20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাবাংলাদেশ ব্যাংক নাইনটি এনবিএফআইর লিকুইডেশন শোনানি শুরু করেছে

বাংলাদেশ ব্যাংক নাইনটি এনবিএফআইর লিকুইডেশন শোনানি শুরু করেছে

বাংলাদেশ ব্যাংক (বিবি) আজ ঢাকা সদর দফতরে নন‑ব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন (এনবিএফআই) গুলোর শীর্ষ ব্যবস্থাপনা সঙ্গে লিকুইডেশন শোনানি শুরু করেছে। শোনানির মূল উদ্দেশ্য হল, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো লিকুইডেশনের বিরোধিতা করতে পারে কি না তা নির্ধারণ করা।

বিবি পূর্বে সব নয়টি এনবিএফআইকে চিঠি পাঠিয়ে আজ‑কাল এবং আগামীকাল দুদিনের শোনানি নির্ধারিত হয়েছে বলে জানিয়েছে। শোনানিতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যাখ্যা করতে হবে কেন তাদের লিকুইডেট না করা উচিত, আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা লিকুইডেশন প্রস্তাবের পেছনের যুক্তি তুলে ধরবেন।

লিকুইডেশনের মুখোমুখি নয়টি এনবিএফআই হল: এফএএস ফাইন্যান্স, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি, প্রিমিয়ার লিজিং, ফেয়ারইস্ট ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স, অ্যাভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং।

গত নভেম্বর, বিবি বোর্ড নতুন গঠিত ব্যাংক রেজোলিউশন অর্ডিন্যান্স ২০২৫ অনুযায়ী এই প্রতিষ্ঠানগুলোর লিকুইডেশন অনুমোদন করে। এই অর্ডিন্যান্স দেশের প্রথম সমন্বিত কাঠামো, যা ব্যর্থ ব্যাংক ও নন‑ব্যাংককে মার্জ, পুনর্গঠন অথবা বন্ধ করার প্রক্রিয়া নির্ধারণ করে এবং সম্পদ বিক্রির পর ঋণদাতাদের পরিশোধের ক্রম নির্ধারণ করে।

বিবি প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী, এই নয়টি প্রতিষ্ঠান ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ এনবিএফআইয়ের মোট ডিফল্ট ঋণের ৫২ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় টাকার ২৫,০৮৯ কোটি দখল করে। এই পরিমাণের বৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে অনিয়মিত ঋণদান এবং মূলধন হ্রাসের ফলাফল হিসেবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

বিবি গভর্নর আহসান এইচ. মানসুর উল্লেখ করেছেন, রমজান পূর্বে, অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি মাসে, এই এনবিএফআইগুলোর ব্যক্তিগত জমাকারীদের মূলধন ফেরত দেওয়া সম্ভব হতে পারে। সরকারও প্রায় টাকার ৫,০০০ কোটি অঙ্কে নন‑ব্যাংক জমাকারীদের ক্ষতিপূরণ অনুমোদন করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এই নয়টি এনবিএফআইতে মোট জমা টাকার ১৫,৩৭০ কোটি, যার মধ্যে ব্যক্তিগত জমাকারীর অংশ টাকার ৩,৫২৫ কোটি এবং ব্যাংক ও কর্পোরেট ক্লায়েন্টের অংশ টাকার ১১,৮৪৫ কোটি।

লিকুইডেশন শোনানি শুরু হওয়ায় আর্থিক বাজারে স্বল্পমেয়াদে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে, বিশেষত ডিপোজিটারদের আস্থা পরীক্ষা হবে। তবে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দ্রুত ক্ষতিপূরণ পরিকল্পনা বাজারের শক শোষণে সহায়তা করতে পারে।

এনবিএফআই সেক্টরে দীর্ঘস্থায়ী ঋণদানের অনিয়ম এবং মূলধন ঘাটতি সমাধানের জন্য অর্ডিন্যান্সের কার্যকর বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ। যদি লিকুইডেশন প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়, তবে ভবিষ্যতে অনুরূপ সমস্যার পুনরাবৃত্তি রোধে নিয়ন্ত্রক তদারকি শক্তিশালী হবে।

বিবি এখনো শোনানির ফলাফল প্রকাশ করেনি, তবে শোনানি শেষে যদি কোনো এনবিএফআই লিকুইডেশন বিরোধিতা না করে, তবে অর্ডিন্যান্সের ধারা অনুযায়ী সম্পদ বিক্রি করে ঋণদাতাদের কাছে অর্থ প্রদান করা হবে।

বাজার বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন, লিকুইডেশন প্রক্রিয়ার সময় সম্পদ মূল্যায়ন এবং বিক্রয় কৌশল সঠিকভাবে নির্ধারণ করা হবে কিনা তা সেক্টরের পুনরুদ্ধারের মূল চাবিকাঠি হবে।

সারসংক্ষেপে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই শোনানি নন‑ব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন সেক্টরের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহায়তা করবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments