ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বুধবার তার অফিসের ঘোষণাপত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণ গ্রহণ করে ট্রাম্পের “শান্তি বোর্ড”ে সদস্য হিসেবে যোগ দেবেন বলে জানিয়ে দেন। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইসরায়েল বিশ্বস্ত নেতাদের নিয়ে গঠিত একটি নতুন উদ্যোগে অংশ নিতে চায়, যা ট্রাম্প প্রশাসন গাজা অঞ্চলের পুনর্নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত করে।
শান্তি বোর্ডটি প্রথমে গাজা যুদ্ধের পর ধ্বংসাবশেষ পুনর্নির্মাণ তত্ত্বাবধানের উদ্দেশ্যে গড়ে তোলা হয়েছিল। তবে এফপি-র কাছে পাওয়া চাটারিতে দেখা যায়, বোর্ডের কার্যক্রমে ফিলিস্তিনীয় ভূখণ্ডের সীমাবদ্ধতা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা নেই, ফলে এর কাজের পরিধি বিস্তৃত হতে পারে।
বোর্ডের স্থায়ী সদস্যপদে প্রবেশের জন্য প্রায় এক বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত অর্থ প্রদান করতে হয়। এই বিশাল ফি প্রকল্পের তহবিল, প্রশাসনিক ব্যয় এবং পুনর্নির্মাণ কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নির্ধারিত।
নেতানিয়াহুর এই পদক্ষেপটি গাজা অঞ্চলে চলমান উত্তেজনা এবং সাম্প্রতিক হামাসের সঙ্গে সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে এসেছে। গাজা পুনর্নির্মাণের বিষয়টি ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন উভয়ের জন্যই সংবেদনশীল, এবং বোর্ডে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিরাপত্তা দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হতে পারে।
বোর্ডের সদস্যপদে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের নেতারা অন্তর্ভুক্ত হবে বলে জানানো হয়েছে, যদিও এখনো নির্দিষ্ট নাম প্রকাশ করা হয়নি। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ আরব দেশগুলোর মধ্যে বোর্ডের স্বীকৃতি ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে, কারণ এটি রাজনৈতিক ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে।
উচ্চ প্রবেশ ফি নিয়ে সমালোচকরা ইঙ্গিত করছেন, যে শুধুমাত্র ধনী দেশ বা বড় আর্থিক দাতা এই প্ল্যাটফর্মে অংশ নিতে পারবে, ফলে প্রকল্পের অগ্রাধিকার নির্ধারিত হতে পারে। অন্যদিকে, সমর্থকরা যুক্তি দিচ্ছেন যে বিশাল আর্থিক সমর্থন ছাড়া বৃহৎ পরিসরের পুনর্নির্মাণ কাজ সম্ভব নয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, নেতানিয়াহুর বোর্ডে যোগদান ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে, বিশেষ করে ট্রাম্পের নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যের কারণে। ট্রাম্পের জন্যও এটি একটি বহুপাক্ষিক শান্তি প্রচেষ্টার চিত্র উপস্থাপন করার সুযোগ, যা তার আন্তর্জাতিক নীতির অংশ হিসেবে উপস্থাপিত হবে।
বোর্ডের চাটারিতে প্রকল্পের সময়সীমা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা না থাকলেও, এটি সামরিক সংঘর্ষের পর মানবিক পুনর্নির্মাণের দিকে অগ্রসর হওয়ার সংকেত দেয়। বাস্তবায়ন ধাপটি সদস্য দেশগুলোর আর্থিক অবদান এবং স্থানীয় জনগণের স্বীকৃতির ওপর নির্ভরশীল হবে।
পরবর্তী ধাপে নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের দল আনুষ্ঠানিক চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করবে, নির্ধারিত ফি পরিশোধ করবে এবং প্রথম সভায় অংশ নেবে। সভার এজেন্ডা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি এবং তহবিলের ব্যবহার সংক্রান্ত বিশদ তথ্য শীঘ্রই প্রকাশের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করছেন, বোর্ডের সাফল্য নির্ভর করবে মানবিক চাহিদা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার সমন্বয়ে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিরাপত্তা দৃষ্টিকোণ থেকে উপকারী হতে পারে, তবে তা একইসাথে বোর্ডের নিরপেক্ষতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারে। ভবিষ্যতে এই উদ্যোগ কীভাবে গাজা ও বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের শান্তি প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করবে, তা সময়ই বলবে।



