20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষাইন্ডিয়ান দম্পতি ইউ.এস. বিশ্ববিদ্যালয়ে খাবার বৈষম্যের জন্য $২০০,০০০ সমঝোতা পেয়েছেন

ইন্ডিয়ান দম্পতি ইউ.এস. বিশ্ববিদ্যালয়ে খাবার বৈষম্যের জন্য $২০০,০০০ সমঝোতা পেয়েছেন

ইন্ডিয়ান শিক্ষার্থী আদিত্য প্রকাশ ও তার বাগদত্তা উর্মি ভট্টাচার্য্য ২০২৩ সালে কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়, বোল্ডারে একটি খাবার‑সংক্রান্ত ঘটনার পর নাগরিক অধিকার মামলা দায়ের করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় পালাক পনির গরম করার সময় খাবারের গন্ধ নিয়ে কর্মচারীর আপত্তি ও পরবর্তী ক্ষুদ্র‑আক্রমণ তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

মামলায় তারা দাবি করেন যে গরম করার জন্য মাইক্রোওয়েভ ব্যবহার করা নিয়ে কর্মচারীর মন্তব্যের পর থেকে বিভিন্ন ক্ষুদ্র‑আচরণ ও প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের শিকার হয়েছেন। এই ঘটনাকে তারা “খাবার বৈষম্য” বা “ফুড রেসিজম” হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় গোপনীয়তা সংক্রান্ত বিধান অনুসারে নির্দিষ্ট ঘটনার বিশদে মন্তব্য করতে অস্বীকার করে, তবে সকল জাতীয়তা, ধর্ম, সংস্কৃতি ও অন্যান্য সুরক্ষিত শ্রেণীর জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। তারা জানায় যে ২০২৩ সালে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় বিবেচনা করা হয়েছে এবং সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে।

সমঝোতার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয় কোনো দায় স্বীকার করেনি, তবে $২০০,০০০ নগদ অর্থ প্রদান করে বিষয়টি সমাধান করেছে। আদিত্য প্রকাশ উল্লেখ করেন, এই মামলার মূল উদ্দেশ্য অর্থের চেয়ে ন্যায়বিচার ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা। তিনি বলেন, ইন্ডিয়ানদের সংস্কৃতি ও খাবারের প্রতি বৈষম্যকে দমন করা জরুরি।

এই মামলার খবর ভারতের মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং সামাজিক মাধ্যমে বিশাল আলোচনার সূচনা করে। অনেক ইন্ডিয়ান নাগরিক বিদেশে তাদের খাবার নিয়ে অভিজ্ঞতা শেয়ার করে, যেখানে তারা অপ্রয়োজনীয় মন্তব্য বা উপহাসের শিকার হয়েছেন। কিছু মন্তব্যে বলা হয়, খাবার সংক্রান্ত বৈষম্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্র পর্যন্ত বিস্তৃত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা সকল ধরনের বৈষম্য বিরোধী নীতি মেনে চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ভবিষ্যতে এধরনের ঘটনা রোধে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালু করবে। তবে দায় স্বীকার না করার পাশাপাশি, তারা সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে বিষয়টি সমাপ্তি ঘটিয়েছে।

বৈধ অধিকার রক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের সমর্থনকারী সংগঠনগুলোও এই মামলাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছে। তারা যুক্তি দেয়, যদি খাবারের গন্ধের জন্য কোনো শিক্ষার্থীকে বৈষম্যের শিকার হতে হয়, তবে তা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নীতিমালার লঙ্ঘন।

ইন্ডিয়ান সম্প্রদায়ের মধ্যে এই ঘটনাকে নিয়ে আলোচনা বাড়ছে, যেখানে অনেকেই নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা চায়। কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের খাবার ও সাংস্কৃতিক চাহিদা বিবেচনা না করা একটি গ্লোবাল চ্যালেঞ্জ।

বিশ্ববিদ্যালয়টি এখনো এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে কোনো নীতি পরিবর্তন বা নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করেনি, তবে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ক্যাম্পাসের খাবার নীতি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।

এই মামলার মাধ্যমে দেখা যায়, খাবার সংক্রান্ত ক্ষুদ্র‑আচরণও যদি বৈষম্যের রূপ নেয়, তবে তা নাগরিক অধিকার আইনে পরিণত হতে পারে। শিক্ষার্থীদের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা পাঠানো হয়েছে যে, তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয় ও খাবার পছন্দের প্রতি সম্মান অপরিহার্য।

শেষে, বিদেশে পড়াশোনা করা ইন্ডিয়ান শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু ব্যবহারিক পরামর্শ দেওয়া যায়: ক্যাম্পাসের খাবার নীতি আগে থেকে জানুন, নিজের খাবার সংরক্ষণের জন্য উপযুক্ত পাত্র ব্যবহার করুন এবং কোনো বৈষম্যজনক আচরণে শীঘ্রই বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগে অভিযোগ করুন।

এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার পরিবেশে সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতির গুরুত্বকে পুনরায় জোর দেয়, এবং ভবিষ্যতে আরও সমান ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments