দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটার লিজেল লি কোড অব কন্ডাক্টের লঙ্ঘনের জন্য শাস্তি পেয়েছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বোর্ড তার ম্যাচ ফি’র দশ শতাংশ জরিমানা আর এক ডিমেরিট পয়েন্ট আরোপ করেছে।
এই শাস্তি লি-র সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের পরই দেওয়া হয়েছে, যেখানে তার আচরণকে অশোভন বলে বিবেচনা করা হয়েছে। জরিমানার পরিমাণ তার ম্যাচ ফি’র এক দশাংশ, যা তার আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ।
ডিমেরিট পয়েন্ট ব্যবস্থা ক্রিকেটারদের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যবহৃত হয়। এক পয়েন্ট যোগ হলে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত লঙ্ঘন হলে কঠোর শাস্তি, যেমন বড় জরিমানা বা ম্যাচে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা, আরোপিত হতে পারে।
বোর্ডের বিবৃতি অনুযায়ী, কোড অব কন্ডাক্টের লঙ্ঘন কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না এবং সকল খেলোয়াড়কে ন্যায়সঙ্গত ও সম্মানজনক আচরণ বজায় রাখতে হবে। শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য এই ধরনের পদক্ষেপ অপরিহার্য বলে তারা জোর দিয়েছে।
লিজেল লি-র জন্য এই শাস্তি আর্থিক দিক থেকে প্রভাব ফেলবে, কারণ তার ম্যাচ ফি’র একটি অংশ কেটে নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া ডিমেরিট পয়েন্ট তার ভবিষ্যৎ ম্যাচে অংশগ্রহণের শর্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
এটি প্রথমবার নয় যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এমন শাস্তি দেওয়া হয়েছে। একই বোর্ড গত ২১ জানুয়ারি একটি খেলোয়াড়কে অনুরূপ জরিমানা আরোপ করে একই রকম লঙ্ঘনের জন্য দণ্ডিত করেছে।
এর আগে ৩ ডিসেম্বর ২০২৫-এ আরেকজন খেলোয়াড়কে সতর্কবার্তা ও ডিমেরিট পয়েন্ট দিয়ে তাড়া করা হয়েছিল। এই ধারাবাহিকতা বোঝায় যে শৃঙ্খলা রক্ষায় বোর্ডের নীতি কঠোর।
লিজেল লি-র পরবর্তী ম্যাচে অংশগ্রহণের অনুমতি এখনও রয়েছে, তবে ডিমেরিট পয়েন্টের উপস্থিতি তার আচরণে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন করবে। ভবিষ্যতে কোনো অতিরিক্ত লঙ্ঘন হলে শাস্তি বাড়তে পারে।
ডিমেরিট পয়েন্টের সঞ্চয় যদি নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করে, তবে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও কঠোর শাস্তি, যেমন দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞা, আরোপের দিকে নিয়ে যায়। তাই খেলোয়াড়দের জন্য এই পয়েন্টগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া জরুরি।
ক্রিকেট সম্প্রদায়ের মধ্যে এই পদক্ষেপকে ইতিবাচকভাবে স্বাগত জানানো হয়েছে। বেশিরভাগ বিশ্লেষক ও ভক্তরা একমত যে, কোড অব কন্ডাক্টের কঠোর প্রয়োগ খেলাধুলার নৈতিকতা রক্ষায় সহায়ক।
বিশেষ করে নারী ক্রিকেটে শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য মডেল হিসেবে কাজ করে। লি-র শাস্তি এই দৃষ্টিকোণ থেকে একটি শিক্ষামূলক উদাহরণ।
বোর্ডের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, কোনো খেলোয়াড়ই কোডের ব্যতিক্রমী আচরণে অব্যাহতি পাবে না। ভবিষ্যতে এমন কোনো ঘটনা ঘটলে দ্রুত ও সঠিক শাস্তি দেওয়া হবে।
লিজেল লি-র শাস্তি শেষ হওয়ার পর, তিনি তার পরবর্তী ম্যাচে ফিরে আসবেন, যেখানে তার পারফরম্যান্স ও আচরণ উভয়ই নজরে থাকবে। তার পুনরুদ্ধার ও উন্নতি ক্রিকেটের সামগ্রিক মানোন্নয়নে সহায়তা করবে।
আসন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের সূচি ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে, এবং লি-র দল এই শাস্তি সত্ত্বেও প্রতিযোগিতায় দৃঢ় মনোভাব নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে। শৃঙ্খলা বজায় রেখে দলকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নেওয়া হবে।



