বলিভুডের অন্যতম জনপ্রিয় গোপন এজেন্ট সিরিজের নির্মাতারা দুইটি ছবির টেলিভিশন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সম্প্রচার অধিকার একসাথে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রথম অংশটি ডিসেম্বর ২০২৫-এ থিয়েটারে মুক্তি পেয়ে বিশাল বক্স অফিস সাফল্য অর্জন করে, আর দ্বিতীয় অংশ “ধুরন্ধর: দ্য রেভেঞ্জ” মার্চ ২০২৬-এ দেশব্যাপী প্রদর্শনী শুরু করবে।
এই প্যাকেজটি টেলিকমিউনিকেশন, স্যাটেলাইট চ্যানেল, ডাইরেক্ট-টু-হোম (ডিটিএইচ), আইপিটিভি এবং কেবল নেটওয়ার্কসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় একচেটিয়া সরল সম্প্রচার ও পুনঃপ্রচারের অধিকার অন্তর্ভুক্ত করবে। প্রকাশিত একটি বাণিজ্যিক ম্যাগাজিনের নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অধিকার বিক্রির চুক্তি এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং এতে উভয় ছবির জন্য একই শর্তাবলী প্রযোজ্য হবে।
প্রথম ছবিতে রণবীর সিং, সঞ্জয় দত্ত, আর. মধবন, অক্ষয় খান্না এবং অর্জুন রামপালসহ বিশিষ্ট অভিনেতাদের সমন্বয় দেখা গিয়েছে। ছবিটি তার তীব্র কাহিনী, বিশাল স্কেল এবং উচ্চ বক্স অফিস রেকর্ডের জন্য প্রশংসিত হয়েছে, যা বছরের অন্যতম হিট হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
দ্বিতীয় অংশের টেলিভিশন সম্প্রচার শুরু হবে প্রথম ছবির টিভি প্রিমিয়ার থেকে প্রায় চার মাস পর, অর্থাৎ ১১৭ দিন পর। এই সময়সীমা নির্ধারণের মূল উদ্দেশ্য হল সিনেমা থিয়েটারে চলাকালীন সময়ে টেলিভিশন আয় বাড়িয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজের সামগ্রিক আর্থিক ভিত্তি মজবুত করা।
বাজার বিশ্লেষকরা এই সমন্বিত অধিকার বিক্রয়কে একটি বাস্তবিক ব্যবসায়িক কৌশল হিসেবে মূল্যায়ন করছেন, যা ফ্র্যাঞ্চাইজের ধারাবাহিক জনপ্রিয়তা এবং দর্শকের চাহিদা বিবেচনা করে নেওয়া হয়েছে। ধুরন্ধর সিরিজ থিয়েটারে বহু রেকর্ড ভাঙার পর, দ্বিতীয় ছবির জন্যও ব্যাপক প্রত্যাশা রয়েছে, এবং প্যান-ইন্ডিয়া রিলিজের প্রস্তুতি চলছে।
শিল্পের অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা উল্লেখ করেছেন যে, একাধিক প্রকল্পের অধিকার একসাথে বিক্রি করা প্রযোজকদের জন্য আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর জন্যও আকর্ষণীয় প্যাকেজ তৈরি করে। এই পদ্ধতি পূর্বে কিছু প্রযোজক ব্যবহার করেছেন, যা উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক প্রমাণিত হয়েছে।
ধুরন্ধর সিরিজের এই নতুন বিক্রয় কৌশলটি চলচ্চিত্রের টিকিট বিক্রির পাশাপাশি টেলিভিশন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে। উভয় ছবির অধিকার একসাথে বিক্রি করে, নির্মাতারা টেলিভিশন বাজারে দ্রুত প্রবেশের সুযোগ পাবে এবং দর্শকদের জন্য ধারাবাহিক বিনোদন নিশ্চিত হবে।
সামগ্রিকভাবে, ধুরন্ধর ফ্র্যাঞ্চাইজের এই পরিকল্পনা চলচ্চিত্র শিল্পে নতুন ব্যবসায়িক মডেল হিসেবে নজর কেড়েছে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ বড় প্রকল্পের জন্য মডেল হতে পারে।



