গতকাল, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০টি আসন ত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেও, নরসিংদী‑২, চট্টগ্রাম‑৮, সিরাজগঞ্জ‑৬ ও নারায়ণগঞ্জ‑৪ আসনে তার প্রার্থীরা এখনও নাম প্রত্যাহার করেননি। এই পরিস্থিতি জোটের অভ্যন্তরে আলোচনা ও সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তুলেছে।
এনসিপি, যা দশটি দল নিয়ে গঠিত জোটের অংশ, ত্যাগের ঘোষণার পরেও কিছু আসনে তার প্রার্থী তালিকা বজায় রেখেছে। নরসিংদী‑২ আসনে এনসিপির প্রার্থী মো. গোলাম সারোয়ার (সারোয়ার তুষার) ছিলেন, আর চট্টগ্রাম‑৮ আসনে মো. জোবাইরুল হাসান আরিফ নামের প্রার্থী তালিকায় ছিলেন। সিরাজগঞ্জ‑৬ ও নারায়ণগঞ্জ‑৪ আসনে যথাক্রমে এস এম সাইফ মোস্তাফিজ এবং আবদুল্লাহ আল আমিন নামের প্রার্থীরা এনসিপির প্রতিনিধিত্ব করছিলেন।
নরসিংদী‑২ আসনে, জোটের নেতৃত্বাধীন প্রার্থী আমজাদ হোসাইনকে তার নিজ বাসায় দলীয় কর্মীরা আটকে রাখে, ফলে তিনি শেষ মুহূর্তে নাম প্রত্যাহার করতে পারেননি। ঘটনাটির পর, হোসাইন কোনো আনুষ্ঠানিক প্রত্যাহার পত্র জমা দেননি এবং তার উপস্থিতি বজায় রেখেছেন।
চট্টগ্রাম‑৮ আসনে, জোটের অন্যান্য প্রার্থীরা প্রত্যাহার পত্র জমা করার পরেও, জোটের প্রার্থী মো. আবু নাছের নামের পত্র এখনও জমা হয়নি। তিনি শেষ সময়ে নাম প্রত্যাহার না করার সিদ্ধান্ত নেন। একই সময়ে, চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাটে একটি রেস্তোরাঁয় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে, এনসিপির প্রার্থী ঘটনাটিকে ‘অনভিপ্রেত’ বলে উল্লেখ করেন।
সিরাজগঞ্জ‑৬ ও নারায়ণগঞ্জ‑৪ আসনে জোটের অন্যান্য দলও নাম প্রত্যাহার না করার অবস্থায় রয়েছে। সিরাজগঞ্জ‑৬ আসনে এ বি পার্টির প্রার্থী এবং নারায়ণগঞ্জ‑৪ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী প্রত্যাহার পত্র জমা করেননি। ফলে, এই দুই আসনে জোটের অভ্যন্তরে সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এছাড়া, এনসিপির দুজন প্রার্থী—শরীয়তপুর‑১ ও শেরপুর‑১—ও জোটের ত্যাগকৃত দুইটি আসনে নাম প্রত্যাহার করেননি। এনসিপির একজন দায়িত্বশীল নেতা উল্লেখ করেন যে, প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ে প্রত্যাহার করতে গিয়ে বাধা পেয়েছেন এবং পরে আবারও পত্র জমা করতে পারেননি।
প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করা আসনগুলো নিয়ে এনসিপি জোটের অন্যান্য শারিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। জোটের নেতৃত্বের দৃষ্টিকোণ থেকে, প্রত্যাহার না করা প্রার্থীদের অবস্থান সমন্বয় করা এবং একমত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো জরুরি বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই আলোচনার ফলাফল নির্বাচনী কৌশল ও জোটের ঐক্যকে প্রভাবিত করতে পারে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, যদি জোটের শারিক দলগুলো প্রত্যাহার না করা প্রার্থীদের সমর্থন না করে, তবে জোটের ভোটভাগে ক্ষতি হতে পারে। অন্যদিকে, প্রার্থীদের প্রত্যাহার না করা জোটের মধ্যে স্বায়ত্তশাসনের ইঙ্গিতও হতে পারে, যা ভবিষ্যতে জোটের গঠন ও সমন্বয়কে জটিল করে তুলতে পারে।
নির্বাচনের শেষ দিন পর্যন্ত এই বিষয়গুলো সমাধান না হলে, জোটের ভোটাভুটি কৌশল ও ফলাফল উভয়ই অনিশ্চিত রয়ে যাবে। জোটের নেতৃত্বের কাছ থেকে স্পষ্ট পদক্ষেপের প্রত্যাশা বাড়ছে, যাতে ভোটারদের কাছে জোটের ঐক্য ও সমন্বয় স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা যায়।
সারসংক্ষেপে, এনসিপি ত্যাগের পরেও চারটি আসনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করা পরিস্থিতি জোটের অভ্যন্তরে সমন্বয়হীনতা ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের সূচক। এই বিষয়গুলো সমাধান করা না হলে, নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব পড়তে পারে এবং জোটের ভবিষ্যৎ গঠনেও প্রভাব ফেলতে পারে।



