কক্সবাজার জেলা পরিষদ মিলনায়তনে ২১ জানুয়ারি সকালবেলা প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি) পরিচালিত দুই দিনব্যাপী নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের প্রধান অতিথি বক্তব্যে দায়িত্বশীল, বস্তুনিষ্ঠ ও জনস্বার্থভিত্তিক সাংবাদিকতার গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়া হয়।
ফারুক ওয়াসিফ উল্লেখ করেন, কক্সবাজারের ঐতিহাসিক ও কৌশলগত অবস্থান দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান উভয়ই এই অঞ্চলের মানুষের রক্তে অর্জিত, এবং এসব অর্জন রক্ষায় গণমাধ্যমের সঠিক ভূমিকা অপরিহার্য।
তিনি অতীতের শিকারী ও দালাল সাংবাদিকতার প্রভাব তুলে ধরে বলেন, এমন ধরণের রিপোর্টিং দেশের আন্তর্জাতিক সুনামকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং গণতন্ত্রের মৌলিক নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। বর্তমান সময়ে আবারো বিভ্রান্তিকর বর্ণনা তৈরির প্রচেষ্টা দেখা দিচ্ছে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দুর্বল করতে পারে।
প্রশিক্ষণ কর্মশালার মূল লক্ষ্য হিসেবে নির্বাচনকালীন রিপোর্টিং, সাংবাদিক নৈতিকতা, তথ্য যাচাই (ফ্যাক্ট‑চেকিং) এবং মিথ্যা তথ্যের মোকাবিলার কৌশলগুলোকে কেন্দ্র করে আলোচনা করা হবে। দুই দিনের সেশনগুলোতে তত্ত্বীয় ব্যাখ্যা ও ব্যবহারিক অনুশীলন উভয়ই অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যাতে অংশগ্রহণকারীরা বাস্তব পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কক্সবাজারের বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার শতাধিক সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। অংশগ্রহণকারীরা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচার, ভোটার তথ্য এবং রাজনৈতিক পার্টির বিবৃতি কীভাবে নিরপেক্ষভাবে উপস্থাপন করা যায় তা শিখবেন। এছাড়া, সামাজিক মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ভুয়া খবরের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পদ্ধতিও আলোচিত হবে।
ফারুক ওয়াসিফের বক্তব্যের পর, অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের মধ্যে প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। অনেকেই উল্লেখ করেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে তথ্যের নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা মিডিয়ার জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তারা আশা প্রকাশ করেন, এই ধরনের প্রশিক্ষণ ভবিষ্যতে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও ন্যায্য করে তুলবে।
কর্মশালার সমাপ্তি সেশনে অংশগ্রহণকারীদেরকে প্রশিক্ষণ শেষে অর্জিত জ্ঞানকে নিজেদের কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়। পিআইবি এই ধরনের উদ্যোগকে ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন, যাতে দেশের সব স্তরের মিডিয়া কর্মী সমসাময়িক চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকে।
এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা কেবল কক্সবাজারের সাংবাদিকদের জন্যই নয়, বরং দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মিডিয়া পেশাজীবীদের জন্যও একটি মডেল হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। নির্বাচনের সময় সঠিক তথ্য সরবরাহ এবং গুজবের বিস্তার রোধে এই ধরনের দক্ষতা বৃদ্ধি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য।



