ঢাকার রাজধানীতে সোমবার টেক্সটাইল মিলের মালিক ও গার্মেন্ট এক্সপোর্টারদের মধ্যে সরকারী দায়িত্বমুক্ত সুতো আমদানি সুবিধা বাতিলের পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র মতবিরোধ প্রকাশ পায়। এই পদক্ষেপটি দেশীয় স্পিনিং মিলকে রক্ষা করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে, তবে রপ্তানি-ভিত্তিক গার্মেন্ট শিল্পের জন্য তা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিএজিএমইএ (Bangladesh Garment Manufacturers and Exporters Association) ও বিএকেএমইএ (Bangladesh Knitwear Manufacturers and Exporters Association) একত্রে ঢাকায় যৌথ প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে তাদের আপত্তি জানায়। উভয় সমিতি উল্লেখ করে যে দায়িত্বমুক্ত সুবিধা প্রত্যাহার করলে গার্মেন্ট রপ্তানির প্রতিযোগিতামূলকতা হ্রাস পাবে এবং উৎপাদন খরচ বাড়বে।
একই দিনে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (BTMA) এর সভাপতি শোকত আজিজ রাসেল মিডিয়ায় একটি বিবৃতি প্রকাশ করে গার্মেন্ট এক্সপোর্টারদের দাবিগুলোকে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে টেক্সটাইল ও গার্মেন্ট উভয় সেক্টরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করার পর বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (BTTC) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে সুতো আমদানি দায়িত্বমুক্ত সুবিধা স্থগিত করার সুপারিশপত্র পাঠায়।
রাসেল আরও জানান, BTTC এর এই সুপারিশটি BTMA, BGMEA এবং BKMEA এর নেতৃত্বাধীন আলোচনার পর গৃহীত হয়। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এখনো এই সুতোগুলোর ওপর কোনো নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা প্রকাশ করেনি, এবং সুরক্ষামূলক শুল্কের আবেদনও করা হয়নি।
বিএজিএমইএ এই সিদ্ধান্তের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে এবং দুটি মূল বিষয় তুলে ধরে। প্রথমত, BTTC এর বৈঠকের মিনিট ১৩ জানুয়ারি প্রকাশিত হলেও, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে সুপারিশপত্র ১২ জানুয়ারি পাঠানো হয়েছিল, যা সময়সূচিতে অসামঞ্জস্য নির্দেশ করে। দ্বিতীয়ত, গার্মেন্ট এক্সপোর্টারদের মতামত যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি বলে তারা দাবি করে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ন্যাশনাল বোর্ড অফ রেভিনিউ (NBR) কে একটি চিঠি পাঠিয়ে ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতোতে দায়িত্বমুক্ত সুবিধা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানায়। তবে চিঠিতে নতুন শুল্কের হার বা সুরক্ষামূলক শুল্কের প্রস্তাব না দিয়ে শুধুমাত্র দায়িত্বমুক্ত সুবিধা শেষ করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বিএজিএমইএর কার্যনির্বাহী সভাপতি সলিম রহমান উল্লেখ করেন, বর্তমানে সুতো আমদানি উপর গড় শুল্ক হার প্রায় ৩৯ শতাংশ। গার্মেন্ট রপ্তানিকারকরা বর্তমানে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা ব্যবহার করে শুল্কমুক্তভাবে সুতো আমদানি করতে পারে। এই সুবিধা বাতিল হলে তারা সম্পূর্ণ শুল্কের আওতায় পড়বে, যা উৎপাদন খরচে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটাবে।
শুল্কের পূর্ণ পরিমাণ প্রয়োগের ফলে গার্মেন্ট শিল্পের মার্জিন সংকুচিত হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দাম প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে পারে। বিশেষত, উচ্চ শুল্কের কারণে কিছু রপ্তানিকারক বিকল্প সরবরাহকারী দেশ বা উপকরণ খোঁজার দিকে ঝুঁকতে পারে, যা বাংলাদেশের গার্মেন্ট এক্সপোর্টের মোট পরিমাণে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দেন যে এই নীতিগত পরিবর্তনটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত শিল্পের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। যদি দায়িত্বমুক্ত সুবিধা স্থায়ীভাবে বাতিল হয়, তবে গার্মেন্ট সেক্টরের খরচ কাঠামো পুনর্গঠন করতে হবে এবং নতুন বাজার কৌশল গড়ে তুলতে হবে। নীতিনির্ধারকদের কাছ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা ও সমন্বয় না পেলে শিল্পের প্রতিযোগিতামূলকতা হ্রাস পেতে পারে, যা দেশের রপ্তানি আয় এবং কর্মসংস্থান উভয়ের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে।



