20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনরব হির্স্ট, মিডনাইট অয়েলের প্রতিষ্ঠাতা ড্রামার, ৭০ বছর বয়সে ক্যান্সার নিয়ে বিদায়...

রব হির্স্ট, মিডনাইট অয়েলের প্রতিষ্ঠাতা ড্রামার, ৭০ বছর বয়সে ক্যান্সার নিয়ে বিদায় নিলেন

মিডনাইট অয়েলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা, গীতিকার ও ড্রামার রব হির্স্ট ২০ জানুয়ারি বুধবার ক্যান্সারের দীর্ঘায়ু যুদ্ধের পর ৭০ বছর বয়সে নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। অস্ট্রেলিয়ার সিডনির ক্যামডনে জন্ম নেওয়া হির্স্ট, ১৯৭০-এর দশকের শুরুর দিকে ব্যান্ডের সূচনা করেন, যখন এটি প্রথমে ‘ফার্ম’ নামে পরিচিত ছিল। তিন বছর ধরে রোগের সঙ্গে লড়াই করার পর, পরিবার ও বন্ধুদের ঘিরে শান্তভাবে মৃত্যুবরণ করার খবর মিডনাইট অয়েলের অফিসিয়াল সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

ব্যান্ডের অফিসিয়াল পোস্টে বলা হয়েছে, হির্স্টের দীর্ঘ রোগযুদ্ধের পর এখন তিনি ব্যথা থেকে মুক্ত, যেন অন্ধকারে এক ক্ষুদ্র আলো জ্বলে। তার শেষ মুহূর্তগুলো প্রিয়জনদের সান্নিধ্যে কাটে, যা পরিবার ও বন্ধুরা শোকের সঙ্গে স্মরণ করবে।

ব্যান্ডের বাকি সদস্য পিটার গ্যারেট, জিম মোগিনি ও মার্টিন রটসি একসাথে প্রকাশ্য বিবৃতিতে শোক প্রকাশ করেন। তারা বলেন, “রব আমাদের ভাই, তার চলে যাওয়া আমাদের হৃদয়কে ভেঙে দিয়েছে। এখন শব্দে প্রকাশ করা কঠিন, তবে তার সুর ও গানের মাধ্যমে তার স্মৃতি বেঁচে থাকবে।”

হির্স্টের সিডনির ক্যামডন এলাকায় বড় হওয়ার পর, তিনি ১৯৭০-এর দশকে পিটার গ্যারেটের সঙ্গে মিলিত হন, যিনি তখন আইন শিক্ষার্থী ছিলেন। গ্যারেটের ভোকাল ও হির্স্টের ড্রামসের সমন্বয়ে ব্যান্ডের নাম পরিবর্তন হয়ে ‘মিডনাইট অয়েল’ হয় এবং ১৯৭৬ সালে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রবেশের প্রস্তুতি নেয়।

ড্রামার হিসেবে হির্স্টের ভূমিকা শুধুমাত্র তাল বজায় রাখা নয়; তিনি ব্যান্ডের শক্তি কেন্দ্র হিসেবে কাজ করতেন। তার ড্রামিং শৈলী শক্তিশালী, তীব্র ও সৃজনশীল, যা অস্ট্রেলিয়ান রক সঙ্গীতের ইতিহাসে এক অনন্য ছাপ রেখে গেছে। বিশেষ করে ১৯৮২ সালের “পাওয়ার অ্যান্ড দ্য প্যাশন” গানের ড্রাম সলোকে সমালোচকরা সর্বকালের অন্যতম স্মরণীয় পারকাশন পারফরম্যান্স হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

মিডনাইট অয়েল গানের কথায় সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়কে কেন্দ্র করে গাইত। কর্পোরেট লোভ, দুর্নীতি, নাগরিক অধিকার ইত্যাদি বিষয়কে তারা সাহসিকতার সঙ্গে তুলে ধরেছে, যা শোনার সময় শ्रोतাদের চিন্তা-ভাবনা উস্কে দেয়। হির্স্টের ড্রামস এই বার্তাগুলোর রিদমিক ভিত্তি সরবরাহ করে, ফলে ব্যান্ডের সুরে শক্তি ও আবেগের মিশ্রণ দেখা যায়।

ব্যান্ডের ১৯৮৭ সালের “বেডস আর বার্নিং” গানের আন্তর্জাতিক সাফল্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই গানটি আদিবাসী ভূমি অধিকারের পক্ষে একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিলবোর্ড হট ১০০ তালিকায় ১৭ নম্বরে পৌঁছায়। এটি মিডনাইট অয়েলের তিনটি বিলবোর্ড হট ১০০ এন্ট্রির একটি, যা ব্যান্ডের বৈশ্বিক প্রভাবকে দৃঢ় করে।

“ডিজেল অ্যান্ড ডাস্ট” অ্যালবামটি বিলবোর্ড ২০০ তালিকায় ২১ নম্বরে অবস্থান করে, আর ১৯৯০ সালের “ব্লু স্কাই মাইনিং” অ্যালবামটি ২০ নম্বরে উঠে আসে। মোট সাতটি অ্যালবাম যুক্তরাষ্ট্রের সব-ধরনের সঙ্গীত তালিকায় স্থান পেয়েছে, যা অস্ট্রেলিয়ান রক ব্যান্ডের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রমাণ।

রব হির্স্টের মৃত্যু মিডনাইট অয়েল ও অস্ট্রেলিয়ান সঙ্গীত জগতে গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে। তার ড্রামিং শৈলী, সৃষ্টিশীলতা ও সামাজিক সচেতনতায় অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঙ্গীতশিল্পীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হবে। বন্ধুরা, পরিবার ও সঙ্গীতপ্রেমীরা তার স্মৃতিকে সুরের মাধ্যমে জীবিত রাখবে, এবং তার অবদান অদম্যভাবে সঙ্গীতের ইতিহাসে সংরক্ষিত থাকবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Hollywood Reporter – Music
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments