ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মুশফিকুর রহমান মঙ্গলবার বিকেলে আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের রুটি‑নুরপুর বাজারে অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিলে উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানে তিনি প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দেশের প্রতি তার অটুট ভালোবাসা তুলে ধরেন।
মুশফিকুর রহমানের মতে, খালেদা জিয়া কখনো দেশ ত্যাগ করেননি; তিনি সম্পূর্ণভাবে দেশের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি যোগ করেন, “যারা দেশ নিয়ে খেলামেলা করেছে, তারা আজ দেশে নেই,” এবং এটিকে আল্লাহর মেহেরবানী হিসেবে উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে তিনি উল্লেখ করেন, খালেদা জিয়ার শেষকৃত্যে বিশাল জনসাধারণের সমবেত দোয়া নেমে আসে, এবং দেশের প্রতিটি ঘরে তার জন্য প্রার্থনা করা হয়। এই দোয়া মাহফিলটি দোয়া ও মাগফিরাতের উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়েছিল।
মুশফিকুর রহমান আরও বলেন, শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ নীতি অনুসরণ করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান “সবার আগে বাংলাদেশ” স্লোগান দিয়েছেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, এই স্লোগানের অর্থ হল দেশের সকল নাগরিক সমান, কোনো ধর্মীয় বা সামাজিক বৈষম্য নেই। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, মুসলমান—সবাই একসাথে দেশের উন্নয়নে অংশ নিতে পারে।
অনুষ্ঠানে ইউনিয়ন বিএনপি’র প্রাক্তন সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. রফিকুল ইসলামও বক্তব্য রাখেন। তিনি পার্টির ঐতিহাসিক অবদান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করেন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন প্রত্যাহার করা স্বতন্ত্র প্রার্থী নাসির উদ্দিন হাজারী, জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি খন্দকার মো. বিল্লাল হোসেন, কসবা পৌরসভা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আশরাফ আলী, ঢাকা ওয়াসা সিবিএ’র সদস্য কামাল উদ্দিন এবং ধরখার ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি শেখ হুমায়ুন কবীর জীবনসহ বেশ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।
দোয়া পরিচালনা করেন মুফতি ইমন রেজা হানাফি, যিনি উপস্থিত সকলকে একত্রে প্রার্থনা করতে আহ্বান জানান।
এই দোয়া মাহফিলের মূল উদ্দেশ্য ছিল খালেদা জিয়ার আত্মার শান্তি কামনা করা এবং দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে ঐক্যবদ্ধতা বজায় রাখা। উপস্থিতরা তার স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে একসাথে প্রার্থনা করেন।
বিএনপি’র স্থানীয় স্তরে এই ধরনের সমাবেশের মাধ্যমে পার্টি তার সমর্থকদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে এবং নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে জনমত গঠন করে। মুশফিকুর রহমানের মন্তব্যগুলো পার্টির ভবিষ্যৎ কৌশল ও জাতীয় সংহতি রক্ষার প্রতি গুরুত্ব নির্দেশ করে।
অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত সবাই একত্রে খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া করেন এবং দেশের উন্নয়নের জন্য একসাথে কাজ করার প্রতিজ্ঞা পুনর্ব্যক্ত করেন।
এই দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে বিএনপি আঞ্চলিক স্তরে তার ঐতিহাসিক নেতাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে এবং দেশের সকল ধর্মীয় গোষ্ঠীর সমান অধিকার নিশ্চিত করার বার্তা পুনরায় জোর দেয়।



