ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে বুধবার সকাল ১১টায় ‘গণতন্ত্র অলিম্পিয়াড’ নামের একটি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল নাগরিক অংশগ্রহণ, গণতান্ত্রিক সংস্কার এবং স্বচ্ছ নির্বাচনের বিষয়ে নতুন ভোটারদের সচেতন করা। ইভেন্টটি সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির তত্ত্বাবধানে আয়োজন করা হয়।
প্রতিযোগিতার অংশগ্রহণকারীরা ১৮ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের ২৫০ জন নতুন ভোটার, যারা সম্প্রতি ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছেন। তারা বিভিন্ন ধরণের প্রশ্নোত্তর ও দলগত কাজের মাধ্যমে গণতন্ত্রের মৌলিক নীতি ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে। অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা ভোটার হিসেবে তাদের দায়িত্ব ও অধিকার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পায়।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি আব্দুল মান্নান সরকারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ এ. জে. এম. আরিফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি ডিস্ট্রিক্ট ফ্যাসিলিটেটর ফাহিম মুনতাসিরের স্বাগত বক্তব্যে শুরু হয়, যেখানে তিনি এই ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক, অধ্যাপক এ. কে. এম. শিবলীও স্বাগত জানিয়ে অংশগ্রহণকারীদের প্রশংসা করেন।
প্রধান বক্তা হিসেবে জাতীয় কমিটির সদস্য একরাম হোসেনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তিনি গণতন্ত্রের মূল নীতি, স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং নাগরিকের সক্রিয় ভূমিকা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেন। তার বক্তব্যে বিশেষভাবে নতুন ভোটারদের জন্য তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা জোর দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্তভাবে কলেজের উপাধ্যক্ষ শামীম আহমেদ, সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম ও আবু হোরায়রা, সাংগঠনিক সম্পাদক দীপ রায়, জেলা খেলাঘর সাধারণ সম্পাদক নিহার রঞ্জন সরকার, নির্বাহী কমিটির সদস্য ইস্কান্দর মির্জা এবং মুক্তিযোদ্ধা মতি লাল বণিকও বক্তব্য রাখেন। প্রত্যেকেই গণতান্ত্রিক সংস্কার ও নাগরিক সচেতনতায় তাদের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করেন, যা অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রেরণাদায়ক ছিল।
প্রতিযোগিতার সমাপ্তিতে বিজয়ী দল ও ব্যক্তিদের হাতে ক্রেস্ট, মেডেল এবং সনদ প্রদান করা হয়। পুরস্কারগুলো শুধুমাত্র সম্মানের প্রতীক নয়, বরং ভবিষ্যতে সক্রিয় ভোটার হিসেবে তাদের দায়িত্ব পালন করার প্রেরণাও দেয়। বিজয়ীদের মধ্যে কিছু দল বিশেষভাবে উচ্চ স্কোর অর্জন করে, যা তাদের প্রস্তুতি ও জ্ঞানগত দক্ষতার প্রমাণ।
এই ধরনের ইভেন্টের মাধ্যমে নতুন ভোটারদের গণতন্ত্রের মৌলিক ধারণা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার এই উদ্যোগটি অন্যান্য জেলা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অনুপ্রাণিত করতে পারে, যাতে ভোটার শিক্ষা ও নাগরিক অংশগ্রহণের সংস্কৃতি আরও বিস্তৃত হয়।
আপনার এলাকার কোনো সমজাতীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা আছে কি? যদি না থাকে, তবে স্থানীয় সিভিক সোসাইটি বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভোটার শিক্ষা কর্মশালায় অংশ নেওয়া একটি কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে।



