22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধআবুল কালাম আজাদ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত, এক বছরের স্থগিতাদেশের পর বিচার...

আবুল কালাম আজাদ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত, এক বছরের স্থগিতাদেশের পর বিচার চলবে

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল‑২‑এর সামনে আজ আবুল কালাম আজাদ উপস্থিত হয়েছেন, যাকে ২০১৩ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তিনি ২০১৩ সালের রায়ের পর থেকে আদালতে হাজির হননি এবং বিচারের সময়ও অদৃশ্য ছিলেন। আজকের উপস্থিতি তার আইনজীবীর পরামর্শে এবং সরকারের এক বছরের স্থগিতাদেশের পর সম্ভব হয়েছে।

আবুল কালাম আজাদ, যাকে বাচ্চু রাজার নামে পরিচিত, ফারিদপুরের বাসিন্দা এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় গৃহহত্যা, ধর্ষণ ও দহনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। ট্রাইব্যুনাল‑২‑এর রায়ে তিনি ১৪ জন হিন্দু নাগরিকের প্রাণঘাত, দুইজন নারীর ধর্ষণ, দুইজনের শারীরিক নির্যাতন এবং বহু বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার দায়ে দোষী ঘোষিত হয়েছেন।

১৯৯১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি রাজারা গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং গৃহযুদ্ধের সময় গৃহহত্যা ও ধর্ষণের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন বলে অভিযোগ। তার বিরুদ্ধে সংগৃহীত সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল‑২‑এর বিচারপতি প্যানেল তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন।

রায়ের পরপরই আবুল কালাম আদালতে হাজির হননি এবং তার অবস্থান অজানা রয়ে যায়। বিচারের সময় তার অনুপস্থিতি বিচার প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করে এবং শিকারের পরিবারকে অতিরিক্ত কষ্টের মুখে ফেলে। সরকার তার বিরুদ্ধে গৃহীত রায়ের পরেও তাকে গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হয়।

বছরের পর বছর পর, আজাদ তার পক্ষে দাখিল করা আবেদন অনুসারে সরকার এক বছরের জন্য তার মৃত্যুদণ্ডের কার্যকরীতা স্থগিত করার আদেশ জারি করে। এই স্থগিতাদেশের মাধ্যমে তাকে মৃত্যুদণ্ডের কার্যকরীতা থেকে রক্ষা করা হয় এবং তাকে আদালতে হাজির হওয়ার সুযোগ দেয়া হয়।

আজাদ নিজে জানিয়েছেন যে, মন্ত্রিপরিষদ তার দোষী রায়ের উপর এক বছরের স্থগিতাদেশ জারি করেছে এবং তার আইনজীবীর পরামর্শে তিনি আজ ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়েছেন। তিনি আদালতে তার দোষ স্বীকার না করে, বরং সরকারী সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করার কথা উল্লেখ করেন।

ট্রাইব্যুনালের সেশন চলাকালীন, বিচারকগণ আজাদের উপস্থিতি নথিভুক্ত করেন এবং তার পূর্ববর্তী অনুপস্থিতি ও স্থগিতাদেশের শর্তাবলী পর্যালোচনা করেন। আদালত তার আবেদনপত্রের ভিত্তিতে পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণের কথা জানায়।

আদালতের রায় অনুসারে, আজাদকে এক বছরের স্থগিতাদেশের পর পুনরায় শাস্তি কার্যকর করা হবে, যদি না কোনো আপিল বা নতুন প্রমাণের ভিত্তিতে রায় পরিবর্তিত হয়। এই প্রক্রিয়ায় তার আইনজীবী দল অতিরিক্ত রক্ষা ও আপিলের সম্ভাবনা অনুসন্ধান করবে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল‑২‑এর এই সেশনটি দেশের মানবাধিকার সংস্থা ও শিকারের পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তারা রায়ের ন্যায়বিচার ও সময়মতো কার্যকর হওয়ার দাবি রাখে।

সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, স্থগিতাদেশের সময়কাল শেষ হলে রায়ের কার্যকরীতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনরায় শুরু হবে এবং কোনো অতিরিক্ত দেরি না করা হবে। এছাড়া, আদালতকে সকল প্রয়োজনীয় নথি ও প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে।

আজাদকে ফারিদপুরের তার জন্মস্থান থেকে ট্রাইব্যুনালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং আদালতে প্রবেশের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। তার উপস্থিতি স্থানীয় মিডিয়ার নজরে আসে, তবে কোনো অতিরিক্ত মন্তব্য না করে তিনি সেশন শেষ হওয়া পর্যন্ত বসে থাকেন।

এই ঘটনার পর, ট্রাইব্যুনাল‑২‑এর পরবর্তী শুনানির তারিখ শীঘ্রই নির্ধারিত হবে এবং আদালত তার আপিলের সম্ভাবনা ও নতুন প্রমাণের ভিত্তিতে রায় পুনর্বিবেচনা করতে পারে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তার মৃত্যুদণ্ডের কার্যকরীতা স্থগিত থাকবে।

সামগ্রিকভাবে, আজাদকে এক বছরের স্থগিতাদেশের পর আবার ট্রাইব্যুনালের সামনে উপস্থিত করা হয়েছে, যা দেশের বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শিকারের পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো রায়ের দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত কার্যকরীতা প্রত্যাশা করে চলেছে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments