যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি জানিয়েছে যে, বাংলাদেশ থেকে আবেদনকারী স্থায়ী বাসস্থান ভিসা (ইমিগ্র্যান্ট ভিসা) প্রক্রিয়াকরণ সাময়িকভাবে বন্ধ করা হবে। এই সিদ্ধান্তটি অস্থায়ী এবং ভবিষ্যতে পুনর্মূল্যায়নের পরে পুনরায় চালু করা হতে পারে। ভিসা আবেদনকারীদের মধ্যে গ্রীন কার্ড অনুমোদন পাওয়া কিন্তু এখনও ইস্যু না হওয়া ব্যক্তিরা প্রধানত প্রভাবিত হবে।
বন্দোবস্তটি শুধুমাত্র ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ওপর প্রযোজ্য, যেখানে অ-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা যেমন ছাত্র, পর্যটক এবং অস্থায়ী কর্মী ভিসা চালু থাকবে। তাই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, পর্যটক এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে চাওয়া কর্মীরা তাদের বর্তমান পরিকল্পনা অনুসরণ করতে পারবেন। তবে স্থায়ী বসতি স্থাপনের ইচ্ছা থাকা পরিবারগুলোর জন্য এই বিরতি একটি অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপের পেছনে সম্ভাব্য ভিসা অপব্যবহার এবং কল্যাণ নির্ভরতা নিয়ে উদ্বেগ উল্লেখ করেছে। এই ধরনের যুক্তি পূর্বে বিভিন্ন দেশের অভিবাসন নীতিতে দেখা যায় এবং প্রায়শই নীতি পরিবর্তনের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে এখন পর্যন্ত এই উদ্বেগের নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
প্রভাবের মাত্রা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে কারণ অনেক আবেদনকারী ইতিমধ্যে নিরাপত্তা যাচাই, পটভূমি পরীক্ষা এবং সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে অনুমোদন পেয়েছেন। তাদের পরিবারগুলো ইতিমধ্যে গন্তব্য দেশ, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান পরিকল্পনা নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছিল। গ্রীন কার্ড অনুমোদনের পরেও ভিসা ইস্যু না হওয়া পর্যন্ত ভ্রমণ ও বসতি স্থাপনের অনুমতি না থাকায় এই পরিবারগুলোকে অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়াতে হচ্ছে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাহী শাখার এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপক ক্ষমতা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন স্পষ্টভাবে বলে যে, কোনো বিদেশী নাগরিকের ভিসা পাওয়ার কোনো স্বয়ংক্রিয় অধিকার নেই, যদিও তিনি সব শর্ত পূরণ করলেও। আদালতও বারবার এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে যে, অনুমোদন এবং ইস্যু ভিন্ন প্রক্রিয়া। তাই এই সাময়িক স্থগিতকরণ আইনি দৃষ্টিতে বৈধ।
বিশ্বব্যাপী অভিবাসন নীতির পরিবর্তনকে এই পদক্ষেপের সঙ্গে তুলনা করা যায়। পূর্বে যুক্তরাষ্ট্র কিছু নির্দিষ্ট দেশের জন্য একই রকম সাময়িক বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও শ্রম বাজারের পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা যায়। একই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোও নির্দিষ্ট পেশা ও দেশের জন্য ভিসা নীতি সাময়িকভাবে পরিবর্তন করেছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্তকে উদ্বেগের সঙ্গে গ্রহণ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট বিভাগে স্পষ্টীকরণ চেয়েছে। মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে যে, গ্রীন কার্ড অপেক্ষায় থাকা পরিবার ও শ্রমিকদের উপর প্রভাব বিশাল এবং এই নীতি পুনর্বিবেচনা দ্রুত করা উচিত। পাশাপাশি, বাংলাদেশি শ্রমিকের যুক্তরাষ্ট্রে কাজের চাহিদা এবং দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক দিক থেকে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করা বাংলাদেশি শ্রমিকের রেমিট্যান্স দেশের মোট রেমিট্যান্সের উল্লেখযোগ্য অংশ গঠন করে। গ্রীন কার্ড প্রক্রিয়ার স্থগিতকরণ রেমিট্যান্স প্রবাহে হ্রাস ঘটাতে পারে, যা দেশের বহিরাগত মুদ্রা আয়কে প্রভাবিত করবে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু শিল্পে বাংলাদেশি শ্রমিকের ঘাটতি দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে হসপিটালিটি ও নির্মাণ খাতে।
পরবর্তী ধাপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নীতি পুনর্মূল্যায়নের সময়সূচি প্রকাশ করেনি, তবে আবেদনকারীদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও ইমেল মাধ্যমে আপডেট অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। গ্রীন কার্ড অনুমোদন পেয়েছেন এমন আবেদনকারীদের জন্য বিকল্প ভিসা ক্যাটেগরি, যেমন কর্মসংস্থান ভিত্তিক অ-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, বিবেচনা করা যেতে পারে। এছাড়া, অভিবাসন আইনজীবী ও পরামর্শদাতার সঙ্গে পরামর্শ করে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ।
সারসংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সাময়িক স্থগিতকরণ ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রক্রিয়ার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে, তবে অ-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ও বর্তমান শ্রম বাজারে বড় পরিবর্তন আনবে না। এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক অভিবাসন নীতির পরিবর্তনের একটি অংশ হিসেবে দেখা যায় এবং ভবিষ্যতে পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে পুনরায় চালু হতে পারে। আবেদনকারীদের জন্য বর্তমান পরিস্থিতি মনোযোগের সঙ্গে অনুসরণ করা এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।



