জাতীয় সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) প্রধান সমন্বয়কারী নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারি আজ ধারা‑৮ নির্বাচনী এলাকা থেকে তার নির্বাচনী প্রতীক গ্রহণের পর দুইটি মূল অগ্রাধিকার ঘোষণা করেন। তিনি শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং “ইনসাফ‑ভিত্তিক ধারা‑৮” গড়ে তোলাকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রতীক গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে পাটওয়ারি বলেন, হাদির হত্যার মামলায় এখনও কোনো চূড়ান্ত রায় পাওয়া যায়নি। তিনি সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত তদন্ত শুরু করে সম্পূর্ণ বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।
“শহীদ ওসমান হাদির হত্যার মামলায় সরকার তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নিয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে” বলে পাটওয়ারি তার বক্তব্যে জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, হাদির পরিবার ও সমর্থকরা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়ের অপেক্ষা করছেন।
দ্বিতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে পাটওয়ারি “ইনসাফ‑ভিত্তিক ধারা‑৮” গড়ে তোলার কথা বলেন। তিনি বলেন, এই এলাকার উন্নয়ন কেবল আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার মাধ্যমে সম্ভব, যাতে চাঁদা, সন্ত্রাসবাদ ও অবৈধ দখলদারিত্বের মতো সমস্যার মুখে আর কেউ নিখোঁজ না হয়।
“আমরা চাঁদা, সন্ত্রাসবাদ ও অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে লড়াই করে ইনসাফ‑ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে চাই, যাতে আর কোনো ভাই হাদিরের মতো নিখোঁজ না হয়” পাটওয়ারি তার পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করেন। তিনি আগামীকাল হাদিরের সমাধিতে গিয়ে ক্যাম্পেইন শুরু করার কথা জানান।
পাটওয়ারি বলেন, দেশের সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথে রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এনসিপি কোনো গাঁটফাঁস বা অর্থ-ভিত্তিক রাজনীতিতে যুক্ত হবে না; নির্বাচনে ন্যায়সঙ্গত ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অংশগ্রহণ করবে।
নির্বাচনী কমিশন ও প্রশাসনের প্রতি পাটওয়ারি তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি রিটার্নিং অফিসারকে প্রশ্ন তোলেন, যখন বিএনপি চেয়ারপার্সন তারিক রহমান করাইল স্লামে গিয়ে তিন মাস আগে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন।
পাটওয়ারি বলেন, এই ধরনের কার্যক্রম সরাসরি নির্বাচনী আইন ও নিয়মের লঙ্ঘন। তিনি উল্লেখ করেন, এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলামকে শো‑কজ নোটিশ পাঠানো হলেও, একই সময়ে তারিক রহমানের ক্ষেত্রে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
পাটওয়ারি নিজেও শো‑কজ নোটিশের শিকার হন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, তিনি একটি “হ্যাঁ” ভোটের প্রচারমূলক ব্যানার টাঙিয়ে থাকায় নোটিশ পেয়েছেন, যদিও ব্যানারে কোনো নির্বাচনী প্রতীক ছিল না। পাটওয়ারি দাবি করেন, ব্যানারটি শহর কর্পোরেশন কর্মকর্তাদের, বিএনপি কর্মীদের এবং এক ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এই সব ঘটনার পর পাটওয়ারি তার ক্যাম্পেইনকে আরও দৃঢ় করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি আশাবাদী যে ন্যায়বিচার ও নির্বাচনী ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত হলে ধারা‑৮ ভোটারদের আস্থা ফিরে আসবে এবং দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে।
নির্বাচনের দিন নিকটবর্তী হওয়ায় পাটওয়ারির এই দাবিগুলি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এনসিপি কীভাবে তার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবে এবং নির্বাচনী কমিশনের প্রতিক্রিয়া কী হবে, তা দেশের রাজনৈতিক গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।



