২০ জানুয়ারি, ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা সিদ্ধার্থ অ্যানড, আন্তর্জাতিক আধ্যাত্মিক নেতা শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর এবং প্রযোজক মহাবীর জৈন একত্রিত হয়ে ‘হোয়াইট’ নামের নতুন থ্রিলার প্রকল্পের দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা করেন। এই সাক্ষাৎটি দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয় এবং উভয় পক্ষের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
সাক্ষাৎকারের সময় তিনজনই চলচ্চিত্রের মূল থিম ও তার সামাজিক প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে গভীরভাবে কথা বলেন। অ্যানডের সঙ্গে রবিশঙ্করের পূর্বে বেশ কয়েকটি আলাপচারিতা হয়েছে, তবে এইবারের বৈঠকটি বিশেষভাবে চলচ্চিত্রের শান্তি ও অহিংসা বার্তা তুলে ধরার ওপর কেন্দ্রীভূত ছিল।
‘হোয়াইট’ একটি আন্তর্জাতিক থ্রিলার যা ভারতের সিনেমা শিল্পে নতুন মাইলফলক স্থাপন করতে চায়। ছবিটি কলম্বিয়ার ৫২ বছরের দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ এবং তার সমাধানকে ভিত্তি করে তৈরি, যেখানে অহিংসা ও শান্তি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংঘাতের সমাপ্তি ঘটেছে।
এই বাস্তব ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি গল্পটি আন্তর্জাতিক দর্শকদের জন্য একটি শিক্ষামূলক উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপিত হবে। চলচ্চিত্রটি দেখাবে কীভাবে একটি জাতি তার ঐতিহ্যবাহী মূল্যবোধের মাধ্যমে বিশ্ব মঞ্চে শান্তির বার্তা পৌঁছে দিতে পারে।
চিত্রনাট্যটি ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী বিক্রান্ত মাসে এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক অভিনেতাদের সঙ্গে মিশ্রিত হয়েছে। মাসের অভিনয়কে কেন্দ্র করে গল্পের মানবিক দিকটি আরও উজ্জ্বল হবে, আর বহিরাগত চরিত্রগুলো ছবির গ্লোবাল আকর্ষণ বাড়াবে।
‘হোয়াইট’ পরিচালনা করবেন মন্টু বাসি, যিনি পূর্বে বিভিন্ন স্বতন্ত্র প্রকল্পে কাজ করেছেন। তার দৃষ্টিভঙ্গি এবং রবিশঙ্করের আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণ মিলিয়ে ছবির বর্ণনা আরও সমৃদ্ধ হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে আছেন জুয়ান কার্লোস গিল, যিনি ‘নারকোস’ সিরিজের জন্য পরিচিত। গিলের ক্যামেরা কাজের মাধ্যমে কলম্বিয়া ও ভারতের প্রাকৃতিক দৃশ্যগুলোকে চিত্রিত করা হবে, যা দর্শকের জন্য ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা বাড়াবে।
প্রযোজনা দিক থেকে ছবিটি কনশিয়াস স্টুডিওস, পিসক্রাফট পিকচার্স এবং ব্রডভিশনসহ তিনটি প্রধান হাউসের সমন্বয়ে তৈরি হচ্ছে। দক্ষিণ আমেরিকায় ভিত্তিক জাগুয়ার বাইট নামের প্রোডাকশন হাউসও সহ-প্রযোজক হিসেবে যুক্ত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাত্রা বাড়াচ্ছে।
‘হোয়াইট’ ইংরেজি ও স্প্যানিশ উভয় ভাষায় তৈরি হবে, ফলে এটি দুই ভাষাভাষী বাজারে সমানভাবে প্রবেশের সুযোগ পাবে। দ্বিভাষিক প্রকল্পটি গ্লোবাল দর্শকের জন্য সহজে গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করবে।
সিদ্ধার্থ অ্যানড চলচ্চিত্রের গুরুত্বকে ভারতীয় সংস্কৃতির গর্ব হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে বিশ্বে বিভাজনের প্রবণতা বাড়ছে, আর ‘হোয়াইট’ এমন একটি বার্তা বহন করে যা শান্তি ও ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা প্রকাশ করে। তিনি বিশ্বাস করেন, এই চলচ্চিত্রটি শুধুমাত্র এক ব্যক্তির গল্প নয়, বরং ভারতীয় নীতি-নির্দেশের শক্তি ও প্রভাবের প্রমাণ হবে।
গুরুদেব শ্রী শ্রী রবিশঙ্করের সঙ্গে বসে কাজ করার অভিজ্ঞতা অ্যানডের জন্য বিশেষভাবে প্রেরণাদায়ক হয়েছে। রবিশঙ্করের উপস্থিতি ছবির মূল থিম—শান্তির প্রকৃত শক্তি—কে আরও দৃঢ় করে তুলেছে। অ্যানডের মতে, রবিশঙ্করের শান্তি দর্শন ছবির বর্ণনায় গভীরতা যোগ করেছে।
‘হোয়াইট’ চলচ্চিত্রটি কলম্বিয়া ও ভারতের শুটিং শিডিউল সম্পন্ন করার পর শীঘ্রই মুক্তি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক দল, দ্বিভাষিক রূপ এবং শান্তি-ভিত্তিক গল্পের সমন্বয়ে এই প্রকল্পটি ভারতীয় সিনেমার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং গ্লোবাল দর্শকের কাছে দেশের দার্শনিক নেতৃত্বকে তুলে ধরবে।



