অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচার চালাতে ১৮ জন উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার এক বিশেষ সহকারী ১৫ জানুয়ারি থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত ৫৮টি জেলা পরিদর্শন করেন। সফরের শেষ দিন বুধবার, ২১ জানুয়ারি, তারা শেষ গন্তব্যে পৌঁছে কার্যক্রম সমাপ্ত করেন। এই ভ্রমণটি গণভোটের গুরুত্ব, উদ্দেশ্য ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে এবং ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে উদ্বুদ্ধ করতে পরিকল্পিত ছিল।
সপ্তাহব্যাপী সফরে উপদেষ্টা ও সহকারী বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠী, পেশাজীবী, স্থানীয় প্রশাসন এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তারা গণভোটের মৌলিক নীতি, ভোটের পদ্ধতি এবং ভোটারদের অধিকার সম্পর্কে তথ্য প্রদান করেন এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে, জেলা প্রশাসন ও অন্যান্য সরকারি দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে গণভোট সংক্রান্ত প্রচারমূলক কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
সফরে অংশগ্রহণকারী উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় বিভিন্ন কর্মসূচি চালু করেন, যার মধ্যে পোস্টার, প্যানেল ও তথ্যবহুল সেশন অন্তর্ভুক্ত। তারা কর্মশালার মাধ্যমে ভোটারদের প্রশ্নের উত্তর দেন এবং ভোটের প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করেন। এই প্রচারমূলক কাজগুলোকে সমর্থন করে স্থানীয় নেতারা এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখযোগ্য যে, সফরের সময় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়, শিল্প, গৃহায়ন ও গণপূর্ত, পরিকল্পনা, আইন ও প্রবাসী কল্যাণ, তথ্য ও সম্প্রচার, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, শিক্ষা, অর্থ ও বিজ্ঞান‑প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ‑জ্বালানি, মৎস্য‑প্রাণিসম্পদ, ধর্ম, সমাজকল্যাণ, বাণিজ্য‑পর্যটন, খাদ্য‑ভূমি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, পররাষ্ট্র, নৌপরিবহন‑শ্রম এবং মুক্তিযুদ্ধ‑দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের উপদেষ্টা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
বিশেষ সহকারী হিসেবে সফরে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার গঠিত নির্বাচন মনিটরিং ও সহায়তা প্রদানকারী উপদেষ্টা কমিটির সদস্য, যিনি পুরো ভ্রমণকালে সমন্বয়কারী ভূমিকা পালন করেন। উপদেষ্টারা তাদের নিজ নিজ বিভাগের দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভোটারদের প্রশ্নের উত্তর দেন এবং গণভোটের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
সফরের শেষ দিনে উপদেষ্টা ও সহকারী সকল জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সমাপনী সভা করেন, যেখানে তারা সফরের ফলাফল, জনসচেতনতার মাত্রা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। সভায় উল্লেখ করা হয় যে, ভোটারদের ‘হাঁ’ ভোটের পক্ষে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি গণভোটের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে, সরকার এই ধরনের ব্যাপক ভ্রমণকে গণভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে এবং ভোটারদের সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সকল পক্ষের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। বিরোধী দলগুলিও এই প্রচারকে নজরে রাখছে এবং তারা দাবি করে যে ভোটারদের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিবেশ তৈরি করা উচিত।
অন্তর্বর্তী সরকারের এই প্রচারমূলক সফর গণভোটের প্রস্তুতি পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা, ভোট কেন্দ্র স্থাপন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার নিশ্চিতকরণসহ অন্যান্য প্রস্তুতি কাজ চালিয়ে যাওয়া হবে। গণভোটের ফলাফল নির্ধারণের জন্য সকল স্তরের অংশগ্রহণ ও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন, এবং সরকার এই দিকটি নিশ্চিত করতে বিভিন্ন স্তরে সমন্বয়মূলক কাজ চালিয়ে যাবে।
সফরের সমাপ্তি মানে ৫৮টি জেলার মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারমূলক কাজের প্রথম পর্যায় শেষ হয়েছে, তবে পরবর্তী পর্যায়ে মিডিয়া, সামাজিক নেটওয়ার্ক এবং স্থানীয় সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে ভোটারদের আরও তথ্য প্রদান এবং প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে। গণভোটের চূড়ান্ত তারিখের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই প্রচারমূলক কার্যক্রমের প্রভাব ও ফলাফল পর্যবেক্ষণ করা হবে, যাতে ভোটারদের স্বেচ্ছা ও জ্ঞানভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা যায়।



