২১ জানুয়ারি বুধবার সকালবেলা মেহেরপুরের চকশ্যামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘শিশুবরণ’ নামক একটি উৎসবের আয়োজন করা হয়। মানব উন্নয়ন কেন্দ্র (মউক) এবং গণসাক্ষরতা অভিযানের সমন্বয়ে এই অনুষ্ঠানটি স্কুলের প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়।
উৎসবের মূল উদ্দেশ্য ছিল নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের স্কুল জীবনের প্রথম দিনকে আনন্দময় ও স্মরণীয় করে তোলা। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও সমবায়ের অনুভূতি গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
মানব উন্নয়ন কেন্দ্রের উদ্যোগে এবং গণসাক্ষরতা অভিযানের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি পরিকল্পনা করা হয়। উভয় সংস্থার প্রতিনিধিরা এই কার্যক্রমকে স্থানীয় শিক্ষার উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করেন।
উৎসবের প্রথম অংশে নতুন ভর্তি শিক্ষার্থীদের ফুলের মালা ও স্নেহপূর্ণ স্বাগত জানানো হয়। শিক্ষার্থীদের হাতে রঙিন ফুল ও মিষ্টি প্রদান করে তাদের মুখে হাসি ফুটিয়ে তোলা হয়। এই ছোট্ট অঙ্গভঙ্গি তাদের নতুন পরিবেশে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতে সাহায্য করে।
ফুলের মালা এবং মিষ্টি বিতরণে শিক্ষার্থীরা উল্লাসে ভরে ওঠে। শিশুরা আনন্দের সাথে উপহার গ্রহণ করে এবং একে অপরকে শুভেচ্ছা জানায়। এই মুহূর্তটি স্কুলের সামগ্রিক পরিবেশকে উজ্জ্বল করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, শিক্ষার্থীর অভিভাবকগণ এবং মানব উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সকলের সমন্বিত উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করেছে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সমর্থনমূলক পরিবেশ তৈরি করেছে।
উৎসবের দ্বিতীয় পর্যায়ে ছোট শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। নাচ, গান এবং নাটকের মাধ্যমে শিশুরা তাদের সৃজনশীলতা প্রকাশ করে। এই সাংস্কৃতিক সেশনটি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
শিশুরা যখন নাচে ও গানে মেতে উঠেছিল, তখন উপস্থিত সকলের মুখে আনন্দের হাসি ছড়িয়ে পড়ে। দর্শকরা তাদের পারফরম্যান্সকে উল্লাসের সঙ্গে গ্রহণ করে এবং প্রশংসা করে। এই ধরনের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া শিক্ষার্থীদের আত্মপ্রকাশে উৎসাহ যোগায়।
অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষাসামগ্রী এবং আকর্ষণীয় উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। বই, রঙিন পেন্সিল, নোটবুক ইত্যাদি উপকরণ তাদের শিক্ষার পথে সহায়ক হবে। উপহারগুলো শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ও শেখার ইচ্ছা জাগিয়ে তুলতে লক্ষ্য রাখে।
এই শিশুবরণ উৎসবটি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হিসেবে রয়ে যাবে। প্রথম দিন থেকেই এমন উষ্ণ স্বাগত ও সমর্থন তাদের স্কুল জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলবে।
শিক্ষা সংক্রান্ত কার্যক্রমে অভিভাবক ও শিক্ষকগণ কীভাবে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারেন, তা নিয়ে ভাবা জরুরি। আপনার সন্তান বা শিক্ষার্থীর জন্য এমন কোনো উদ্যোগের পরিকল্পনা আছে কি? মন্তব্যে আপনার মতামত শেয়ার করুন।



