মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ২১ জানুয়ারি বুধবার স্থানীয় সরকার, শিল্প ও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান গণভোটের গুরুত্ব নিয়ে বক্তৃতা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই গণভোট দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে সহায়ক হবে এবং এক শতাব্দী পর্যন্ত দেশের উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তুলবে।
আদিলুর রহমান খান বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের স্বপ্ন পূরণ এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতি, লুটপাট ও বিদেশি টাকা পাচারকে রোধ করা সম্ভব হবে। তিনি ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিনকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সিলমোহর হিসেবে ব্যবহার করার আহ্বান জানান, যাতে কোনো বিভ্রান্তি না থাকে এবং জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমর্থন জানায়।
উক্তি অনুসারে, জুলাই ২০২২-এ সংঘটিত অভ্যুত্থান ১,৪০০ তরুণের প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল। সেই অভ্যুত্থানের পর সব রাজনৈতিক দল একত্রিত হয়ে ‘জুলাই সনদ’ নামে একটি নথি তৈরি করেছে, যা জুলাইয়ের আদর্শ ও লক্ষ্যকে সংস্থাপন করার লক্ষ্যে কাজ করবে।
আদিলুর রহমান খান আরও উল্লেখ করেন, দেশের মানুষ পনেরো বছর ধরে আক্রমণের শিকার ছিল, সেই সময়ে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ বা ভোট দেওয়ার সুযোগ ছিল না। তাই এই গণভোটের মাধ্যমে জনগণের সম্মতি সংগ্রহ করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো আক্রমণ বা স্বৈরাচারী শাসনের মুখোমুখি না হতে হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা নাজমা নাহার এবং শ্রীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারিন্টেনডেন্ট আনিছুর রহমান। এছাড়া উপজেলা সহকারী নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জুয়েল সভার সঞ্চালনা করেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু সভাপতিত্ব করেন।
উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণকে জুলাই সনদের পক্ষে সমর্থন জানাতে হবে, যাতে বাংলাদেশ শত-সহস্র বছর টিকে থাকে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের মানুষ কোনো আগ্রাসনের সামনে মাথা নত করবে না এবং স্বশাসন বজায় রাখবে।
সভায় উপস্থিত অন্যান্য কর্মকর্তারা গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা উল্লেখ করেন, ভোটারদের সঠিক তথ্য প্রদান এবং ভোটের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করা জরুরি, যাতে ভোটের ফলাফল সত্যিকারের জনগণের ইচ্ছা প্রতিফলিত করে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী বলেন, গণভোটের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক করে তোলা সম্ভব। তিনি যোগ করেন, সকল রাজনৈতিক দল ও সামাজিক গোষ্ঠীকে এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা নাজমা নাহার উল্লেখ করেন, গণভোটের ফলাফল দেশের নীতি-নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার ভিত্তি হবে। তিনি সকল নাগরিককে ভোটের দিন সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের জন্য অনুরোধ করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপারিন্টেনডেন্ট আনিছুর রহমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার কথা বলেন, যাতে ভোটের দিন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে এবং ভোটারদের নিরাপদে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু সভার সমাপনী বক্তব্যে উল্লেখ করেন, গণভোটের মাধ্যমে দেশের জনমতকে সঠিকভাবে মাপা যাবে এবং তা সরকারের নীতি-নির্ধারণে ব্যবহার করা হবে। তিনি সকলকে ভোটের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেন।
এই সভা গণভোটের প্রচার, ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ এবং জুলাই সনদের সমর্থন সংগ্রহের লক্ষ্যে আয়োজিত হয়। উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, গণভোটের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ভবিষ্যতে স্বৈরাচারী প্রবণতা রোধে সহায়ক হবে।



