NASA-এর জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ হেলিক্স নেবুলার নামে পরিচিত গ্যাস মেঘের একটি নতুন, বিশদ ছবি প্রকাশ করেছে। এই নেবুলা একটি মৃত তারকা থেকে বের হওয়া গ্যাসের গঠন, যা পৃথিবী থেকে প্রায় ৬৫০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। ছবিটি নেবুলার কেন্দ্রীয় অংশের বিস্তৃত গ্যাস শেলকে অতি পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করেছে।
ওয়েবের নিকট‑ইনফ্রারেড ক্যামেরা (NIRCam) ব্যবহার করে তোলা এই দৃশ্যটি পূর্বের কোনো পর্যবেক্ষণের তুলনায় বেশি স্পষ্ট। ছবিতে কমেট‑আকৃতির স্তম্ভ এবং কেন্দ্রে থাকা সাদা বামন তারকার তীব্র গরম গ্যাসের সঙ্গে পূর্বে নিঃসৃত ধীর, শীতল গ্যাস ও ধূলিকণার পারস্পরিক ক্রিয়া দেখা যায়। গ্যাসের এই গতিবিধি নেবুলার বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
NASA অনুযায়ী ছবির রঙগুলো গ্যাসের তাপমাত্রা ও রাসায়নিক গঠন নির্দেশ করে। নীল রঙ সর্বোচ্চ তাপমাত্রার গ্যাসকে চিহ্নিত করে, যা তারকার অতিবেগুনি রশ্মি দ্বারা উদ্দীপ্ত। হলুদ রঙে অণু হাইড্রোজেনের উপস্থিতি প্রকাশ পায়, আর লাল রঙ শীতল বাহ্যিক গ্যাস ও ধূলিকণাকে নির্দেশ করে। এই রঙের পার্থক্য নেবুলার গ্যাসের উষ্ণ থেকে শীতল পর্যায়ে রূপান্তরকে দৃশ্যমান করে।
এই পর্যবেক্ষণ দেখায় যে মৃত তারকা কীভাবে তার উপাদানকে পুনরায় মহাকাশে ছেড়ে দেয়, যা পরবর্তীতে নতুন গ্রহের গঠন উপাদান হিসেবে কাজ করতে পারে। গ্যাস ও ধূলিকণার পুনর্ব্যবহার প্রক্রিয়া গ্যালাক্সির রাসায়নিক সমৃদ্ধি ও নতুন তারকা-গ্রহ সিস্টেমের জন্মের ভিত্তি গঠন করে।
হেলিক্স নেবুলা আগে হাবল ও স্পিটজার টেলিস্কোপের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। তবে ওয়েবের নিকট‑ইনফ্রারেড দৃশ্য পূর্বে জানা “নটস” (গ্যাসের ঘনবিন্দু) গুলোকে আরও স্পষ্ট করে এবং গরম থেকে শীতল গ্যাসে রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করে। এই নতুন দৃষ্টিকোণ নেবুলার গঠনগত জটিলতা বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
ছবিতে দেখা অন্ধকার পকেটগুলো সম্ভবত এমন অঞ্চল যেখানে আরও জটিল অণু গঠন শুরু হচ্ছে। এই ধরনের অণু গ্যাস মেঘের মধ্যে সংহত হয়ে ভবিষ্যতে ধূলিকণা ও গ্রহের কোরের ভিত্তি গঠন করতে পারে। তাই এই অন্ধকার অঞ্চলগুলোকে ভবিষ্যৎ রসায়ন গবেষণার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ধরা হচ্ছে।
বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায় এই নতুন তথ্যকে তারকা-নবজাতক পর্যায়ের তাপগতিবিদ্যা ও রসায়নীয় পরিবর্তন অধ্যয়নের জন্য মূল্যবান বলে স্বীকৃতি দিয়েছে। নিকট‑ইনফ্রারেড তরঙ্গদৈর্ঘ্যে গ্যাসের সূক্ষ্ম কাঠামো প্রকাশ পায়, যা পূর্বের দৃশ্যের তুলনায় গ্যাসের ঘনত্ব ও গতি সম্পর্কে আরও নির্ভুল তথ্য সরবরাহ করে।
এই ধরনের উচ্চ রেজোলিউশনের ছবি ভবিষ্যতে জেমস ওয়েবের আরও আবিষ্কারের দরজা খুলে দেবে। মহাকাশের গভীরতর গোপনীয়তা উন্মোচনে এই ধরনের পর্যবেক্ষণ বিজ্ঞানী ও সাধারণ পাঠকদের জন্য আশাব্যঞ্জক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। আপনি কি আগামী মাসে প্রকাশিত নতুন জেমস ওয়েব ছবিগুলোর অপেক্ষা করছেন?



