স্ন্যাপ ইনকর্পোরেটেড, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকের মতো জনপ্রিয় সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম, লস এঞ্জেলেস কাউন্টির ক্যালিফোর্নিয়া সুপিরিয়র কোর্টে মঙ্গলবার একটি মামলা সমাধানের ঘোষণা দেয়। এই মামলা ১৯ বছর বয়সী এক তরুণের (কেসে K.G.M. নামে উল্লেখ) দ্বারা দায়ের করা হয়েছিল, যেখানে স্ন্যাপের অ্যালগরিদম ও ফিচারগুলোকে ব্যবহারকারীর আসক্তি ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করার দায়ী করা হয়েছে। সমঝোতার শর্তাবলী প্রকাশ করা হয়নি, তবে আদালতে দায়েরকৃত অভিযোগের মূল বিষয়গুলো স্পষ্ট।
মামলায় স্ন্যাপের পাশাপাশি মেটা, ইউটিউব এবং টিকটকও নাম উল্লেখ পায়, তবে এই তিনটি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে কোনো সমঝোতা হয়নি। স্ন্যাপ এখনও অন্যান্য সামাজিক মিডিয়া আসক্তি সংক্রান্ত মামলায় অভিযুক্ত রয়ে গেছে, যেখানে একই ধরনের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।
মামলার নথিতে প্রকাশিত হয়েছে যে স্ন্যাপের কর্মচারীরা প্রায় নয় বছর আগে থেকেই কিশোর-কিশোরীর মানসিক স্বাস্থ্যের উপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছিল। কোম্পানি এই উদ্বেগগুলোকে “চেরি-পিকড” এবং প্রসঙ্গবহির্ভূত বলে খণ্ডন করেছে।
অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবীরা এই মামলাকে বিগ টোবাকোর ১৯৯০-এর দশকের মামলার সঙ্গে তুলনা করে, যেখানে সিগারেট কোম্পানিগুলো স্বাস্থ্যঝুঁকি লুকিয়ে রাখার জন্য দায়ী করা হয়েছিল। মূল অভিযোগ হল, স্ন্যাপের অনন্ত স্ক্রল, স্বয়ংক্রিয় ভিডিও প্লে এবং অ্যালগরিদমিক সুপারিশের মতো ফিচারগুলো ব্যবহারকারীদের অবিরাম স্ক্রিনে আটকে রাখে, ফলে ডিপ্রেশন, খাবারজনিত ব্যাধি এবং আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।
স্ন্যাপের সিইও ইভান স্পিগেলকে এই মামলায় সাক্ষ্য দিতে নির্ধারিত করা হয়েছিল, যা সামাজিক মিডিয়া কোম্পানিগুলোর জন্য প্রথমবারের মতো জুরি ট্রায়াল হতে পারত। এখন পর্যন্ত কোনো সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম জুরি বিচারে হারে না, তাই এই সাক্ষ্যদান গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
মেটা, টিকটক এবং ইউটিউবের বিরুদ্ধে চলমান মামলায় জুরি নির্বাচন আগামী সোমবার, ২৭ জানুয়ারি শুরু হবে। মেটার সিইও মার্ক জুকারবার্গকে সাক্ষী হিসেবে ডাকা হয়েছে। যদি এই মামলায় অভিযুক্তরা জয়ী হয়, তবে বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন যে ক্ষতিপূরণ বিলিয়ন ডলারের পরিসরে হতে পারে, যা শিল্পের জন্য বড় আর্থিক প্রভাব ফেলবে।
সামাজিক মিডিয়া আসক্তি নিয়ে চলমান আইনি লড়াইয়ের মধ্যে স্ন্যাপের এই সমঝোতা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যদিও সমঝোতার শর্তাবলী গোপন, তবু এটি নির্দেশ করে যে প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারকারীর মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব নিয়ে বাড়তে থাকা আইনি চাপে সাড়া দিচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও অনুরূপ মামলার ফলাফল নির্ধারণ করবে যে সামাজিক মিডিয়া কোম্পানিগুলো কীভাবে তাদের পণ্য ডিজাইন ও পরিচালনা করবে।
এই মামলাগুলো প্রযুক্তি শিল্পে নৈতিক দায়িত্ব ও ব্যবসায়িক মডেলের পুনর্মূল্যায়নের দরজা খুলে দিচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ ব্যবহারকারীদের উপর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, প্ল্যাটফর্মগুলোকে স্বচ্ছতা ও ব্যবহারকারীর কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
স্ন্যাপের সমঝোতা এবং বাকি মামলাগুলোর অগ্রগতি উভয়ই সামাজিক মিডিয়া নীতিমালা, নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং ব্যবহারকারীর আচরণে দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন আনতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় আইন, প্রযুক্তি এবং সমাজের পারস্পরিক সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচিত হবে।



