করা বৈধ এবং ভবিষ্যতে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি শেষ হলে এই বিমানটি তার প্রেসিডেন্সি লাইব্রেরিতে দান করা হবে।
ডাভোসে ট্রাম্পের বক্তৃতা গ্রীনল্যান্ডের অধিগ্রহণের বিষয়ে ইউরোপীয় নেতাদের উদ্দেশ্যে হবে বলে জানা যায়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রীনল্যান্ডের অধিগ্রহণ অপরিহার্য বলে দাবি করে আসছেন এবং সামরিক শক্তি ব্যবহার করার সম্ভাবনাও বাদ দিচ্ছেন না। গ্রীনল্যান্ডের সরকার ও ন্যাটো এই দাবিকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিমান সমস্যার ফলে ট্রাম্পের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসলেও, তার ডাভোস সফর এবং গ্রীনল্যান্ড সংক্রান্ত বক্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। ডাভোসে তার উপস্থিতি এবং পরবর্তী বৈদেশিক নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ তার নীতি ও কূটনৈতিক অবস্থানকে পুনরায় নির্ধারণের সুযোগ দেবে। দেরি সত্ত্বেও, ট্রাম্পের দল আশা করে যে তিনি নির্ধারিত সময়ে মূল বক্তৃতা দিতে পারবেন এবং পরবর্তী আলোচনায় গ্রীনল্যান্ড বিষয়টি কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে থাকবে।
এই ঘটনার পর, এয়ার ফোর্স ওয়ান-এর রক্ষণাবেক্ষণ ও আপডেটের প্রয়োজনীয়তা পুনরায় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ভবিষ্যতে বিমান বহরের আধুনিকীকরণ ও বিকল্প বিক্রেতা অনুসন্ধানের দিকে মনোযোগ বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে, ট্রাম্পের গ্রীনল্যান্ড সংক্রান্ত দাবির আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এবং ডাভোসে তার বক্তৃতার প্রভাবও নিকট ভবিষ্যতে পর্যবেক্ষণ করা হবে।



