গতকাল, ২০ জানুয়ারি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ তারিখ শেষ হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ৩০০টি সংসদীয় আসনের জন্য মোট ২,৫৮২টি মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছিল। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ভোটে জাতীয় গণভোট ও সনদ বাস্তবায়ন একসাথে হবে, যা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে নতুন মোড় দিতে পারে।
বিএনপির অভ্যন্তরে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য; ৭৯টি আসনে মোট ৯২জন বিএনপি প্রার্থী দলীয় শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের অভিযোগে ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, আর জামায়াতের পক্ষ থেকে একজন প্রার্থী তালিকায় রয়েছে। এই প্রার্থীরা দলীয় সিদ্ধান্তের বিপরীতে স্বতন্ত্রভাবে দৌড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
দুইটি আসনের জন্য—পাবনা-১ ও পাবনা-২—নতুন তফসিল প্রকাশের পর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এই বাড়তি সময়সীমা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়েছে।
বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতারা দলীয় নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি এবং কিছুজন শেষ পর্যন্ত ভোটে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এই পরিস্থিতি পার্টির অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও শৃঙ্খলার প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
ধাকার-১২ আসনে, বিএনপি গণতন্ত্র মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হককে প্রার্থী হিসেবে দাখিল করেছে। একই সময়ে, বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়ে থাকা সাইফুল আলম (নীরব) দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কাজের জন্য ৩০ ডিসেম্বর সব পদ থেকে বহিষ্কৃত হয়ে স্বতন্ত্রভাবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের অংশ) আসনে, বিএনপির সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক রুমিন ফারহানা এখনও তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। এই আসনে বিএনপি জুমায়েত উলেমায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব জুনায়েদ আল হাবীবকে সমর্থন জানিয়েছে, যেখানে রুমিন ফারহানা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হওয়ায় বহিষ্কৃত হয়েছেন।
পটুয়াখালী-৩ আসনে, বহিষ্কৃত নেতা হাসান মামুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দৌড়াচ্ছেন। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি। দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় তাকে বহিষ্কৃত করা হয়েছে, আর বিএনপি এই আসনে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে সমর্থন করে নিজে কোনো প্রার্থী দায়ের করেনি।
ঝিনাইদহ-৪ আসনে, স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাইফুল ইসলাম ফিরোজ। তিনি বিএনপির সদস্য এবং জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। যদিও দলীয় সমর্থন না পেলেও তিনি নিজের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
নির্বাচন কমিশন সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যাচাইয়ের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিদ্রোহী প্রার্থীদের উপস্থিতি পার্টির অভ্যন্তরীণ সমন্বয়কে কঠিন করে তুলতে পারে, তবে শেষ পর্যন্ত ভোটারদের পছন্দই ফলাফল নির্ধারণ করবে। ভবিষ্যতে এই প্রার্থীদের পারফরম্যান্স এবং পার্টির শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষমতা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলবে।



